somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গি শাকিরা আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ে! তাইতো বলি.....

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাজধানীর আশকোনায় সূর্য ভিলার জঙ্গি আস্তানায় আÍঘাতী জঙ্গি নারী শাকিরার লাশ সনাক্ত করলেন তার বাবা শাহে আলম চৌকিদার। তিনি একজন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে। ফ্রিজের ডালা খুলে তাকে দেখানো হয় জঙ্গি শাকিরার লাশ। তিনি লাশটি তার মেয়ে সাকিরার বলেই সনাক্ত করেছেন বলে মর্গ সুত্র জানিয়েছে।
এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০৬ নম্বর শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশু সাবিনার কাছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, মেয়ের লাশ দেখে নিস্তব্ধ থাকলেও নাতনিকে দেখে ডুকরে কেঁদে উঠেন শাহে আলম।
ঢামেক হাসপাতাল মর্গের ইনচার্জ মো. সেকান্দর যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে নিয়ে মর্গে আসে। আমাকে আত্মঘাতী ওই জঙ্গি নারীর লাশ দেখাতে বলে। আমি ফ্রিজের ডালা খুলে লাশ দেখাই। এ সময় ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। এরপর বলেন চিনতে পেরেছি। সে আমার মেয়ে শাকিরাই। পরে তাকে নিয়ে মর্গ থেকে বেরিয়ে যায় পুলিশ। বৃস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ শিশু সাবিনার কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। তিনি শিশুটিকে দেখে কেঁদে ফেলেন আর বলেন, আমার মেয়ের ভুলে চাদের মতো সুন্দর নাতনিটা আজ এতিম হলো। তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে সাবিনা সুস্থ হবে কিনা জানতে চান। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং নার্সরা তাকে শান্তনা দেন এবং শিশু সাবিনা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। এরপর তিনি সাবিনার কাছে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। শিশু সাবিনাও তার নানাকে চিনতে পারে। সে তাকে বলে নানা, আমার মা কোথায়? তখন শাহে আলম নীরব ছিলেন। তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্র“ধারা। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থানের পর পুলিশ শাহে আলমকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
জানা গেছে, শাহে আলমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার অ্যাওয়াজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম অ্যাওয়াজপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে শাকিরা তৃতীয়।
ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় কয়েক বছর আগে শাকিরার সঙ্গে বিয়ে হয় ইকবালের। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন ইকবাল। বিয়ের বছরখানেকের মাথায় তার মেয়ে সাবিনার জš§ হয়। তখন ইকবাল ছিলেন ক্যানসারে আক্রান্ত। মেয়ের জšে§র কয়েক মাসের মাথায় মারা যান ইকবাল। স্বামীর মৃত্যুর পর শাকিরা মেয়েকে নিয়ে ভোলায় ফিরে যাননি। পরিবারের সদস্যদের জানান, মোহাম্মদপুরের একটি ক্লিনিকে কাজ করেন তিনি। গত কোরবানির ঈদের পর ভোলায় বাবার বাড়িতে সাবিনাকে বেড়াতে গিয়েছিলেন শাকিরা। তখনও কাউকে জানাননি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি শাকিরা।
পুলিশ বলেছে, শাকিরার দ্বিতীয় স্বামীর নাম রাশেদুর রহমান ওরফে সুমন। সে নিউ জেএমবির সদস্য। ২১ নভেম্বর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে রাশেদুর রহমান সুমনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটি) ইউনিট। তারা ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করত। আর সেই অর্থ ব্যয় হতো সাংগঠনিক কাজে। সুমন এখন কারাগারে। সুমনই শাকিরাকে বিপথগামী করেছে।
তবে শাকিরার বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, সুমন নামে কাউকে তিনি চেনেন না। এদিকে মেয়ে জঙ্গি হওয়ার ঘটনায় হেনস্তা হওয়ার ভয়ে আÍগোপনে ছিলে শাহে আলম। পুলিশ তাকে অভয় দিয়ে বুধবার তাকে নিয়ে ঢাকায় আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে সাকিরার লাশ সনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে বুধবার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন শেষে আশকোনায় আÍঘাতী নারী শাকিরার নাম প্রকাশ করেন। আশকোনায় ২৪ ডিসেম্বর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় জঙ্গি নারী শাকিরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সে নিহত হয় ও তার শিশু মেয়ে সাবিনা আহত হয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:০৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×