প্রায় ১৫-২০ দিন যাবৎ ফেজবুক বন্ধ আছে। এটা নিয়ে অনেক লেখালেখিও হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অত্যন্ত ভাবাবেগ সমৃদ্ধ একটি লেখা লিখেছেন। যেটি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হয়ে আসছে। তিনি কি লিখেছেন, কেন লিখেছেন বা তার লেখায় যে ক্ষমা প্রার্থীতার বিষয়ে কেন লিখেছেন তা নিয়ে কিছু বলছি না। তবে একজন প্রতিমন্ত্রী কিভাবে একটা ভুল তথ্য দিলেন সেটা নিয়ে একটু লিখতে বসলাম। পরীক্ষার চাপে লেখাটা লিখতে একটু দেরী হওয়ায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘আরেকটি ঘটনা বলি, পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া এক চিত্রগ্রাহক একটি ছবি তুললেন ক্ষুধার্ত এক শিশু এবং তার মুখোমুখি একটি শকুনের। ছবি হিসেবে অসাধারণ। তার সামনে ২টি বিকল্প ছিল- হয় তিনি ছবিটি তুলবেন, নয়তো শিশুটিকে দ্রুত তুলে নিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে যাবেন। তার কাছে প্রথম বিকল্পটি আকর্ষণীয় মনে হলো। তিনি তুললেন অসাধারণ ছবিটি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটি মারা গেল”।
শিশুটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মারা গেল!- এই তথ্যটি উনি কোথায় পেলেন তা কি কারো জানা আছে? আমার স্বল্প জ্ঞানে তা জানা নেই।
আসুন, শকুন ও শিশুটির সেই ছবিটা নিয়ে একটু ইতিহাস ঘাটি:
উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন কেভিন কার্টার। যেটি ২৬ মার্চ ১৯৯৩ সালে ভাইরাল হয়। উইকিপিডিয়াসহ কোথাও লেখা নেই বাচ্চাটা মারা গেছে কিনা? সেই একই ঘটনার ছবি আরো অনেকে তুলেছিলেন। তারাও শিশুটির মৃত্যুর কথা বলেননি। অনেক নিউজ সাইটেই পড়লাম, শিশুটির বাবা-মা কিছু দূরে ফিড সেন্টার থেকে খাবার সংগ্রহ করছিলেন। হয়তো তারা বাচ্চাটিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোথাও বাচ্চাটি সেকেন্ডের মধ্যে কেন কয়েক ঘন্টা পরও মারা যাওয়ার কথা লেখা নেই।
তাহলে প্রতিমন্ত্রী কেন বাচ্চাটিকে মেরে ফেললেন? এটা আমার বোধগম্য নয়। হতে পারে লেখায় আবেগ বৃদ্ধি করতেই তিনি এমনটি করেছেন।
যাক ভাই, বড় মানুষের কথা বলেই কথা। আমার মত ক্ষুদ্রজনের বিজ্ঞজনের ভুল ধরা বেয়াদবীরই শামিল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




