somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ সজল রহমান
মানুষ হতে চাই মানবিক গুণ আর আমার মাঝে সেই গুণ কতটা আছে তা আপনি ভাল বলতে পারবেন। তবে ভাল হবার চেষ্টায়

ভয়ংকর সুন্দর সুন্দরবন-হিরণ পয়েন্ট

১১ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ভয়ংকর সুন্দর সুন্দরবন-হিরণ পয়েন্ট

- মোহাম্মদ সজল রহমান

শব্দ ও কারিগরি সহযোগিতায় : নাহিদ হাসান

যাত্রা শুরু করলাম ইউনেক্সো ঘোষিত অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য হিরন পয়েন্ট সুন্দরবনের উদ্যেশে। এই মুহুর্তে আমাদের জাহাজ ছুটে চলেছে দুবলার চরকে বামে রেখে নীল কমল নদীর জলরাশি ভেদ করে। সুন্দরবনের বহু ছোট ছোট নদীর মধ্যে নীলকমল অন্যতম। যা সুন্দরবনের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই নদীর উৎপত্তি পশুর নদীর মোহনায়। এবং যার প্রান্ত মিলিত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। সুন্দরবনের মূল অংশ থেকে হিরন পয়েন্ট কে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন করেছে এই নীল কমল নদী। মূলত এই নদীর নামানুসারে হিরন পয়েন্টকে ভিন্নভাবে নীল কমলও বলা হয়ে থাকে। তবে হরিনের অবাধ বিচরণের জন্য এই স্থানটিকে হিরন পয়েন্ট হিসাবে নামকরণ করা হয়।

জাহাজ থেকে নেমে উঠতে হবে ট্রলারে। কারন আমরা নদীর কোল ঘেষে হিরন পয়েন্টের নৈসর্গিক সব দৃশ্য উপভোগ করবো। কোল ঘেষে নদীর গভীরতা কম থাকায় সেখানে জাহাজ প্রবেশ করতে পারেনা।
চারিদিক জুড়ে অথৈ জল আপনার মনকে ছোট ছোট ঢেউ এর সাথে দুলিয়ে দিবে অনায়াসে। বিস্তৃত জলরাশির ওপারেই অপেক্ষা করছে হিরন পয়েন্টের মূল বনজ সৌন্দর্য্য।
এবারে ট্রলার থেকে নামার পালা। আমরা পৌছে গেছি হিরন পয়েন্টের মূল অংশের প্রবেশদ্বারে। বাংলাদেশ বন বিভাগের এই ঘাট থেকেই হিরন পয়েন্টের মূল ভূখন্ডের উদ্যেশে যাত্রা শুরু হবে। এখানে চেষ্টা করবেন সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করার। কারন যেকোন সময়ই হয়তো সম্মুখীন হতে পারেন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সামনে পড়ার অভিজ্ঞতার। মূলত এই অঞ্চলটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উন্মুক্ত অভয়ারণ্য।
চলেছি বাংলাদেশ বন ভিভাগের অফিসের সামনে দিয়ে৷ ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্ভোধন করেন।
এখানে রয়েছে টেলিটক মোবাইল টাওয়ার। ফলে সর্বোচ্চ নেটওয়ার্ক সুবিধা পেতে সঙ্গে রাখতে পারেন টেলিটক সিম।
দাঁড়িয়ে আছি হিরন পয়েন্টের মিঠা পানির পুকুর পাড়ে। কথায় বলে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়। তবে কথার এই কথাকে সত্য রুপ দিয়ে সত্যিই এখানে বাঘ মহিষ সহ সকল জীবজন্তু এই পুকুরে আসে পানি পান করতে। উল্যেখ্য এই পুকুরের পানি বিশুদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় এবং দর্শনার্থীরাও প্রয়োজনে পান করে থাকে।
পুকুর পাড় থেকে বের হয়ে এবার ঢুকবো গভীর জঙ্গলের মধ্যে। দুপাশে গরান গাছের ঘন জঙ্গল।
হিরন পয়েন্টের এই অঞ্চলটিতে সর্বাধিক বাঘের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। তবে দিনের বেলা এবং জনসমাগমে বাঘের উপস্থিতি একেবারেই চোখে পড়বেনা।
ঘন এই জঙ্গলের মধ্যে একটু পর পরই এমন ছোট ছোট খাল এবং নালা ছড়িয়ে রয়েছে শিরা উপশিরার মতো। যেখানে লক্ষ্য করা যায় শ্বাসমূল।
হিরন পয়েন্ট একটি অভয়ারণ্য হওয়ায় এই স্থান প্রচুর বাঘ, হরিণ, বানর, পাখি এবং সরিসৃপের নিরাপদ আবাসস্থল। সুন্দরবন এলাকায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার অন্যতম একটি স্থান হলো এই হিরণ পয়েন্ট। এখানে দেখা পাওয়া যায় চিত্রা হরিণ, বন্য শুকর। পাখিদের মধ্যে আছে সাদা বুক মাছরাঙা, হলুদ বুক মাছরাঙা, কালো মাথা মাছরাঙা, লার্জ এগ্রেট, কাঁদা খোঁচা, ধ্যানী বক ইত্যাদি। এছাড়াও এখানে রয়েছে প্রচুর কাঁকড়া এবং রঙ বেরঙের প্রজাপতি।
চলেছি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিস এরিয়ার দিকে।
বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই হিরন পয়েন্ট থেকেই ১৯৯৫ খ্রীস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর ১৯শ শতাব্দের সর্বশেষ পুর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহন দেখা গিয়েছিলো। যেই সূর্য গ্রহনটি স্থায়ী হয়েছিলো ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য চালু করছে "হিরন পয়েন্ট পাইলট বেইজ রেস্ট হাউজ"।
হিরন পয়েন্টের মূল ভূখন্ড থেকে এবার বের হবার পালা। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ-ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে পশুর নদীর মোহনার উপর দিয়ে পুনরায় বিস্তৃত জলরাশির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে হিরন পয়েন্ট এর যাত্রা সমাপ্তির সময় দূর থেকে বহুদূরে চোখ জুড়ানো নয়নাভিরাম সব দৃশ্যে আপনার মনে হবে আপনি কোন স্বপ্নের পথ দিয়ে অতিক্রম করছেন।
ছোট ছোট ঢেউ আর বিস্তৃত জলরাশির মধ্যে সূর্যের আলোক রশ্মির অনন্য ভিন্ন ধরনের মিতালি আপনার দৃষ্টিতে সৌন্দর্যের এক ভিন্নরকম মাত্রা যোগ করবে।
সুপ্রিয় দর্শক এতক্ষন ধরে আমাদের অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সুন্দরবনের হিরন পয়েন্ট যাত্রার সঙ্গি হবার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরবর্তীতে এমনিই সব সুন্দর সুন্দর চোখ জুড়ানো ভিডিওগুলো সবার আগে পেতে চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকা বেল আইকনটি বাজিয়ে দিন।
দেখা হবে পরবর্তী ভিডিওতে। ততক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১০:৫৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×