somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন দিয রেইনি ডেয

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তো হইল কি যে, রাতে আমি বাড়ির বাইরে বাইরাইসি আর বর্ষণ আরম্ভ হইসে। আমি দেখলাম বাসার সামনের স্ট্রিটলাইটের নীচে খাড়াইয়া এক লোক ভিজতেছে। আমি ভিজতে ভিজতে ভদ্রলোক পানে যাইয়া একটু নজর কইরা দেখলাম। দেখিলাম চিনি উহারে। উনি খোর্শেদ। আমাগো পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন। বাট ভদ্রলোক তো মারা গেছিলেন গত বছর। উনার কুলখানিতে মুরগীর বিরানী করা হইসিল কারণ কিছু কিছু হিন্দু লোকজনও আসছিলেন অনুষ্ঠানে।
আমি গিয়া কইলাম যে
- আপনে খোর্শেদ বাই না?
ভদ্রলোক উত্তর দিলেন
- হ। স্যালি কি অবস্থা?
- আমি তো আছি আরকী। কিন্তু আপনে এখানে কেমনে? আপনে না মারা গেছিলেন?
- তা তো গেছিই তবে মাঝে মধ্যে রেইনি ডে গুলিতে ভিজতে ইচ্ছা করে বড়।
মৃত মানুষ সামনে খাড়ায় আছে বইলা আমার একটু ভয় ভয় করল। ভদ্রলোকরে স্পষ্ট কইরা বোঝা যায় না। কেমন অন্ধকার অন্ধকার ঝাপসা একটা ব্যাপার। অবশ্য রাত্রকালে এমনি লোকজনরেই অস্পষ্ট বোধ হয় আর ইনি তো মইরাই গেছেন। আমরা বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে লাগলাম।

আমরা বইলাম গিয়া একটা চা’র দোকানে তাই দোকানদার আমগোরে সিগ্রেট খাইতে দিল। কইল যে চা-টা কিছু হইব না। চুলার ভিত্রে বলে পানি ঢুকছে। আমরা দোকানের ছাউনির নীচে খাড়ায়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলাম। খোর্শেদ কইলেন যে
- আমার বউ কেমন আছে?
- ভাল আছে। ওনার শুনসি আরেকটা প্রণয় হইছে। যার লগে হইসে সেই পোলার ওয়াইফ মারা গেছিল বিয়ার এক বছরের মধ্যে এন্ড হি’জ গট আ সান।
- শুনছেন মানে কি? ঠিক কইরা কন।
- কাহিনী এইডাই রে ভাই। একটু ঘুরায়ে বললাম আরকী।
- তাইলে তো ভালোই। ওর বয়স কম ছিল আর আমগো তো পোলাপাইনও কিছু ছিল না। একটা সম্পর্কে জড়াইতেসে এটা ভাল।
তারপর এইসব ক্ষেত্রে লোকেরা যেমন বইলা থাকে আরকি, তেমন আমিও বললাম যে, “ জীবন তো আর থাইমা থাকে না”। খোর্শেদ সাহেব বা খোরশেদ সাহেবের মরণোত্তর সত্তা জবাব দিলেন না। তার তেমন কোন এক্সপ্রেশনও বুঝা গেল না। এমনে লোকজনেরই এক্সপ্রেশন বুঝা জটিল আছে আর ইনি তো মইরাই গেছেন।

রাতে ঘরে ফিইরা আমার খুব জ্বর আইল। একজন মৃত ব্যাক্তির লগে বইয়া সিগ্রেট খাইসি মনে কইরা শরীর কাঁপতে লাগল। আমার এমন লাগতেছিল যেন খোর্শেদ সাহেব ঘরের মধ্যে ঢুইকা পড়ছেন। জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করে দেখতেছেন। নানান কথা জিগাইতেছেন। কিন্তু আমি কোন কথাই পরিস্কার কইরা শুনতেছি না। আমি খালি শুনতেসি বর্ষনের অবিরাম অক্লান্ত শব্দ। আমার শীত করতেছিল। মনে হইল ঘরের মধ্যেই বৃষ্টি পড়তেছে। আমার জ্বর কমল পরদিন দুপুর নাগাদ। কমল মানে চইলাই গেল। আমি গোসল টোসল কইরা দেখলাম ঘরে খাওনের কোন ব্যাবস্থা নাই আর ক্ষিধাও লাগছে ভাই সেই। আমি নীচে নামতে গিয়া সিড়ির গোড়ায় খোর্শেদ সাহেবের ওয়াইফরে দেখলাম। লগে হ্যার নতুন প্রণয়। নতুন আর কওয়া যায় না অবশ্য। চার মাস তো হয়ে গেছে। মহিলা আমাকে দেখে আড়ষ্ঠ হলেন যেন আর বয়ফ্রেন্ড লোকটার মুখে বিরক্তির ভাব আসল। কেমন চোখ ছোট ছোট করে মুখ কুঁচকে আমাকে দেখতেছেন। মহিলার গায়ে লাল শাড়ি , কপালে টিপ, চোখে কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক। শহুরে ললনা বৈধব্যের সাদা রং ধারণ করার মত বিষয়ের মধ্য দিয়ে কোনকালেই যান নাই কিন্তু খোর্শেদ সাহেব মারা যাওনের পরের কয়দিন মেকাপ টেকাপ কিছু দিতেন না। তাতে তারে খারাপ দেখাইত না, যদি আমারে জিগান।
ওনারা উঠতেছেন সিড়ি দিয়া। আর আমি নামব। আমগো বাড়ির সিড়িডি চিপা ও সরু বিধায় পরস্পর বিপরীতমুখী লোকেরা একই সময়ে সিড়ি ব্যবহার করতে পারেন না। আমি ভদ্রতা কইরা খাড়ায়া আছি। কিন্তু বয়ফ্রেন্ড লোকটি এমন মুখভংগি করতেছেন যেন আমার খাড়ায়া থাকাটা ইচ্ছাকৃত। আমি ওনারে বিশেষ পাত্তা দিলাম না। তারা আরেকটু নিকটবর্তী হইলে আমি বয়ফ্রেন্ডরে টপকাইয়া মহিলারে উদ্দেশ্য কইরা কইলাম যে
- ভাবী আছেন তো ভালই, না?
মহিলা কিছু না কয়ে মাথা নীচু কইরা কেমনে হাসলেন জানি। আমি বিভ্রান্ত হইলাম। এমনে লোকজনেই বিভ্রান্ত করে আর ইনি তো সুন্দরী মেয়েমানুষ।
বয়ফ্রেন্ড লোকটা ফোঁস ফোঁস শব্দ করতে লাগলেন।

নীচে নাইমা দেখলাম বৃষ্টি থামছে বটে বাট আবারও শুরু হইব হইব একটা ভাব আকাশে বাতাসে বিরাজমান। আমি গতরাতের স্ট্রীটলাইটের নীচে আইসা খাড়াইলাম। আমার মনে হইল আমি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতেসি।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমার গল্পঃ মেঘের অনেক রং - যে মেয়েটিকে মেঘ বানিয়ে দেওয়া হলো

লিখেছেন রাজসোহান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭



সিনেমা শুরু হয় সবুজ দিয়ে। ওয়াইড ফ্রেমে পাহাড়, গা বেয়ে নেমে যাওয়া রাস্তা, আর রাস্তায় ছোট্ট একটা গাড়ি। ক্যামেরা কাটে গাড়ির ভেতরে। দুইজন মানুষ কথা বলছেন, নিতান্ত সাধারণ কথা। আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×