আমরা মানুষেরা যখন মানবিকাতা, ভালোবাসা,শ্রদ্ধা নিয়ে কথা বলে মুখে ফেনা উঠায়। সেই আমরাই আবার পাবলিক বাসে উঠে অকথ্য অশ্রব্য ভাষায় বুলি আওড়ায়। এমন সকল মানুষদের জন্য আমার লেখা "আবার তোরা মানুষ হ " ।
ঘটনাঃ রাত ১১টা ৩০মিনিট
মিরপুর-১০ নম্বার বাসস্ট্যান্ড।

আয়াত পরিবহনের একটি গাড়িতে বাসার উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেছিলাম শাহবাগ থেকে রাত আনুমানিক ১০ টা ৪৫ মি এর দিকে। পরিবহণ সিটিং হলেও তাদের চিটিং ব্যবসাও চলছিলো। যাত্রিতে ঠাঁসা গাড়ি। গড়িটি মিরপুর-১০ নম্বার আসার পর গাড়ির হেল্পপার(বয়স-১৪/১৫) জানালো সবাইকে নামতে হবে গাড়ি মিরপুর-১৪ নাম্বার যাবে, যদিও গাড়ি ছিল মিরপুর-১২ নাম্বারের। যাত্রি প্রায় নেমে গেলে রয়ে গেলাম আমরা কয়েকজন। এর মধ্যে একজন মাঝ বয়সী মহিলা সাথে তার ১০ বছরের কন্যা, দুজন ২৫/৩০ বছরের ছেলে, একজন ৫০/৫৫ প্রায় দাঁড়ি পাকা বসস্ক ভদ্র লোক, আর আমি।
ঘটনার শুরু বসস্ক লোকটির ৫ টাকা ভাড়া ফেরত কে কেন্দ্র করে। ছোট হেল্পপার টাকা ফেরত দিতে নারাজ, তবে নাছোড় বান্দা ভদ্র লোকটি অনেক কথা কাটাকাটির পর টাকা ফেরত পেলে, তবে সাথে সাথে ছোট চালকের সহকারিকে একটা লাথি উপহার দিল। পাশে দাঁড়িয়ে অনেকটা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। ছেলেটি প্রায় চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে যাবার উপক্রম। এমন সময় ছেলেটি নিজেকে সামলে ভদ্র লোকটিকে সজরে ধাক্কা দিতে উদ্যত হওয়ায়, ভদ্র লোকটি কিন্তু থেমে যায় নি, বড় বড় আংটি যুক্ত হাতের ঘুষিতে ততক্ষণে ছেলেটির মুখে রক্তের ফোটা এনে দিয়েছে। শুরু হল কুস্তি তবে বরাবরের মত ছেলেটি মার খেল, তখন এই মিথ্যা কথার শহরের অন্য দশ জনের মত নিরব দর্শক আমি।
এখানেই শেষ হতে পারত। তবে তা হয়নি, ডেকে আনে আরো করুণ এবং ভয়ংকার ঘটনার।
রাতের রাস্তার কিছু সুবিধাভোগী মানুষের আবির্ভাব হল সাথে সাথে। তাদের একটাই কথা, ছোট হয়ে কেন বসস্ক ভদ্র লোকটির গায়ে হাত তোলা হল? তবে বিস্তারিত জানবার প্রয়োজন তাদের ছিল না। শুরু হল নির্যাতন, ছেলেটিকে এমন ভাবে কয়েকজনে প্রহর করতে শুরু করেছে যে, সে হয় কোন খুন কিংবা ধর্ষণ করেছে। মারতে মারতে নামানো হল নিচে, তখনো বাস ফুটওভার ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে। দুজন পুলিশের হয়তো মায়া হল তাই এসে থামাতে গেল সুবিধাভোগীদের তবে উলটো পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হল।
আমি দেখে চলেছি.।.।.।।
এবার একজন উৎসুক জনতা এসে ছেলেটিকে মাফ চাইতে বলায়, ছেলেটি বসস্ক ভদ্র লোকটির পায়ে হাত দেবার সাথে সাথে ঘটে গেল নির্মম আরেকটি দৃশ্য। সেই ভদ্র বসস্ক লোক ছেলেটির মাথা-ঘাড় ধরে পিঠের উপরে চালালো নির্মম নির্যাতন। দেখে মনে হল কোন পশুকে মারছে, তবে পশুকে হয়তো এমন কেউ মারে না। এখন আর তারে ভদ্র বসস্ক লোক বলা যাবে না, বরং মুখোশ ধারি শয়তান বললে ভুল হয় না। (এতমধ্যে চালকে নামানো হয়েছে এবং নির্যাতন অব্যহত)
এর পরও দফায় দফায় গাড়ির সাথে ছেলেটির মাথা সজোরে আঘাত করতে থাকে মানুষ রুপি পশুর দল।
সহ্য না করতে পেরে যখন বাসার পথে পা বাড়িয়ে ততক্ষণে ১১টা ৫০ বেজেছে। তবু নির্যাতরের মাত্রার কমতি হয়নি, বরং বেড়েছে, দূর থেকে আত্মচিৎকার কানে ভেসে আসছিল তখনো।
সত্যি ধিক্কার দিয়ে বলতে চাই তাদের জন্য আবার তোরা মানুষ হ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৮ রাত ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



