somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছায়া-সুনিবির, সবুজ টিলায় ঘেরা ছোট্ট সুন্দর ক্যাম্পাসে সকলের আমন্ত্রন রইল

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৬ সালের ২রা নভেম্বর সিলেট সরকারী ভেটেরিনারি কলেজ থেকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের চতুর্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর একাডেমিক কার্যক্রম দুরন্ত গতিতে বৃদ্ধি পায়। ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের পাশাপাশি নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে কৃষি অনুষদ ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ। আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ। বর্তমানে আরও যোগ হয়েছে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, কৃষি প্রকৌশলী ও কারিগরি অনুষদ এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ। তাছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি বিশেষ ডিপার্টমেন্ট রয়েছে যা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেটের কথা চিন্তা করে ডিপার্টমেন্ট দুটি খোলা হয়েছে। এগুলো হল-(১) হাওর এগ্রিকালচার (২) কোস্টাল এন্ড মেরিন সায়েন্স। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি কিংবা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং আলাদা আলাদা করে পড়ানো হয় অথবা একসঙ্গেই কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়। একমাত্র সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথমবারের মতো বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পূর্নাঙ্গ অনুষদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো। ষষ্ঠ অনুষদ হিসেবে এ অনুষদ চালুর পর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি পূর্নাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশে পরিচিতি পেল ।

অনুষদের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস হয়ে থাকবে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এখন পর্যন্ত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ এবং মাৎস্য-বিজ্ঞান অনুষদ থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ৩টি করে ৬টি ব্যাচ বের হয়েছে। এদিকে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ থেকে ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। এরা সবাই এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে এবং বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছে । সদ্য গ্র্য্যজুয়েট হওয়া কৃষি অনুষদের তাজুল ইসলাম পলাশ বলেন-“ভাবতে ভালই লাগছে এখন থেকে আমি একজন কৃষিবিদ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মধুর সম্পর্কের কারনেই আমরা সফল হয়েছি।”
ছোটবড় টিলা পরিবেষ্টিত ৫০ একর আয়তনের মনোরম সিকৃবি ক্যাম্পাস। সবুজে ঘেরা, ছোট ছোট সবুজ টিলা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। “আায়তনে ছোট হলেও এর রূপ-সৌন্দর্য্য আমাদের হৃদয়ে আলাদা একটা টান ও ভালবাসা জন্মায়।”-ক্যাম্পাস সম্পর্কে নিজের অনুভূতি এভাবেই বলেন ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের সাদিদ আল আমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর আড্ডা হবে না সেটা কি হয়! কেউ কেউ আবার ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দেয় আড্ডা। এর মধ্যে ফুচকা চত্বর, জালাল মামার চায়ের দোকান, ট্যাংকির তলা, কাঁঠাল তলা, ক্যাফেটেরিয়া, টিলা-টালা, ইকোপার্ক ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।
এত প্রাপ্তির মাঝেও কিছু না পাওয়ার কথা থেকে যায়। এই যেমন ব্যাবহারিক ক্লাসের জন্য প্রস্তাবিত ১২.৬৯ একর জায়গা এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে সম্পুর্ন শিক্ষা লাভ করতে পারছে না। বাস নিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই। দুইহাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩টি বাস। ফলে যারা সিলেট শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসেন তারা পড়েন চরম বিপাকে। বাঁদুর ঝোলা হয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। ডাইনিং এর খাবার নিয়েও অনেক আপত্তি অনেকের। ভাল একটা খেলার মাঠ নেই। অডিটরিয়ামটাও ছোট। সবকিছু ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবী হয়ে উঠেছে- গবেষনার জন্য মাঠ। তবে এতো সংকটের ভেতর নতুন করে সম্ভাবনা জাগিয়ে, চলছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড। পুরো ক্যাম্পাসকে যেন ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড
১. গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা : ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা
২. যানবাহন ক্রয়: ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা
৩. আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ: ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা
৪. ভূমি ব্যবস্থাপনা ও খেলার মাঠ উন্নয়ন: ৬০ লক্ষ টাকা
৫. নতুন ছাত্রহল: ১৬ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা
৬. নতুন ছাত্রী হল: ৯ কোটি টাকা
৭. উপাচার্য বাসভবন: ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা
৮. প্রফেসর-কর্মকর্তা কোয়ার্টার : ৩ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা
৯. শিক্ষক-কর্মকর্তা ডরমেটরী: ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা
১০. কর্মচারী ডরমেটরী: ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা
১১. অতিথি ভবন: ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা
১২. অ-সম্পূর্ন ছাত্রহল সম্পূর্নকরন: ২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা
১৩. নতুন আরেকটি ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স ভবন: ১২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা
১৪. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার নির্মান: ৫ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা
১৫. ভেটেরিনারি ক্লিনিক নির্মান: ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা
১৬. অস্থায়ী খামার বাড়ি: ৫০ লক্ষ টাকা
১৭. অস্থায়ী মৎস্য প্রজননকেন্দ্র: ৫০ লক্ষ টাকা
১৮. অ-সম্পূর্ন ক্যাফেটেরিয়া সম্পূর্নকরন: ৫০ লক্ষ টাকা
১৯. নতুন রাস্তা নির্মান: ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কর্তা অর্থাৎ ভাইস চ্যান্সেলর এবং উপমহাদেশের বিখ্যাত সেচ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো: শহীদ উল্লাহ তালুকদার দেখালেন আশার স্বপ্ন-“আমি আসার পর নতুন দুটি অনুষদ চালু করতে পেরেছি। মাত্র কয়েক বছরে ছয়টি অনুষদকে সাথে নিয়ে সিকৃবি ঈর্ষনীয় সাফল্যের পথে হাটছে। সিকৃবির হাত ধরেই সমগ্র বাংলাদেশের তথা সিলেট অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লব আসবে। যার কর্ণধার হবে এই ক্যাম্পাসের যোগ্য কৃষিবিদ।”
বর্তমানে এক নজরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
১. ছয়টি অনুষদ
(ক) ভেটেরিনারি এন্ড এ্যানিমেল সায়েন্স
(খ) কৃষি
(গ) মাৎস্য-বিজ্ঞান
(ঘ) কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা
(ঙ) কৃষি প্রকৌশলী ও কারিগরি
(চ) বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

২. পাচটি হল
(ক) হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী হল
(খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
(গ) শাহ এ এম এস কিবরিয়া হল
(ঘ) আব্দুস সামাদ আজাদ হল
(ঙ) সুহাসিনী দাস হল

৩. প্রশাসনিক ভবন-১টি
৪. একাডেমিক ভবন-৩টি
৫. মিলনায়তন-১টি
৬. ক্যাফেটেরিয়া- ১টি

স্কুলে ভর্তি হবার পর বাবা-মা তাদের সন্তানদের মাথায় শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের ভূত ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু কৃষিবিদও ভাল একটি পেশা। শুধুমাত্র কৃষিবিদদের গবেষনা ও পরিশ্রমের ফলে কৃষক আজ টনকে টন ধান, পুকুর ভরা মাছ ঘরে তুলছে,মাংশ ও ডিমের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নয়ন করতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনার নাম। ছায়া-সুনিবির, সবুজ টিলায় ঘেরা ছোট্ট সুন্দর ক্যাম্পাসে সকলের আমন্ত্রন রইল।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×