somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইফুল্লাহ আবিদ
ইসলামী আন্দোলন করলেই যদি রাজাকার হতে হ তাহলে আমি রাজাকারই হতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থই যদি হয় আওয়ামী লীগের গোলামী করা তাহলে লাথি মারি সে চেতনাকে। সংবিধানের আইন যদি হ কুরআন বিরোধী তাহলে চুলায় যাক সে সংবিধান।

মার্জিত আচারন

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( হে নবী!) এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহ যে, তোমার ব্যবহার তাদের প্রতি বড়ই কোমল৷ নয়তো যদি তুমি রুক্ষ স্বভাবের বা কঠোর চিত্ত হতে, তাহলে তারা সবাই তোমার চার পাশ থেকে সরে যেতো ৷ তাদের ক্রটি ক্ষমা করে দাও৷ তাদের জন্য মাগফিরাতে দোয়া করো এবং দীনের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শে তাদেরকে অন্তরভুক্ত করো৷ তারপর যখন কোন মতের ভিত্তিতে তোমরা স্থির সংকল্প হবে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো৷ আল্লাহ তাদেরকে পছন্দ করেন যারা তাঁর ওপর ভরসা করে কাজ করে৷ (সূরা আল ইমরান ১৫৯)
.

এ আয়াতটি থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় কোমল ও নম্র ব্যবহারের গুরুত্ব। এ আয়াতটি থেকে এ কথাও বুঝা যায় যে লোকদের সাথে কোমল ব্যবহার করার ক্ষমতা যার আছে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষন করেছেন। এ রহমত সাধারন কোন রহমত নয়; এ রহমত সেই দুর্লভ রহমত যা আল্লাহ নাযিল করেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (স) এর উপর।
আসলে এ রহমত অর্জন করার সৌভাহ্য সবার হয় না। কারন আল্লাহই ঘোষনা দিয়েছেন যে,
“আল্লাহ যাকে চান নিজের রহমত দানের জন্য বাছাই করে নেন।”
মানুষের আচার আচারনের সবচেয়ে বড় দিক হল তার মুখের কথা। সামাজিক বন্ধন রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে আমাদের এ মুখের কথা। মুখের কথার গুরুত্ব তাই লিখে শেষ করা যাবে না। কথার গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আলাহ বলেন,
“একটি মিষ্টি কথা এবং কোন অপ্রিতিকর ব্যপারে সামান্য উদারতা ও ক্ষমা প্রদর্শন এমনই দানের চেয়ে ভাল যার পেছনে রয়েছে দুঃখ ও মর্মজ্বালা।”
এ আয়াতটি আমাদের আচারনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দিক তথা মুখের কথার দিকে ইঙ্গিত করে।
হাত বা অস্ত্র দ্বারা কাউকে আঘাত করলে সে আঘাত লাগে শরীরে। কখনও হয়ত ঘটে রক্তপাত। তারপর এক সময় শুকিয়ে যায় সেই ক্ষত। কিন্তু কথার আঘাতটি লাগে সরাসরি হৃদয়ে যার ক্ষত কখনই শুকানোর নয়। তাইতো হযরত আলী (রা) বলেছিলেন, “মুখের কথার মাধ্যমেও এমন আঘাত করা যায় যে আঘাত তরবারির আঘাতের চেয়েও ভয়ঙ্কর।”
জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চাইলে আমাদের স্বভাবের মাঝে বিদ্যমান কঠোর দিকগুলো যতটা সম্ভব পর্দার আড়ালে রাখতে হবে। আর চারদিকে বিছিয়ে দিতে হবে কোমল স্বভাবের চাদর। আমার দৃষ্টিতে নম্র ব্যবহার ও সুমিষ্ট কথা বলার যোগ্যতার পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ন গুন কাজ করে।
১ ধৈর্যঃ মানুষের জীবনে ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ধৈর্য একজন মানুষকে সম্মানের অতি উচ্চ শিখরে আরোহন করিয়ে দিতে পারে। ধৈর্যের ব্যপারে আমি শুধু একটি আয়াতের ছোট একটি অংশ উল্লেখ করব। এ কথাটি আল্লাহ কুরআনের বেশ কয়েক স্থানে বর্ননা করেছেন।
“আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”
আসুন আল্লাহর এ কথাটি সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করি। এখানে আল্লাহ বলেছেন যে যারা ধৈর্যধারন করে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন। আর একজন নিম্ন স্তরের ঈমানদারও একথা জানে যে আল্লাহ যার সাথে আছেন তার কোন কিছু নিয়েই চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। একটু চিন্তা করে দেখুন কত বড় সম্মান দিয়েছেন আল্লাহ ধৈর্যশীলদের।
ক্রোধ দমন এবং অন্যের দোষ ক্ষমাঃ মানব চরিত্রের আরও একটি সুন্দর দিক নিজের ক্রোধকে দমন করার ক্ষমতা। এ ব্যপারে আমি কুরয়ানের কয়েকটি আয়াত বর্ননা করতে চাই।

দৌড়ে চলো তোমাদের রবের ক্ষমার পথে এবং সেই পথে যা পৃথিবী ও আকাশের সমান প্রশস্ত জান্নাতের দিকে চলে গেছে, যা এমন সব আল্লাহভীরু লোকদের জন্য তৈরী করা হয়েছে যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল সব অবস্থায়ই অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে ও অন্যের দোষ –ক্রটি মাফ করে দেয়৷ এ ধরনের সৎলোকদের আল্লাহ অত্যন্ত ভালোবাসেন৷ (সূরা আল ইমরান ১৩৩-১৩৪)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম আচারনের গুরুত্ব অনুধাবন করার তৌফিক দিন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×