হে সিংগারা-
তোমাকে খাবার জন্য
কতকাল অপেক্ষায় থাকবে
রাস্তার পাশের ভুখা ছেলেটা?
এক সময় না খেতে চাইলেও
থালা ভরা ভাত খেত,
পেয়ালা ভরা তরকারি থাকত।
মা আদর করে বলত “খাও সোনামনি”
এখন আর কতদিন ধরে
থালা ভরা ভাত নেই,
নেই পেয়ালা ভরা তরকারিও
মায়ের দেয়া নামটিও হারিয়ে গেছে দূর অজানায়,
সুখের সংসারে আরও সুখের জন্য
বাবা তার চলে এল শহরে
সাথে মা, বোন আর সে।
সকালে বেরিয়ে ক্লান্ত শরীরে রাতে ফিরত বাবা
সে বাবাই বাবা খেয়ে হারিয়ে গেল চিরতরে।
আর মা?
তিনদিনের জ্বরে বিছানা ছেড়ে না উঠে
একেবারে মরার খাটে উঠল।
তারপর থেকে বোনটিকে সাথে নিয়ে
বাস্তু পৃথিবীতে এক উদ্বাস্তু সে।
হে সিংগারা।
তোমাকে ভাজার জন্য কত তেল নতুন থেকে
পুরাতন হয়ে গেছে,
কিন্তু সেই ছেলেটির ছেড়া জামা নতুন হয়নি
বোনটির জন্যও কেনা হয়নি নাল পিরান।
কতদিন হোটেলের দরজায় দাঁড়িয়ে
খাবার জন্য চিৎকার করেছে
“স্যার, একটা সিংগারা দেন,
ভাই, কয়ডা ট্যাহা দেন,
তিনদিন ধইরা কিছু খাই না”।
হোটেলে ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল
ব্যস্ত শহরে, ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে পড়ে না দুটি শিশু।
অথচ চোখে পড়ে
“সিংগারায় তেল বেশি
সিংগারায় আলু বেশি কিংবা
কতটা বাদাম, কতটা আলু
কতটা কালো জিরা”।
দশ টাকার সিংগারায় কত হিসাব মেলে
“এত তেল খেলে গ্যাস্ট্রিক,
এত আলু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়”।
অথচ হিসাবে মেলে না
একটা সিংগারা দিলেই খেতে পারত দুটি শিশু
আর আধাটা দিলেই খেতে পারত ভাইয়ের কোলে থাকা ছোট বোনটি।
হত মানবতার জয়ধ্বনি।
হে সিংগারা।
তুমি যেমন ডুবো তেলে ভাজা হও
তেমনি করে ক্ষুধায় আকন্ঠ ডুবে থাকে তারা
মায়ের ভালবাসার ক্ষুধা,
বাবার আদরের ক্ষুধা,
নতুন কাপড়ের ক্ষুধা,
একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ক্ষুধা।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


