আধুনিক বিজ্ঞান আজ জৈবিক বর্ণবাদী (বায়োলজিকাল রেসিজম) শ্বেতাঙ্গ উৎকর্ষকে পাত্তা দেয় না, বরং অনুতপ্ত। বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, জৈবিকভাবে আমরা সবাই এক মূল মানবগোষ্ঠীর বংশধর। আমাদের পূর্ব পুরুষদের উদ্ভব আফ্রিকায় এবং তা মানবগোষ্ঠীর একটি অংশ ইউরোপে এসে ঠাঁই নেয়। সূর্যরশ্মির স্বল্পতার কারণে প্রায় কুড়ি হাজার বছরের ব্যবধানে কালো মানুষগুলো ইউরোপের শীতল আবহাওয়ায় বংশ পরম্পরায় ফ্যাকাশে হতে হতে বর্তমানের শ্বেতাঙ্গ বর্ণ ধারণ করেছে। কারণ এ রঙ ফিকে হওয়ার প্রক্রিয়াটি জৈবিক অভিযোজনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিল।
অথচ জিনগত দিক থেকে, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গের মধ্যকার বর্ণভেদের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা ইতিহাসের অনিবার্য প্রভাবে সমাজের ঐতিহ্যগত প্রথাগুলো এখনো বর্ণবাদের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে আছে। প্রশ্ন হতে পারে বিজ্ঞান অনুতপ্ত হলেও ইতিহাস এখনো কেন অনুশোচনাহীন?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ঔপনিবেশিকতা যুগের অবসানের সূচনা হতে থাকে এবং ঔপনিবেশিক মানুষরা ইতিহাসে পুন প্রবেশ করতে থাকে। এটা ইউরোপ কেন্দ্রিক ইতিহাস রচনা ও মূল্যবোধের প্রতি একটা প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ। তবে সদ্য স্বাধীন অনেক দেশের ইতিহাস থেকে ইউরোপিয়ান আবর্জনা অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও ভারতীয় উপমহাদেশে প্রক্রিয়াটি এখনো তেমন জোরালোভাবে শুরু হয়নি। সুচতুর পশ্চিমা পন্ডিতরা বিপদ টের পেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ‘ইউরোপই সেরা’ ধারণা দিয়ে ইতিহাস রচনায় মনোযোগ দেয় - যাকে এখন পশ্চিমা সাংস্কৃতিক বর্ণবাদের একটি সক্রিয় উপাদান বলা হচ্ছে। অথচ এ সাংস্কৃতিক বর্ণবাদের ভিত্তিহীনতা বৈজ্ঞানিকভাবে অসাড় প্রমাণিত হবার পরও পশ্চিমা ইতিহাস বলতে গেলে আগের মতোই নির্লজ্জ রয়ে গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে উদারপন্থী কিছু পশ্চিমা ইতিহাসবিদের রচনায় জৈবিক বর্ণবাদ দৃশ্যত না থাকলেও বর্ণবাদী চেতনাটি ঠিকই সক্রিয় রয়ে গেছে তাদের মজ্জাগত সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতায়। আমার ধারণা, এ বিষয়টা বেশি উপলব্ধি করতে পারেন ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। (চলবে)
ইতিহাসের চিরন্তন পশ্চিম ও নতলিঙ্গ আমরা-২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে
এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লবের শরিকরা
যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড় আমি ভালোবাসি
পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................

চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।
পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।
ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।