somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্লাস্টিকের ফুল

০৫ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভদ্রলোক গল্প লিখেন জানার পরে জিগেশ করলাম যে অামাকে নিয়ে গল্প একটা লেখা যায় কিনা।
তিনি বললেন,
- আপনার এরকম ইচ্ছা হওয়ার কারণ কি?
- না, আমার বুজলেন মাঝেমধ্যে মনে হয় যে অামি বাস্তবের থেকে গল্পের ক্যারেকটার হিসাবে বেটার।
- অাইচ্ছা দেখি। একদিন অাসেন অামার বাসায়।

***

ওনার বাসাটা ছোট। রাস্তার ওপারে। বাইরের দেয়ালে ফাটা ফাটা। ফাটার ভিতর ছোট গাছপালা জন্মেছে। বাসাটার চারপাশে খুব রোদ হয় দেখলাম। দরজা ধাক্কালে যেই মহিলা খুলল তাকে আমি ধরে নিলাম ওনার স্ত্রী। মহিলাটি হেসে হেসে বললেন
- অাপনে কে আমি বুচ্ছি। আপনাকে নিয়ে একটা গল্প লেখার কথা। ভিত্রে আসেন।

***

ভেতরটা শীতল। বাইরের মত রোদ নেই। একটা ছোট টেবিলে লাল লাল ফুল রাখা ফুলদানিতে। ফুলগুলি মনে হল প্লাস্টিকের। ভদ্রমহিলা সোফায় বসছেন দেখে আমিও ভাবলাম ওনার পাশে সোফায় বসব নাকী। পরে উল্টা দিকের চেয়ারে বসলাম। মহিলা বললেন
- আপনার বিষয়ে জানা দরকার।
- কি জানবেন?
- যা যা জানা যায় সব। গল্প লিখতে হলে এসব লাগে।
- গল্প তো আপনার হাজবেন্ড লিখবে। আপনার সাথে এসব কথার কি দরকার?
তার বিরক্তি ঘটল। চোখ কুঁচকে বললেন
- আপনে কি ভাবসেন গল্প ও একা একা লিখবে। গল্প কখনো একা লেখা যায় নাকী?
- যায় না? আমি আসলে গল্প লেখা বিষয়ে কম জানি।
ভদ্রমহিলা কি জানি চিন্তা করে বললেন
- কমপক্ষে দুজন বুচ্ছেন। গল্প লিকতে আপনার কমপক্ষে দুজন লোক লাগে।

***

ভদ্রমহিলা সোফা থেকে উঠে একদম আমার কাছে এসে দাড়ালেন। অামার খুব কেমন জানি করতে লাগল। মহিলা সুন্দরী না সেই অর্থে। কিন্তু অাচ্ছন্নকারী। আমার মাথা ঘুরাতে ঘুরাতে গলার কাছটা শুকনা শুকনা লাগল। মহিলা হাসতে লাগলেন। কিরকম ধারালো শব্দের হাসি তার। তিনি বললেন
- আপনার ব্যাপার আমি বুজতেসি। আপনাকে নিয়ে গল্প লিখতে মজা লাগবে। একটু বসেন আপনে।
তিনি কই জানি গেলেন।

আমি বসে থাকতে থাকতে কাতর হয়ে উঠলাম। তখন আমার ফোন বাজল। দেখলাম ঐ লেখক ভদ্রলোকটিই করেছেন। ধরে বললাম যে,
- অাপনে কই? আপনার বাসায় তো অামি বইসা আছি।
- আমি তো ভাই একটু বাইরে।
- কি করছেন?
- আমি হাটতেসি। আমি সারাদিন বাইরে হাটি। আর রাতে এসে গল্প লিখি।
- আমি কি করব এখন তাইলে?
- আপনে কি করবেন মানে। আমার ওয়াইফের সাথে দেখা হয় নাই?
- হইসে তো।
- ওর কাছে সব ইনফরমেশন দিয়ে চলে যাবেন। আমার জন্যে ওয়েইট করবেন না।

***

ফোন নামিয়ে আমার কেমন রাগ হল। মহিলা এমন আমাকে রেখে চলে গেলেন দেখে দুঃখও হল খুব। আমি ভাবলাম এমন হতে পারে যে মহিলার সাথে অামার কোনদিন দেখা হয় নাই বা এই বাসাতে অামি কোনদিন অাসি নাই অথবা লেখক লোকটা আমাকে নিয়ে কোনদিন লিখবেন না। একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটা প্লাস্টিকের ফুল পকেটে ভরে আমি বেরিয়ে গেলাম। বেরোনোর পর চিন্তা করে দেখলাম আমার মন খারাপ। ভাবলাম বাইরে ঘুরি কিছুক্ষণ। বাইরে খালি রাস্তার পর রাস্তা। কোন রাস্তার শেষে আরেক রাস্তা । কোন কোন রাস্তার শেষে দেয়াল। এভাবে সন্ধ্যা, রাত তারপরে মধ্যরাত হয়। একটা চায়ের দোকানের পাশে দাড়িয়ে আমি সিগারেট টানতে থাকি। তখন মোবাইল বাজে। ধরলে লেখক লোকটির গলা শুনি। তিনি বলেন
- অাপনাকে নিয়ে গল্পটা লেকতেসি। মজা লাগতেসে লিখতে।
- ইনফরমেশন তো কিছুই দেই নাই। কি লেখবেন আপনে?
- ঐ যা দিসেন তাতেই হবে। আচ্ছা এখন রাখি ভাই, পরে কমুনে কথা আপনার লগে।

***

আমি পকেট থেকে ফুলটা বের করলাম। দেখলাম ওটাকে প্লাস্টিকের ফুল ভাবাটা ঠিক হয় নি, ওটা কুড়ি থেকে যে ফোটে ঐ ধরণের ফুল। সারাদিন পকেটে থেকে থেকে মরে কালচে হয়ে গেছে
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমার গল্পঃ মেঘের অনেক রং - যে মেয়েটিকে মেঘ বানিয়ে দেওয়া হলো

লিখেছেন রাজসোহান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭



সিনেমা শুরু হয় সবুজ দিয়ে। ওয়াইড ফ্রেমে পাহাড়, গা বেয়ে নেমে যাওয়া রাস্তা, আর রাস্তায় ছোট্ট একটা গাড়ি। ক্যামেরা কাটে গাড়ির ভেতরে। দুইজন মানুষ কথা বলছেন, নিতান্ত সাধারণ কথা। আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×