somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধুর ঢাবির ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার

১৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ অবশেষে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ঠিক করা হল, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার কলংক মোচন করল এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হল। ১৯৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র (রোল-১৬৬, এসএম হল) ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি কর্মচারীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন ও ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ আরও ৪ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। এ সময় প্রশাসন ১৫ টাকা জরিমানা ও অভিভাবকের মুচলেকাসহ ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে শর্ত আরোপ করেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে অবৈধ বহিষ্কারাদেশকে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন।
বহিষ্কারাদেশের সভা : চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিসির বাসভবনের কাউন্সিল রুমে বিকাল ৫টায় এক জরুরি সভা ডাকে। ওই সভায়ই বঙ্গন্ধুর ওপর এ অবৈধ আদেশ জারি করা হয়। তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কোষাধ্য, রেজিস্ট্রার আবদুল হাদী, ঢাকা হলের প্রভোস্ট, সলিমুলাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট, কলা অনুষদ ও আইন অনুষদের ডিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, রাজশাহী কলেজ, এমসি কলেজ, ভিক্টেরিয়া কলেজ ও মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্য, পূর্ববাংলা মাধ্যমিক শিা বোর্ডের সভাপতি, পঙ্কজ কুমার ঘোষ, মিজানুর রহমান, রাজ খগেন্দ্র নারায়ণ মিত্র বাহাদুর, আবদুলাহ আল মাহামুদ, এসএ সেলিম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর।
বহিষ্কারাদেশ : ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন ও যোগদানের অপরাধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ররহমানসহ যে ৫ জন শিার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় তাদের মধ্যে অন্যরা হলেন-কালায়নচন্দ্র দাস গুপ্ত, নাইমুদ্দিন আহমেদ, নাদিরা বেগম ও মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ। এই ৫ শিার্থীকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ১৭ এপ্রিলের মধ্যে অভিভাবকের সম্মতিপত্র ও ১৫ টাকা জরিমানাসহ হল প্রভোস্টের কাছে আবেদন করতে বলা হয়। বঙ্গবন্ধু বাদে বাকি ৪ জন আবেদন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলনে সমর্থনকে যৌক্তিক মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলশ্র“তিতে ১৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন তৎকালীন তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার : বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভা বসে। এ সভায় ১৭ জন সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে ১৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতির জনকের ওপর অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক। সভায় ১৯৪৯ সালের গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়। সভাশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তিকৃত ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন ও নেতৃত্বদান ছিল তার অসাধারণ দূরদর্শী ও জ্ঞানদীপ্ত গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। অধিকন্তু এটি ছিল ওই সময়ের সাহসী ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে একটি সাহসী পদপে। কর্মচারীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল যথার্থ। তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অনৈতিক, ন্যায়বিচার ও জঁষব ড়ভ ধঁফর ধষঃবৎবস ঢ়ধৎঃবস-এর পরিপন্থী ছিল বলে আজকের সভা মনে করে। তাই ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত ওই বহিষ্কারাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সর্বসম্মতিক্রমে আজ (১৪-৮-২০১০) প্রত্যাহার করছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানা ও মুচলেকা প্রদান না করে সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান যে সাহসী প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন তা এ সভা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৪৯ সালে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অন্য যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এ সভা তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।’ সভা থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা এ বহিষ্কারাদেশ বহু আগেই প্রত্যাহার করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন এবং বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিককে সিন্ডিকেটের প থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
কর্তৃপরে বক্তব্য : এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে শিার্র্র্থীদের অংশগ্রহণ সঠিক ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপরে দেয়া বহিষ্কারাদেশ ও জরিমানার আদেশটি ছিল অযৌক্তিক। এত বছর পর হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে। তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিসমাপ্তি ঘটল ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হল।
ছাত্রলীগের অভিনন্দন : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এ অভিনন্দন জানান। নেতৃদ্বয় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্বৈরাচারী প্রশাসন ও সিদ্ধান্তকে অন্যায় সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, এ অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আজ জাতির কাছে দায় মুক্ত হল।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৫৪
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×