আসাদ গেট থেকে কাওরান বাজার দূরত্ব কত হবে? বড়জোর ২-৩ কিলো কিন্তু এই পথটুকু পাড়ি দিতে আপনার কত সময় লাগতে পারে অনুমানও করতে পারবেন না যদি নিজে কোন দিন ৮ নাম্বার বাসে করে এই পথ পাড়ি না দেন।তবে এতটুকু বলা যায় আপনি হেঁটে যাতায়াত করলে মিনিমাম ২ বার আপ ডাউন করতে পারবেন যতটুকু সময় আপনি ১ বার বাসে করে যাবেন। কেন এমন হচ্ছে আমাদের যাতায়াতের বেলায়? আমরাতো বাসে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে রেখেছি, এসি বাসও ঢাকার পথে এখন সহজলভ্য। কারন অনেক তবে মূল কারন হলো আমাদের খোলস পাল্টিছে ঠিক কিন্তু স্বভাব পাল্টায়নি আসলে আমরা এখনো বাসে উঠার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারি নাই।
লোকাল বাসগুলো আসলে পরিবহনের অযোগ্য, তবু আমরা চলি চলতে হয় কারন এছাড়া আর উপায়ও নেই।
বাসে উঠে এখন আর বসার জন্য সিটের চিন্তা করেনা কেউ যদি কোন রকম একটু দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্টি। গরমে নিশ্বাস নেয়া বড় দায় হয়ে যায় আবার অনেকে বাসে বমি করে বাসের পরিবেশকে আরো অস্বস্তিকর করে দেয়। বাদুড় ঝুলা মানুষগুলোর জন্য মায়াদয়াও কারো নেই, মাঝে মাঝে বাসের ড্রাইবার পাগলের মতো বাস চালায় কিছুই বলার থাকেনা আমাদের।
এমন কোন বাস পাবেন না যেখানে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে কোন বাকবিতন্ডা হয়না। কোন নিয়ম নীতি নাই, যে যার মতো করে ভাড়া আদায় করছে। নেই কোন তদারকি, নেই কোন নজরদারি।
অফিসে যাওয়ার সময়ে বা অফিস থেকে ফিরার সময়ে বাসে উঠা যেমন কষ্টকর তেমনি কষ্ট বাস থেকে নামতেও। অনেক মানুষ ডিঙ্গিয়ে বাসের গেটে আসতে হয় কারো পা পাড়িয়ে, কারো শরীর মাড়িয়ে, কটু কথাও শুনতে হয় অনেকের। মেয়েরা পুরুষের সাথে পাল্লা দিযে বাসে উঠতে পারে না তাই বাসের জন্য তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হয়।
বাসে উঠেও শান্তি নেই, একেকটি সিগনালে বসে থাকতে হয় ঘন্টার ও অধিক সময়।গাড়ির চাকা চলেনা কিন্তু সময়তো বসে থাকে না।তাই হাহুতাশ আর বিরক্তি প্রকাশ করে অস্থিরভাবে বাসে বসে থাকতে হয়।
রাস্তাগুলোর বেহাল দশা, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে যায়। মাঝে মাঝে এত বেশী ঝাকুনী দেয় মনে হয় এই বুঝি নাড়িভুড়ি সব বেরিয়ে গেল।সরু পথে যেখানে একটি গাড়ি চালানোই দায় সেখানে চলে একাধিক। তবুও যদি নিয়ম থাকতো শৃঙ্খলা থাকতো ট্রাফিকের নিয়ন্ত্রনে থাকতো গাড়ির গতিপথ তাও রক্ষা হতো। যানজট কিছুটা হলেও কমতো, রক্ষা পেতো অনেক মূল্যবান সময়, অস্বস্থি কিছুটা হলেও লাঘব হতো।
উপদেশ দিতে পারবোনা, পারবো না কোন সুপারিশ করতে। কারন জানি আমাদের উপদেশ কেউ পড়ে দেখবেনা, আদেশ নিষেদ সুপারিশও কেউ মানতে বাধ্য নয় তাই শুধু বলছি আমাদের বাঁচান আমরা যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



