somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুশি থাকার পাসওয়ার্ড

২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই কবেই তো বলেছেন দাড়িবুড়ো, ‘আমার পানে চেয়ে চেয়ে খুশি থাকো’...। রবি ঠাকুরের টোটকা। সত্যিই তাঁর দিকে তাকিয়ে খুশি থাকা যায় বটে। তবে দৈনন্দিনের ঘেমো রুটিনে কাজের মাসির হাঁড়ি মুখ, বসের লাল চোখ, ছেলে-মেয়ের টিফিনের বায়না মিটিয়ে শুধুমাত্র দাড়িবুড়োর দিকে তাকিয়েই কি খুশির ইচ্ছেটা বাসা বাঁধে? প্রত্যেকটা আলাদা সত্ত্বার তো খুশির পাসওয়ার্ড আলাদাই হবে। কেউ নিছক বৃষ্টিতে ভিজে খুশি থাকেন। কেউ বা লং ড্রাইভে জোগাড় করেন ব্যস্ত রুটিনের অক্সিজেন। কারুর বা পছন্দ জমাটি হুল্লোড়। অপশন প্রচুর। রঙ মেলাতে হবে নিজের পছন্দের তাসে। কীভাবে খুশি থাকা যায় তারই আট পাত্তি।

১) সেলফি

সাইবার দুনিয়ার চৌকাঠে পা রাখলেই আপনাকে বরণ করে নেবে সেলফি হাওয়া। ঘুম ভাঙা অগোছালো মুখের মায়ার আলস্য। ব্রাশ করছেন। কীভাবে পেস্ট গড়িয়ে পড়ল দেখাবেন না বন্ধুদের? দু্গ্গা ঠাকুর ব্যাকগ্রাউন্ডে, সামনে আপনি। সফ্ট ফোকাসে আইসক্রিমে আপনার গজ দাঁতের কামড়। চৈত্র সেলে নতুন কেনা কামিজে আপনি... কী নেই সেই লিস্টিতে। যখন যেমন ইচ্ছে নিজের ছবি তুলে দিয়ে দিন ফেসবুক হাটে। আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট ঈর্ষণীয় হলে লাইক আর কমেন্টের বন্যায় সুনামি হতে কতক্ষণ! দিল খুশ!

২) সেলিব্রেশন

শ্বশুরের রিটায়ারমেন্ট পার্টি। মায়ের জন্মদিনে বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৫৫ রকম গিফট। ছেলের প্রথম স্কুলে যাওয়া। পাঁচ বছরের অ্যানির্ভাসারিতে সেকেন্ড হনিমুন। গাড়িতে জমাটি স্টিরিও সিস্টেমের আমদানি। মরসুমের প্রথম কালবৈশাখী। উপলক্ষ যাই হোক সেলিব্রেশন মাস্ট। আর তা শেয়ার করুন সকলের সঙ্গে। চেনা ব্যস্ততার রুটিনে কমপালসারি হয়ে যাবে এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া।

৩) পছন্দের বই, সিনেমা, গান, নাটক

গুড মর্নিং থেকে গুড নাইটের ব্যস্ত শিডিউলে কানে থাক ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’, দিলদরিয়া আনুষে, অথবা পছন্দের ‘লুঙ্গি ডান্স’। পথচলতি জনতার ভিড়ে হারিয়ে যান কাকাবাবুর সঙ্গে পাহাড় চূড়ায় ছেলেবেলার নিয়মে। দুই মলাটের ঘেরাটোপে ফেলুদার মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার সাক্ষী থাকুন। অথবা পছন্দ অনুযায়ী হালফিলের ফ্যাশন ফান্ডাতেও নজর রাখতে পারেন। অফিস শেষে ‘ক্যুইন’-এর হনিমুনে আপনারও হোক প্যারিস ভ্রমণ। অকাদেমির নাট্যপ্রেমে চৈতালি সন্ধে জমজমাট হোক। ফেলে আসা কলেজবেলার ‘ভাললাগা’ সুর খুঁজে সমে ফিরুক খুশির বারান্দায়।

৪) হবি রিটার্নস

ফাইল, প্রোজেক্ট, মিটিং, অ্যাসাইনমেন্ট, ডেডলাইন। আপাত নিরীহ শব্দাবলী দৈনন্দিনে এক একটি কালীপটকা। দম ফেলার ফুরসত মেলে না এদের চাপে। তানপুরাটা কান ভেঙে আলনার পাশে দাঁড়িয়েই কাটিয়ে দিল একযুগ। টেনিস র‌্যাকেট চিলেকোঠায় মুখ লুকিয়েছে। রঙ, তুলিও বাক্সবন্দি হয়ে ধুলোর চাদরে ঢাকা। ফের শুরু করে দিন আপনার পছন্দের কাজ। যার ভাল নাম ‘হবি’। ছুটির দুপুরে ধুলো ঝেড়ে নিন তানপুরার। একলা বিকেলে ক্যানভাসে ছড়িয়ে দিন মনের রং। চিলতে ফ্ল্যাটের বারান্দায় টবেই সেজে উঠুক আপনার শখের বাগান। বহুদিন আগে শেখা তেল কই রান্না করে সারপ্রাইজ দিন প্রিয়জনদের। এবার আপনার থেকেই খুশি থাকার টিপস নেবেন সকলে!

৫) ঘর বা কাজের জায়গার ভোল বদল

বদলে ফেলতে পারেন আপনার বাড়ির অন্দরসাজ। পর্দার রং বদলে দিন ভরা চৈত্রের কথা ভেবে। বুক শেলফ, সোফার জায়গা বদল হোক। বক্স জানলায় সাজিয়ে দিন মানিপ্ল্যান্টের বাহার। কুশনে ছড়িয়ে থাকুক কালবৈশাখীর আগমনী। বদলাতে পারেন কাজের জায়গায় নিজের ডেস্কও। নিজের চারপাশের সামান্য পরিবর্তনই রিফ্রেশিং হতে পারে।

৬) একা থাকা

সকলের ইচ্ছেপূরণের ভিড়ে হারিয়ে যায় আমার আমিটা। বৃষ্টির পর মাটির সোঁদা গন্ধে, কাঠফাটা রোদে একঝাঁক ঘুড়ির মিছিলে, রাতের নিঃঝুমে শহুরে জ্যোৎস্নায় কদম ফুলের মাতাল গন্ধে মনে পরে যায় ভুলে যাওয়া কবিতার মতো হারিয়ে যাচ্ছে নিজের সঙ্গে থাকা। নাগরিক ভিড়ে একা থাকাও হতে পারে খুশি থাকার চাবিকাঠি।

৭) উইকএন্ড ট্যুর

লম্বা ছুটি নেই, ইয়ার এন্ডিংয়ে বড় ট্যুরের খরচও দেবে না ওয়ালেট। কিন্তু উইকএন্ডের মস্তির পাঠশালায় জয়েন করতে তো ক্ষতি নেই। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন দু’দিনের জন্য। সমুদ্রের নোনা বালি, অরণ্যের বন্যতা আদর দেবে। ফ্রেশ অক্সিজেন নিয়ে ব্যাক টু ওয়ার্ক।

৮) আড্ডা

খুশি থাকার এই অপশনটাই বোধহয় আগাম নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে। ভোটের বাজারে নির্দল প্রার্থীর টিকিটে লড়লেও গদির দৌড়ে ‘আড্ডা’ পিছনে ফেলবে সকলকে। চায়ের ঠেক থেকে কলেজ ক্যান্টিন, বিয়েবাড়ি থেকে মজলিসি জলসা, খেলার মাঠ থেকে হেঁসেলের অন্দর- আড্ডার এন্ট্রি আটকায় কে? রাজনীতির তর্কে তুফান তুলে গিয়ার স্টার্ট। টি-টোয়েন্টির লেন বাইলেন ঘুরে, চৈত্র সেলের ওয়ার্ডোবে হল্ট। মালয়েশিয়ার বিমানের রহস্য ভেদে সকলেই শার্লক হোমস। লাস্ট বেল পরার আগে পিএনপিসি মাস্ট। আড্ডার চেনা ছকে খুঁজে নিন খুশির ম্যাজিক ।

সুত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×