জামাল মিয়া 'সিএনজি' চালায়। হঠাৎ একদিন নিজস্ব সিএনজি এক্সিডেন্ট করে পায়ের হিপ-জয়েন্ট ভেঙ্গে ফেলেছেন।
ডাক্তার বলেছেন, "অপারেশন ছাড়া নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন না। অপারেশনে প্রায় লাখ-খানেক টাকা খরচ হবে। এতো টাকা কিভাবে জোগাড় হবে!!! টাকাও জোগাড় হচ্ছে না, অপারেশনও করাতে পারছেন না। অচল হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন, আজ প্রায় দু'বছর হলো।
তার উপার্জনেই সংসার চলতো। তাদের একমাত্র ছেলে, ষোল কি সতের বছরের 'মানিক'। ইলেকট্রিকের কাজ শিখছে....।
জামাল মিয়ার স্বপ্ন ছিলো ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন, তাই মানিক কে ইলেকট্রিকের কাজ শিখতে দিয়েছিলেন। এখন সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার.....
জামাল মিয়ার সিএনজিটা এখন মানিক চালায়। মানিকের আয়ে কোন মতে দু'বেলা ডাল-ভাতের জোগাড় হচ্ছে। কিন্তু বাবার অপারেশন এর টাকা জোগাড় হচ্ছে না। তার উপর মা হার্টের রোগী।
মানিকের মা'ও অসুস্থ থাকে, মানিক ছোট মানুষ তার এই অল্প আয়ে মায়ের ঔষধ খরচ ও আসেনা।
মানিক মায়ের কাছে এই নিয়ে দুঃখ করে। মা বলেন, "বাজান, আগে কোনমতে দুইডা ডাল-ভাত খাওয়াইয়া আমডার জানডা বাঁচা। এরপরে এনা অসুদ আর অপারেশন।
মানিক দু'টাকা বেশি আয়ের জন্য সিএনজি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ইলেক্ট্রিক এর টুকটাক কাজ পেলে করতো।
মা মানা করে বলেন, "বাজান তুই তো কারেন্টের কামডা ভালা মতন পারছ না, খালি শিখতাছিলি, এই কামডা করিছ না।"
গত বছর মানিকদের পাশের বাড়ির এক ছেলে ইলেক্ট্রিক এর কাজ শিখছিলো। ভালো ভাবে না জেনে এক বিয়ে বাড়িতে জেনারেটর চালাতে গিয়ে শক সার্কিট এ মারা যায়।
তারপর থেকে মা খালি নিষেধ দেন, "বাজান এই কাম তুই শিখিছ না। কিন্তু বাবার স্বপ্ন বিদেশ পাঠাবে, বিদেশে নাকি ইলেকট্রিক কাজের টাকা বেশি।।
পাশের বাড়ির সাজুর মায়ের চিৎকার এ মানিকের মার ঘুম ভাঙে। "মানিক্কার মাগো, মানিক্কা আর নাই।"
মানিকের মা দৌড়ে ঘর থেকে বের হন, সাজুর মা হাঁপাতে হাঁপাতে মানিকের মাকে বাজারের দিকে টেনে নিয়ে যায়। মানিকের মা দেখেন এক জায়গায় অনেক লোক, সবাই উপরের দিকে তাকিয়ে আছে.....
মানিকের মা উপরের দিকে তাকিয়ে পাথরের মত জমে যায়......
তার আদরের মানিক আজ মৃতদেহ, মাঝ-বাজারের ট্রান্সমিটারের উপরে ঝুলে আছে....!
মানিকের মায়ের বিলাপে পুরো বাজারের মানুষ স্তব্ধ হয়ে গেলো।
"বাজানরে তরে না-করছিলাম কারেন্টের কাম করিছ না। তরে কি কইছিলাম তুই জীবন দিয়া আমগো চিকিতসা কর.......ও বাজানরে আমি তো তরে কইছিলাম আমগো অসুদ লাগতো না, তুই শুধু দু'ইডা ডাইল ভাত খাওয়াইয়া আমডার জানডা বাচা........ তর বাপের অপারেশন আমার চিকিসসা অসুদ, কিছুই ত হইলনা বাজানরে জানডা দিয়া দিলি। তুই ছাড়া আমগো আর কে আছে ক?? অহন দুই মুট ভাত খাইয়া জানডা কেমনে বাচামু!! অ বাজান,,,,,, আমগোরে ফালাইয়া তুই কই গেলিরে......." কথাগুলো শেষ না করতেই মানিকের মা মূর্ছা গেলেন.......
মানিকের মা ভেবেছে তার ছেলে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতে গিয়েছিলো। পরে জানা যায় একটা চোরের সংঘবদ্ধ দল, ট্রান্সমিটার চুরির জন্য মানিককে মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়েছে, কারন তারা জানে সে ইলেক্ট্রিক এর কাজ জানে।
তাই মানিক তার বাবার অপারেশন, মায়ের ঔষধ এসব আনার জন্যই এই মরণ ফাঁদে পা দিয়েছিলো......."
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৮ রাত ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



