somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সালাউদ্দিন গাজী
আমি গাজী সালা্উদ্দিন। ১৯৯৩ সালের প্রথম দিকে বৃষ্টি নিয়ে আমার প্রথম কবিতা লেখা শুরু। ২০০১ সালে শিক্ষা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় " আজও ভালবাসি" শিরোনামের একটি ৮ লাইনের কবিতা। তারপর অনেকদিন লেখার সময় হয়নি। আশা করছি এখন থেকে লেখার সময় পা

কবিতাঃ হায়রে ক্ষুধা!

০১ লা মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হে সিংগারা-
তোমাকে খাবার জন্য
কতকাল অপেক্ষায় থাকবে
রাস্তার পাশের ভুখা ছেলেটা?
এক সময় না খেতে চাইলেও
থালা ভরা ভাত খেত,
পেয়ালা ভরা তরকারি থাকত।
মা আদর করে বলত “খাও সোনামনি”
এখন আর কতদিন ধরে
থালা ভরা ভাত নেই,
নেই পেয়ালা ভরা তরকারিও
মায়ের দেয়া নামটিও হারিয়ে গেছে দূর অজানায়,
সুখের সংসারে আরও সুখের জন্য
বাবা তার চলে এল শহরে
সাথে মা, বোন আর সে।
সকালে বেরিয়ে ক্লান্ত শরীরে রাতে ফিরত বাবা
সে বাবাই বাবা খেয়ে হারিয়ে গেল চিরতরে।
আর মা?
তিনদিনের জ্বরে বিছানা ছেড়ে না উঠে
একেবারে মরার খাটে উঠল।
তারপর থেকে বোনটিকে সাথে নিয়ে
বাস্তু পৃথিবীতে এক উদ্বাস্তু সে।

হে সিংগারা।
তোমাকে ভাজার জন্য কত তেল নতুন থেকে
পুরাতন হয়ে গেছে,
কিন্তু সেই ছেলেটির ছেড়া জামা নতুন হয়নি
বোনটির জন্যও কেনা হয়নি নাল পিরান।

কতদিন হোটেলের দরজায় দাঁড়িয়ে
খাবার জন্য চিৎকার করেছে
“স্যার, একটা সিংগারা দেন,
ভাই, কয়ডা ট্যাহা দেন,
তিনদিন ধইরা কিছু খাই না”।

হোটেলে ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল
ব্যস্ত শহরে, ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে পড়ে না দুটি শিশু।
অথচ চোখে পড়ে
“সিংগারায় তেল বেশি
সিংগারায় আলু বেশি কিংবা
কতটা বাদাম, কতটা আলু
কতটা কালো জিরা”।

দশ টাকার সিংগারায় কত হিসাব মেলে
“এত তেল খেলে গ্যাস্ট্রিক,
এত আলু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়”।

অথচ হিসাবে মেলে না
একটা সিংগারা দিলেই খেতে পারত দুটি শিশু
আর আধাটা দিলেই খেতে পারত ভাইয়ের কোলে থাকা ছোট বোনটি।
হত মানবতার জয়ধ্বনি।

হে সিংগারা।
তুমি যেমন ডুবো তেলে ভাজা হও
তেমনি করে ক্ষুধায় আকন্ঠ ডুবে থাকে তারা
মায়ের ভালবাসার ক্ষুধা,
বাবার আদরের ক্ষুধা,
নতুন কাপড়ের ক্ষুধা,
একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ক্ষুধা।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:৪১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×