somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃত্তের ভেতর-বাহির

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা না নাম্বারটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সবুজ। কেন জানি নাম্বারটা বেশ চেনা চেনা লাগে তার কাছে। কিন্তু আসলে তা নয়।
-‘হ্যালো’ ফোনটা রিসিভ করে কণ্ঠটাকে বেশ মোলায়েম করে বলে সবুজ।
-‘হ্যা-হ্যালো! আ-আপনি কি মি. সবুজ বলছেন? আমি... নীল।’
‘জ্বী আপনাকে ঠিক চিনতে পারলম না।’
‘আসলে আমাকে আপনারে চিনবারও কথা নয়। বলতে পারেন আপনার অসংখ্য ভক্তদের মাঝে আমিও একজন। অনেকদিন ধরেই আপনার সাথে কথা বলবো বলবো বলে ভাবছিলাম। এখুনি একজনের কাছ থেকে নাম্বারটা পেয়ে সাথে সাথেই কল দিলাম...’।
নীলের কথাগুলো শুনে কেন জানি বেশ ইমোশনাল হয়ে পড়ে সবুজ। বুঝতে পারে না সে, মেয়েটার কন্ঠের ভেতরে কি এমন জাদু মিশে আছে! আবার নীলের কথাগুলো ভেবে বেশ অবাকই হয় সে। এ যেন এক জাত ভক্ত পাঠিকা। সেই কবেকার কোন লেখাও তার ঠিক ঠিক মনে আছে। ব্যাপারটা সবুজের কাছে অন্য রকম মনে হয়।
২. ‘হ্যালো... গুড ইভনিং! কেমন আছেন?’
‘জ্বী ভালো, তারপরে কি খবর আপনার?’
‘আসলে আপনাকে একটা কথা বলতেই ফোনটা দিয়েছি। আপনি রাখবেন কিনা জানি না, তারপরেও বলছি, আমি আপনার একজন বন্ধু হতে চাই! কী রাজি?’[
কিছুক্ষণ নীরব থাকে সঝুজ। তারপরে জবাব দেয়। এরপর থেকে ওদের বন্ধুত্বে মাত্রাটা আরো বহুগুন প্রসারিত হয়। সম্বোধনটা আপনি থেকে তুমিতে চলে আসে। ফোনালাপটাও বেড়ে যায় অনেক। নীলের হাজারো প্রশ্নে ভরা ভাণ্ডারটা যেন ফুরোতেই চায় না।
৩. ‘হ্যালো. আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। আজ বিকেলেই। ধানমন্ডি লেকে। কি আসবে তো?’
নীলের এ আবদারটিও ফেরাতে পারে না সবুজ। সেদিনের পর থেকে দু’জনে পার্কে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে। বাদাম খায়। ফুসকা খায়। এভাবে কিছুদিন যাবার পরে নীল সবুজকে এক অবাক করা কথা বলে- ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ কথাটি শুনে সবুজ একটু থমকে যায়। পরে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে এড়িয়ে যায়। কিন্তু নীলকে একান্ত নিজের করে পাবার মোহে সে হার মানে...।
৪. নীলকে সবুজের ভালোলাগার কথাটি বলার কিছুদিন পর থেকেই কেমন জানি বদলে যায় নীল। আগের মতোন আর উচ্ছাসতা নেই তার মাঝে। সে এখন আর কোনো লেখার প্রশংসাও করে না। দেয় না কোনো ভাল লেখার উৎসাহও। কোন পত্রিকায় সবুজের নতুন কোন লেখা ছেপেছে তাও স্পষ্ট করে বলতে পারে না সে...। নীলের এমন উদাসীনতায় অবাক হয় সবুজ। একদিন নীল ফোন দেয়-
‘আপনি আর আমাকে কোনো দিন ফোন দেবেন না!’
‘জ্বী, মানে...’
‘মানেটা খুব সহজ! এতোদিন আমি আপনার সাথে অভিনয় করেছি!’
‘অভিনয়...? কিস্তু কেন...?’
‘ঠিক অভিনয়ও না। আসলে আমার মনে একটা ধারণা ছিল- লেখকরা মানুষ না’কি অন্য কিছু!! তাদের মাঝে আলাদা এমন কি আছে? ব্যাপারগুলো জানার লক্ষ্যেই আমি আপনার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করি। কিন্তু আমি এখন বুঝতে পেরেছি যে, লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকেও কম বুদ্ধিমান হন। তারা ..., আনস্মার্ট... বোকাও বটে। কারো সম্পর্কে ভালোকরে না জেনেই তাকে ভালোবাসতে পারে। আমি আশা করবো আপনি আর কখনো আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না। আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট!!’
লাইনটা কেটে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু এতক্ষণেও সবুজের কানের কাছে ফোনটা আগের অবস্থাতেই আছে।
৫. কিছুদিন পরে নীলের মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। তাতে লেখা-
‘লেখকরাও মানুষ। তবে তাদের মন থাকে দু’টো। একটা গতানুগতিক, আরেকটা ¯^প্নচারী। তারা সুগন্ধী গোলাপকে ছুঁড়েও ফেলে দিতে পারে, আবার কর্দমাক্ত প্রবালকে নিজের বুক পকেটে পরম যতেœ রেখে দিতে পারে। নিজের সামনে থাকা জিনিসটিকে হয়তো বা সে ছুঁতে পারে না, কিন্তু চাঁদের স্নিগ্ধতা তাকে সর্বদাই ঘিরে রাখে। সে একমনে হাসে, আরেক মনে কাঁদে। একমনে ভালোবাসে, আরেক মনে ভালোবাসায়। লেখকরা বাস্তব জীবনে অতোটা স্মার্ট হয় না যতটা তার গল্পের বইয়ের নায়করা হয়ে থাকে। দুঃসাহসী অভিযানকেও তার নায়করা হার মানাতে পারে কিন্তু বাস্তব জীবনে সে বার বারও পরাজিত হতে পারে। লেখকরাও কারো প্রেমে পড়তে পারে, হৃদয় উজার করে তাকে ভালোও বাসতে পারে। তবে সেই ভালোবাসা বোঝার মত মনটা অপরের আছে কিনা তা তারা কখনো ভেবে দেখে না...।’
কথাগুলোয় নীলের ঘোর কেটে যায়। সবুজের নাম্বার থেকে মেসেজটা এসেছে। সাথে সাথেই সে সবুজের নাম্বারে কল করে। কিন্তু তাতে কেবলই অন্য একটি পরিচিত কণ্ঠ¯^র ভেসে আসে। যতবারই সে চেষ্টা করেছে তত বারই সে কেবল শুনতে পেয়েছে, ‘দুঃখিত, এই মুহূর্তে আপনার কাক্সিক্ষত নাম্বারটিতে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না...।’
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×