somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১ এর শকুনেরা রক্তের নেশায় জোট বেঁধেছিল।

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭১ এ মহান মুক্তি যুদ্ধে পাকসেনার পাশাপাশি প্রবল পতিপক্ষ হিসাবে একাধিক সংগঠন আবির্ভূত হয়েছিলো। শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনি এদের মধ্যে অন্যতম।
শান্তি কমিটিঃ-১৫ ই এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শান্তি কমিটি নামে সদ্য পরিচিত একটি সংগঠনের নাম বদল করে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি রাখা হয়। পাক সেনাবাহিনী তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নৈতিক ও সামাজিক সমর্থন পেতে বাঙালীদের সমর্থনের প্রযোজনীয়তা অনুভব করে। মূলত তাদের ইন্ধনেই শুরু হয় শান্তি কমিটি নামের সংগঠনটির পথচলা। প্রথমিক ভাবে ৩৪ সদস্যের শান্তি কমিটি হলেও পরে সব জেলায় এর শাখা কমিটি গঠন করা হয়। সৈয়দ খাজা খায়রুদ্দিন, একিউ এম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আযম, প্রমুখ ব্যাক্তি বর্গ শান্তি কমিটির প্রথম সারির নেতা ছিলেন।
আলবদরঃ- ১৯৭১ সালের ২২ শে এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মোহাম্মাদ আশরাফ হোসাইন এর নেতৃত্বে জামালপুর শহরে আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। পূর্বাঞ্চালীয় পাকিস্তান সেনাবাহীনির প্রধান জেনারেল নিয়াজীর পৃষ্ঠ পোষকতায় মে মাসে রাজারকার বাহিনী গঠনের আগেই আলবদর বাহিনী গঠিত হয়েছিলোএ রাজাকার বাহীনি সরাসরী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। আল বদর বাহিনী সৃষ্ঠকরা হয়েছিলো রাজনৈতিক চেতনা তৈরীর লক্ষে। পরবর্তিতে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক গনহত্যার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এদের মূল কাজ হয়ে দাড়িয়ে ছিলো। ১৯ সদস্যের বিশিষ্ট আলবদর বাহিনীর কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন মতিউর রহামন নিজামী এবং অন্যতম নেতা ছিলেন আলী আহসান মোঃ মোজাহিদ, মীর কাশেম আলী, মোহাম্মাদ ইউনুছ প্রমুখ।
রাজাকার বাহিনীঃ ১৯৭১ সালের মে মাসে খুলনায় প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠিত হয। খানজাহান আলী রোড সংলগ্ন আনসার ক্যম্পে ৯৬ জন জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর সমন্বয়ে জামায়াতে ইসরামী পূর্ব পাকিস্তান শাখার সহকারী আমীর মাওলানা একে এম ইসুফ প্রথমে রেজাকার বাহিনী গঠন করেন। পরবর্তিতে শব্দটির পরিবর্তন পূর্বক রাজাকার রুপ নেয়।
৭ জন পরিচালক মন্ডলী নিয়ে কেন্দ্রীয় রাজাকার হাই কমান্ড গঠন করা হয়েছিলো। পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন এ.এস এম জহুরুল হক, উপ-পরিচালক যথাক্রমে মফিজউদ্দিন ভুইয়া, এম আই মৃধা ও এম এ হাসনাত, ঢাকা-শহর এ্যডজুট্যান্ট ফরিদ আহামদ কমান্ডার ইন চিফ, মোহাম্মাদ ইউনুছ ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির এর দায়িত্বে ছিলেন মীর কাশেম আলী। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্থান সেনা বাহিনী কর্তৃক গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী রাজাকার। অখন্ড পাকিস্থানপন্থী বাঙালী এবং উর্দূভাসী আধাবাঙালী অভিবাসীদের নিয়ে এই সশস্ত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ কালে তদানীমত্মন হায়দারবাদ ভারতভুক্ত করতে অনিচ্ছুক থাকায় ভারতের সামরিক বাহিনীকে প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য রাজাকার নামে একটি স্বেচ্ছসেবক বাহিনী গঠন করেন হায়দারাবাদের শাসক নিজাম। হায়দারাবাদের রাজাকার এর অনুকরনে মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। পরবর্তিতে দেশের অন্যান্য অংশেও রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলা হয়। প্রথম পর্যায়ে এ বাহিনী ছিলো এলাকার শামিত্ম কমিটির নেতৃত্বাধীন। ১৯৭১ সালে পহেলা জুন জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অডিন্যান্স ১৯৭১ জারি করে আনসার বাহিনীকে রাজাকার বাহিনীতে রুপান্তরিত করেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় ৭ সেপ্টেম্বার জারিকৃত এক অধ্যাদেশ বলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরুপে স্বকৃতিদেন।
আল শামসঃ ১৯৭১ সালের আগষ্টের আগে আল শামসের জোরালো তৎপতা ছিলো না বলে জানা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালে পাকিস্থান সাময়িক বাহিনীর মদদে নিজামী ইসলামীর তত্বাবধানে গঠিত হয় আল শামস। মূলত মুক্তি বাহিনীকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে আল শামস গঠন করা হয় বলে তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়।
সূত্রঃ ৭১ এর যুদ্ধ অপরাধীরা কে কোথায়, উইকিপিডিয়া, জাতীয় গনতদমত্ম কমিশনারের রিপোর্ট, ৭১ যুদ্ধ অপরাধ এবং যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার গ্রন্থ।



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×