somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্যারিস থেকে আমি
স্বপ্ন দেখি সত্য ও সুন্দরের।আহত হই সত্যের পরাজয়ে।মনের মাঝে কতশত এলোমেলো ভাবনা এসে জড়ো হয়।ভাবনা গুলো চাই সকলের সাথে শেয়ার করতে,কিন্তু সীমাহীন অযোগ্যতায় আর লিখা হয়না।ভাবনা গুলো গুমড়ে মরে সমাধিত হয় নীরবে।

রছুমাত : গরিবের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রছুমাত, যার খাটি বাংলা হচ্ছে প্রথা।বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন কিছু রছুমাত বা প্রথা সেই আদিকাল থেকে চলে আসছে।সময়ের পরিবর্তনে এই রছুমাতে যোগ হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা।যদিও এসকল রছুমাত পালনে শরিয়তের কোন বাধ্যবাদকতা নেই। বরং কিছু রছুমাতকে হিন্দু সংস্কৃতির অংশ বলা হয়।আমি আজ কিছু রছুমাত নিয়ে লিখবো, জানিনা এই রছুমাত গুলো বাংলাদেশের সকল এলাকায় আছে কি না? তবে বেশিরভাগ এলাকায় আছে এটাতে আমি শিওর।তাছাড়া আমাদের বৃহত্তর সিলেটেতো এ সকল রছুমাতের মহামারি আকার ধারন করেছে।

বিয়ে শাদির রছুমাত

বিয়ে শাদির পুরো প্রসংগটা আমি এখানে নিয়ে আসলাম না।কে কিভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করতেছেন, শরিয়ত কতটুকু এলাও করতেছে এসকল বিষয় আমার লিখার অংশ না। আমি বিয়ের পরবর্তি কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই। তাহলো, দেখা যায় বিয়ে ও ওয়ালিমার পর ২/১ দিনের মধ্যে ফিরা খাওয়া বা ফিরা যাত্রা নাম দিয়ে বরের বাড়ি থেকে নতুন বউ সহ কনের বাড়িতে নুন্যতম ১০ জনের একটা বহর নিয়ে কনের বাড়িতে যাওয়া হয়। আগে সকলে মিলে কনের বাড়িতে ২/১ দিন থাকা হত, এখন আর থাকা হয়না,সকালে এসে বিকালে চলে যায় বর পক্ষ। এই যাওয়ার সময়ে বর পক্ষের সবাইকে কাপড় গিফট দিতে হয় কনে পক্ষের। শুধু এখানেই শেষ নয়, বরের পরিবারের অনেককেই কনে পক্ষ থেকে কাপড় গিফট দিতে হয় বিভিন্ন অকেশনে।

একটু চিন্তা করে দেখুন, পয়সাওয়ালা বড় লোকদের জন্য এটা কোনো বিষয়ই না। কিন্তু যে বাবা তার মেয়েকে বা যে ভাই তার বোনকে অনেকের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে বিয়ে দিলো, যার এখনো মুদির দোকানে বিয়ের খরছের দেনা রয়েছে তার পক্ষে এটা কিভাবে সম্ভব হবে।

আম-কাঠালি

আম-কাঠালি। অনেকে আবার আম্বকষি বলে থাকেন।বাংলাদেশে সময়টা এখনি যাচ্ছে।কনের বাড়ি থেকে ঠেলা গাড়ি, ভ্যান গাড়ি বা ছোট ট্রাক ভর্তি করে যতধরনের ফলমুল আছে সাথে মিষ্টি যাতীয় অন্যান্ন খাবার সহ বরের বাড়িতে পাঠানো। এক সময় হয়তো ছিলো যে, কনের বাড়িতে কিছু ফলমুলের গাছ আছে, ঐ গাছে কিছু ফলমুল ধরেছে তা থেকে মেয়ের বাবা বা ভাই তাদের মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছে।কিন্তু আজ এমন অবস্তা হয়েছে যে আপনার বাড়িতে থাকুক বা না থাকুক আপনি বাজার থেকে কিনে হলেও এই সময়ে আপনার মেয়ের বাড়িতে পাঠাতে হবে।তাও কম পাঠালে হবেনা। এমন পরিমান দিতে হবে যে আপনার পাঠানো ফলমুল থেকে বরের গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে যাতে দেয়া যায়।

একটু ভেবে দেখুন, আপনার হয়তো প্রচুর টাকা পয়সা আছে তাই আপনি গাড়ি ভর্তি করে আম-কাঠাল পাঠিয়ে দিলেন । কিন্তু যে গরিব দিন আনে দিন খায়,সামান্য পেটে ব্যাথা হলে যে ২ টাকার প্যারাসিটামল কিনে খেতে পারেনা সে কিভাবে বাজার থেকে কিনে আম-কাঠাল পাঠাবে। এমনও দেখেছি, একজন লোক তার ঘরে খাবার নেই কিন্তু সে তার বোনের বাড়িতে আম-কাটালি দেয়ার জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ঋন করছে।

ইফতারি

রামাদ্বান মাস।এমাসেই আমরা একে অপরকে ইফতারি করিয়ে থাকি।ইফতারি করানো এটা অবশ্যই একটা ভালো কাজ। রাসুল (সঃ) অন্যকে ইফতারি করানোর জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।তিনি বলেছেন, যখন কোনো ব্যাক্তি একজন রোজাদারকে ইফতারি করালো তখন ঐ ব্যাক্তি রোজাদারের সমপরিমান ছওয়াব পাবে। কিন্ত এই ইফতারিকে আমরা একটা আনুষ্টানিকতায় পরিনত করেছি।প্রতি রামাদ্বানে কনের পিত্রালয় থেকে বরের পিত্রালয়ে ঘটা করে ইফতারি দিতে হবে । এটাকে আমরা যেন ফরজে আইন করে ফেলেছি।ধনি-দরীদ্র সবাইকে এটা করতে দেখা যায়।

একটু ভাবুন। যে মানুষটি এই রামাদ্বানে সারা দিন রোজা রাখবে এজন্য সেহরিতে পেট ভরে খেতে পারেনি, ইফতারিতে কি দিয়ে রোজা ভাংবে তার কোন ব্যবস্তা নাই ,কিন্তু তাকেও তার মেয়ে বা বোনের বাড়িতে ইফতারি পাঠাতে হবে।

কি অবস্তায় আছি আমরা। কিভাবে আমাদের সমাজ ব্যবস্তা গড়ে তুলা হচ্ছে। সমাজের এই প্রথা বা রছুমাত গরিবের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা নয় কি?

যদি কোন পরিবার অর্থাভাবে এই কর্ম গুলো থেকে বিরত থাকে তাহলে তাদের মেয়ে বা বোন কে তার স্বামীর বাড়িতে কথা শুনতে হয়। এমন কি অনেক যায়গায় ঐ মেয়েকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতন বা কথা শুনা থেকে বাঁচাতেই মানুষ যত কষ্টই হোক এই রছুমাতগুলো যথাযত ভাবে পালন করে থাকে।

আরোও অনেক রছুমাত আছে যা আমরা পালন করে থাকি।

এর থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় নাই? আশা করি আপনারা বাঁচার উপায় গুলো বলবেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×