কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সবসময় নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে প্রমাণ করতে চায়।সবাই যখন কোন ইস্যুতে একই ধরণের মন্তব্য করবে উনারা তখন সবার সাথে একমত না হয়ে আরেকধরণের মতামত দিবে।এর কারণ হলো সবার সাথে একমত হয়ে গেলে উনি আর স্পেশাল থাকলেন কই? উনিও আমজনতার কাতারে চলে আসবেন,তাইনা? তখন উনার পন্ডিতি জাহির করা যাবে?
এইসব মানুষ অনেক ধুরন্ধর হয়।ইনারা একটা সহজ বিষয়কে নিয়ে খুব ভালো ত্যানা পেচাতে পারেন,অসাড় যুক্তি-তর্ক দিয়ে প্রমাণ করবেন যে উনি-ই সঠিক আর উনার আশেপাশের মানুষ(যাদের উনি নিজের শিষ্য ভাবেন) ভুল পথে হাটছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে স্ট্যাটাস দেয়া একটা বাংলাদেশি ইভেন্ট যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি ও বিশ্বসম্প্রদায়কে জানানো যে আমরা (বাংলাদেশিরা) তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল।শুধু বাংলাদেশ নয়,সারা বিশ্বেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে পোস্ট/টুইট করছেন অসংখ্য মানুষ।এখানে ব্যাতিক্রম আমাদের দেশের কিছু " জ্ঞানী " লোক।উনাদের বক্তব্য হচ্ছে এইসব করে লাভ কি,এইসব করে কি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করে যাবে? আমি অমুক,অমুক জায়গায় থাকি এইগুলো লেখার মানে নাই।
ভাইরে,এইবার খেমা দেন,যারা পোস্ট দিচ্ছে তারা জানে তাদের পোস্টের মাধ্যমে কিছুই হবেনা।না যাবে গাজায় হামলা বন্ধ করা,না যাবে ফিলিস্তিন স্বাধীন করা।মানুষ এত বেকুব না যে পোস্ট দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে ফেলার কথা চিন্তা করবে
এইভাবে নাম,স্থান,হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্ট দিলে একই হ্যাশট্যাগের সকল পোস্ট একসাথে হয়।হ্যাশট্যাগটিতে ক্লিক করলেই সেটা দেখতে পাবেন।এতে কে কোন জায়গা থেকে গাজাকে সমর্থন দিচ্ছে তা বোঝা যায়।
এটা করে কি লাভ?
কোন লাভ নেই,আপনার পোস্ট দিয়ে কিছুই হবেনা।যেহেতু বাংলাদেশে বসে তাদের জন্য সহানুভূতি জানানো ছাড়া বেশী কিছু করার নেই তাই আমাদের সহানুভূতি জানাতে হচ্ছে।হ্যা,ফিলিস্তিন দূতাবাসের মাধ্যমে আপনি অর্থসাহায্য করতে পারেন।কিন্তু সেটা অনেকেই জানেনা এবং সবার পক্ষে সাহায্য করাও সম্ভবপর নয়।
হামাস এর ব্যাপারে..…..…।
আজ পর্যন্ত একটা পোস্ট দেখেছেন যেখানে হামাসকে সমর্থন করা হয়েছে?বাংলাদেশের মানুষ গাজাকে সমর্থন দিচ্ছে,হামাসকে নয়।আর হামাস যদি গাজা-সমস্যার জন্য দায়ী হয় তার মানে কি এই যে আমি নিরীহ ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দেয়া বন্ধ করে দেবো?
হ্যা,গাজা ইস্যুতে পোস্ট দেয়া আপনার পছন্দ নাও হতে পারে,আপনি সেটাকে ইগনোর করবেন।কিন্তু গাজার সাথে গাঞ্জা খাওয়ার তুলনা করবেন এই ছ্যাচরামি আপনি কই শিখলেন ভাইয়া?
ইজরায়েল বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনঠাসা,তাই তারা এখন টাকা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী নিয়োগ করে নিজেদের পক্ষে মতামত বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে খবর।আর আপনাদের কি ধারণা ফিলিস্তিনিরা ফেসবুক ব্যবহার করেনা? না তাদের হাতে মোবাইল নাই?
যেহেতু মূলধারার অনেক মিডিয়া ইজরায়েল-প্রভাবিত তাই ফিলিস্তিনিরা মৃতের সংখ্যা ও প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছেন ফেসবুকের মাধ্যমে।এই মুহুর্তে আমাদের সমর্থন তাদের জন্য অবশ্যই পজিটিভ।কোন বিষয়ে মতামত গঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে,গাজা ইস্যুতেও একই কথা।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়েছে আমরাও নিয়েছি।এতে দোষের কি আছে?
কিছু হোক না হোক,অন্তত বিশ্ববাসী জানুক আমাদের অবস্থান,আমাদের সমর্থনের কথা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




