somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হলুদ শার্ট

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশরাফুল সাহেব একটা গার্মেন্টস ফেক্টরীতে এম.ডির পদে কর্মরত। মধ্যবয়ষ্ক ছিমছাম পরিপাটি সৌখিন একজন মানুষ।
খুব কাজ প্রিয়, সবার সাথে ভাল ব্যবহার করেন। তবে কাজে ফাঁকি দেওয়া, প্রতিষ্ঠানে কোন অনিয়ম তিনি কখনোই বরদাস্ত করেন না।
ইদানিং দেখছেন, লেবার ইউনিয়নের লিডার হেলাল খাঁন খুব কাজ ফাঁকি দিচ্ছে। দেরীতে আসে, বসে আড্ডা বাজি করে, কিছু বললে বলে, "বেতন বাড়ান"। অথচ কিছুদিন আগেও বেতন বাড়ানো হয়েছে।

আশরাফুল সাহেব তাকে বিদায় করে দেওয়ার কথা ভাবছেন, কিন্তু কর্মীদের কাছে হেলাল মিয়ার খুব ভাল পরিচিতি। তাই ভয় পান তাকে বিদায় করলে, সব কর্মী মিলে বিদ্রোহ না করে বসে।
আজ সকালেও হেলাল খাঁনের সাথে আশরাফুল সাহেবের ব্যাপক কথা কাটাকাটি হয়েছে।

ম্যানেজার মহিউদ্দিন আবার খুব মাইডিয়ার টাইপের লোক, সবার সাথে আন্তরিক।
এম.ডি সাহেবের সাথেও তার খুব খাতির। প্রতিদিন সকালে এসে সালাম জানিয়ে যাবে, এক সাথে নামাজ পড়বে। আশরাফুল সাহেবও ম্যানেজার মহিউদ্দিনকে খুব পছন্দ করেন।
দুপুর দুইটা বাজলে, পিয়ন শামসু মিয়া এম.ডি স্যারের জন্য চিনি ছাড়া এক কাপ কফি আর এক প্যাকেট সুগার ফ্রি বিস্কুট নিয়ে কেবিনে ঢুকে।
এই কফি আর বিস্কুট দিয়েই আশরাফুল সাহেব দুপুরের লাঞ্চ সারেন। তারপর রিভলভিং চেয়ারে হেলান দিয়ে, চোখবুঁজে কিছুক্ষণ রবীন্দ্রসংগীত শুনেন। প্রতিদিন এভাবেই রুটিনমাফিক চলে।

শামসু মিয়ার চিৎকারে সবাই এসে এম.ডি স্যারের কেবিনে জড়ো হলো। আশরাফুল সাহেবের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে........
পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
শহরের নামকরা গোয়েন্দা রাকিব আহমেদকে খবর দেওয়া হলো।
চোখে গোল্ডেন রিমের চশমা, জুলফিতে পাক ধরা, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, খুব ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন চেহারার মানুষ। রাকিব আহমেদ ঘুরেফিরে এম.ডি আশরাফুল সাহেবের অফিস রুমটা দেখছেন, মনে মনে উনার রুচির প্রশংসা করছেন।
ছোট ছোট মাটির পটারিতে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস লাগানো, টেবিলে বাইরের দেশের বিভিন্ন শোপিস সাজানো। পায়ের নিচের সবুজ কার্পেটটা যেন সত্যিকারের ঘাস। জানালাগুলো চমৎকার নীল থাইগ্লাসের। বাইরের রৌদ্রের আলো রুমটাকে আকাশের মত নীল করে রেখেছে....!

মি. রাকিব একে একে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন, "কে কোথায় ছিলো? কে কি করছিল? কে কি দেখেছে....?"এইসব।
ম্যানেজার মহিউদ্দিন বললো, "স্যার, আমি প্রতিদিনের মত পাশের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বসের রুমের দিকে চোখ পড়তেই দেখি, হলুদ শার্ট পড়া কেউ একজন স্যারের সাথে ধস্তাধস্তি করছে।
আমি দৌড়ে দোতলায় উঠতে উঠতে সব শেষ হয়ে গেলো......!"
সন্দেহের তীর গেলো লেবার ইউনিয়নের লিডার হেলাল খাঁনের দিকে, কারণ তার পরনে ছিল হলুদ শার্ট।
মি.রাকিব তীর্যকদৃষ্টিতে প্রশ্ন ছুড়লেন, "আপনি শিওর খুনির পরনে হলুদ শার্টই ছিলো?"
ম্যানেজার মহিউদ্দিন কনফিডেন্টের সাথে উত্তর দিলো, "স্যার আমি শিওর...।"

তৎক্ষনাৎ রাকিব আহমেদ আঙুল উঁচিয়ে বললেন, "ইন্সপেক্টর এরেষ্ট দ্যাট ব্লাডি ক্রিমিনাল।"

পুলিশ ইন্সপেক্টর, ম্যানেজার মহিউদ্দিন এর হাতে হাতকড়া পড়াতেই সে ভেবাচেকা খেয়ে বললো, "স্যার আমি তো হলুদ শার্ট পরিনি!!!"
মি.রাকিব হেসে বললেন, "আপনি মিথ্যা বলছেন মি.মহিউদ্দিন কারণ হলুদ শার্ট পরা কাউকে আপনি দেখেননি।

কিভাবে সম্ভব জানেন...?
আপনার বসের জানালার পুরু নীল কাঁচ এবং বাইরের রৌদ্রের আলো রুমে এসে রুম নীল হয়ে আছে। আর নীল আলোতে হলুদ কোনকিছু কখনোই হলুদ দেখায় না, বরং তা কালো দেখায়.....!"
কজ ইট'স অলসো আ পার্ট অফ আর ট্রেনিং দ্যাট, ওয়াট ইজ দ্যা ভেরিফিকেশন অফ কালার ডিফ্রেন্স ইন ডিফরেন্ট লাইটস।

মি.মহিউদ্দিন আপনার ট্রেপ ভাল ছিল বাট আনফরচুনেটলি ডিডেন্ট ওয়ার্ক!
আপনি বসকে শেষ করে সবকিছু নিজের হাতের মুঠোয় নিতে চেয়েছিলেন। আর দোষটা চাঁপাতে চেয়েছেন হেলাল খাঁনের উপরে......
আজ বসের সাথে হেলাল খাঁনের কথা কাটাকাটির সুযোগটা ভালই কাজে লাগিয়েছেন!

গুড ট্রায়....
ব্যাটার লাক নেক্সট টাইম......বাট, ইন দ্যা জেল।"
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:০১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×