somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শখের নাকফুল

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতিদিনের মতই সাথী তার বাবার জন্য ভাত নিয়ে জমিতে যাচ্ছে......
সে ক্লাশ ফাইভ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। বোর্ড পরীক্ষায় ফেল করে তিন বছর যাবৎ পড়াশুনা বন্ধ।
তার মা বলে,"তরে আর ফরাইয়া লাব নাই, তর মাতাত হুদ্দা গোবর।"
সাথী অন্য ভাই বোনদের তুলনায় একটু বোকাসোকা।তার মধ্যে সরলতা বেশি, যে যা বলে তাই বিশ্বাস করে নেয়।
সাথির বাবার এক বিঘা জমি আছে। নিজের জমি নিজেই চাষাবাদ করে, ভাল ভাবেই সংসার চলে।
সাথীরা দু'ভাই, দু'বোন আর বাবা-মাকে নিয়ে মোটামুটি সুখে শান্তিতে দিন কাটছিলো।
দুপুরে মা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকে, দু'ভাইবোন স্কুলে থাকে। জমিতে বাবার দুপুরের ভাত নেওয়ার দায়িত্ব সাথীর। প্রতিদিন যায়, আজ কয়দিন ধরে পাশের জমিতে কাজ করা একটা ছেলে, কেমন একটা ভালো লাগা নিয়ে সাথীর দিকে তাকিয়ে থাকে.......
যেদিন থেকে সাথী টের পেয়েছে তার দিকে ছেলেটা
তাকিয়ে থাকে, সেদিন থেকে সেও একটু সাজুগুজু করে ভাব নেয়।
রোজ চোখে চোখে কথা হয়..........
একদিন বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দু'জনের কথা হয়।ছেলেটার নাম 'দেওয়ান'।
ময়মনসিংহ থেকে কাজ করতে এসেছে, বাড়িঘর ভালো অবস্থা। বাবার সাথে রাগ করে এসেছে, সাথিকে তার খুব ভালো লাগে। সাথীর মত সুন্দর মেয়ে সে নাকি জীবনেও দেখেনি....!!!
এই রকম একটা মেয়েই নাকি, তার মা-বাবা বউ করে ঘরে তুলতে চায়। দেওয়ানের সবগুলো কথা শুনে সাথীতো খুশিতে বাগবাগ.........
সত্যি বলতে কি, সাথী তেমন আহামরি কোনো সুন্দরী না, কিন্তু নিজেকে সে খুব সুন্দরী ভাবে.......
তার বাবা তাকে একটা নাকফুল বানিয়ে দিয়েছিলো, নাকফুলটা তার খুব পছন্দ, খুব শখের নাকফুল।নাকফুলটা পরে সবাইকে বলতে লাগলো, "নাকফুলডা পিনদা আমারে শাবনুরের মত লাগতাছেনা!!!"
দেওয়ান আর সাথীর প্রেম দিনদিন ঘনীভূত হচ্ছে।
দেওয়ান সাথীকে বহু স্বপ্ন দেখাচ্ছে আর সাথী তার প্রেমে অন্ধ হচ্ছে।
কিভাবে যেন কথাগুলো সব সাথীর বাবার কানে গেলো!!
তার বাবা তাকে খুব মারলেন আর বললেন, "আমার ক্ষেতে কামলা রাহি, আর তুই অইন্য মাইনশের ক্ষেতের মইমনসিংগা কামলার লগে প্রেম করছ!!! কাইট্টা টুকরা-টুকরা কইরা লামু......."
পরদিন সকালে সাথী আর দেওয়ানকে খুজে পাওয়া গেলো না।
দেওয়ান সাথীকে ঢাকা নিয়ে গেলো, একটা কাজী অফিসে গিয়ে জলিল আর কামাল নামের দুই বন্ধুকে সাক্ষী করে বিয়ে করলো।
তারপর সাথীকে একটা বস্তির ঘরে নিয়ে গেলো, ঘরে কিছুই নাই শুধু একটা চকি।
সাথী অবাক, "কোথায় বাড়ী, কোথায় মা-বাবা..!!!
দেওয়ান বলে, "আম্মা আব্বা রাগ, না জানায়া বিয়া করছিযে। কয়দিন পরে রাগ কমলে তুরে বউ সাজাইয়া লইয়া যাইবো।"
সাথীর সম্বল কয়েক জোড়া কাপড় আর সখের নাকফুলটা।
কয়েকদিন ভালোই কাটলো, তিনবেলা ভালো-মন্দ খায়, দুজনে মিলে সিনেমা দেখে.....
মাস শেষ হলে দেওয়ান বললো, "আমার হাতখালি, ঘর-ভাড়া দেয়ন লাগব,,,তর নাকফুলডা দে, এডা বন্ধক দিয়া ঘর ভাড়াডা দেই। কদিন পরে ছুডাইয়া আনমুনে।"
শখের নাকফুলটা খুলতে গিয়ে যেন সাথীর বুকটা হঠাৎ হু হু করে উঠলো......!!!!
ইদানীং দেওয়ানের কার্যকলাপ সাথীর কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ঠিকমতন বাজার আনেনা, প্রায়ই উপাস থাকতে হয় সাথীর,,,শুধু বলে হাতখালি!!!
একদিন সাথী দেওয়ানের এক বন্ধুর কাছে জানতে পারে, "দেওয়ানের বাড়িতে তার নাকি আরেকটা সংসার আছে, সাথে চার বছরের একটা বাচ্চাও আছে...!!
বোকাসোকা সাথী এখন বুঝলো, সংসার চালাতে দেওয়ান কেন হিমশিম খায়। কারণ তার দুইটা সংসার.........তাই সে সামলাতে পারে না।
সাথী ভাবছে, "প্রেমে অন্ধ হয়ে কি করলো সে!!!
তার আদরের পরিবারটাকে ফেলে দেওয়ান নামের মরিচিকার পিছনে এ কোথায় চলে আসলো!!!" এখন কথাগুলো ভেবে সাথীর চোখের জলে বালিশ ভিজছে.......
সাথী দেওয়ানকে নাকফুলটার কথা বললেই, "আজ দিবো, কাল দিবো করে।"
আজ আবার নাকফুলটার কথা বলাতে, দেওয়ান সাথীর গায়ে হাতও তুললো!!!
বোকা সাথীর জীবনটাই যেনো আটকে আছে তার বাবার দেওয়া নাকফুলটায়......
স্টেশানে গিয়ে সাথী মাকে ফোন করে, "আম্মা আমি বাইত আইতাছি।"
মা বলে,"তুই আমগো মুহে চুন-কালি দিয়া গেসস, অহন তুই আমগোর লাইগা মইরা গেছতগা, তুই গেরামে আইলে আমার আর তর বাপে মরা মুক দেখবি হুইন্না রাখ।"
সাথীর গায়ে হাত তুলে দেওয়ানের অনুশোচনা হয়। ঘরে গিয়ে দেওয়ান সাথীকে না পেয়ে বুঝতে পারে সে বাড়িতে চলে যাচ্ছে, সে ছুটে যায় স্টেশানে.........
স্টেশানে ঢুকতেই তার চোখে পড়ে রেল-লাইনের উপর অনেক মানুষের ভীড়। দেওয়ান ভীড় ঠেলে ভিতরে উঁকি দেয়,,,, ট্রেনের নিচে পড়া ছিন্ন-ভিন্ন সাথীর নিথর দেহ.....!!!!!
"দেওয়ানের পকেটে সাথীর শখের নাকফুল। যেটা পড়লে সাথীকে শাবনূরের মত লাগতো..........!!!"
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:২৬
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×