somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের আম্বিয়া আপা ও মঞ্জু আপা

১৫ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনভর নাটকীয়তা শেষে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আবার ভিকারুন নিসা প্রশঙ্গে কথা বলছি।আসলে আজকে এমন একটা দিন গেছে যে আমরা আগের মুহুরতেও বুঝতে পারছিলাম না পরের মুহূর্তে কি হতে পারে। সে যাই হোক, আমরা সব ভিকিরাই বিশেষ করে যারা এই পুর বিশয়তার সাথে উতপ্রত ভাবে জড়িত তারা মিডিয়ার আচরণে যার পর নাই দুঃক্ষিত।

আজকে এতো রাতে ব্লগে ব্লগর ব্লগর কড়তে বসার কারন হচ্ছে আমাদের আপাদের সম্পর্কে কিছু বিষয় সবাইকে জানানো।প্রথমেই বলছি আম্বিয়া আপার কথা। আমাদের মন্ত্রনালয় বা বোর্ড যাই বলুক না কেনও, হামিদা আলি আপার পড়ে সব চেয়ে জনপ্রিয় প্রিন্সিপাল হয়ে থাকবেন ভিকারুন নিসার ইতিহাসে। এবং একি সাথে আমাদের আম্বিয়া আপা আমাদের ইতিহাসে সব চেয়ে কম সময়ের প্রিন্সিপাল। আপার কথা কি বলবো! আমি যদিও বরাবরই মানবিকের ছাত্রী ছিলাম, তাই বিজ্ঞানের শিক্ষকদের চেনার কথা আমার না।য়ার এতো বড় কলেজের সব শিক্ষক্কে চেনা মোটামুটি অসম্ভব। কিন্তু আপার মধ্যে এমন একটা কিছু আছে, যা আমাদের সবাইকে আপার প্রতি আকৃষ্ট করত। আপা অত্যন্ত স্পষ্টবাদী এবং সজা কথার মানুষ। কথার মারপেচ আপা জানেন না। আপা জখন আমাদের পরিক্ষার গার্ডে পরতেন, সারাক্ষন আমাদেরকে সততা আর নিতি নিয়ে কথা বলে যেতেন। আমার এখনও মনে আছে, আমাদের একদিনের পরীক্ষার গার্ডে আপা বলছিলেন 'সোনালি ৫ এ যেনও পোকায় না ধরে'।
আজকে আপাকে জড়িয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, আপা! দেখেন, সোনালি ৫ পোকায় কাটেনি। কারন আমরা আপনার ছায়ায় ছিলাম। আপা প্রচণ্ড নিয়মানুবর্তী একজন মানুষ। আমরা আপার কাছ থেকে শিখেছি স্মার্ট হওয়া। চুলের বেনি ঠিক নেই, হাতের নখ লম্বা, রুমাল নেই, জুতোটা ময়লা এমন অবস্থায় আপার সামনে যাবার কথা আমরা ভাবতেও পারতামনা।
স্রষ্টার প্রতি আপার সব সময়ই অগাধ ভরসা। মাথার স্কার্ফ ছাড়া আপাকে কোন দিন দেখি নি। কিন্তু আপার ধর্মচর্চা কখনই অন্ধ ছিল না। আপা সব সময়ই বিজ্ঞান মনস্ক একজন সচ্ছ মানুষ। যেকোনো মেয়ের যে কোন সমসশায় আপা আমাদের কাছের মানুশ। আজকে আমাদের সেই আপাকে মিডিয়া বানিয়ে দিয়েছে জামাত অনুসারী। তাদের মধ্যে মানবিকতার কি কিছুই অবশিষ্ট নেই? একটা মানুষকে কতটা কষ্ট দিয়েছে তারা কি তা জানে? শুধু আপা কেনও, এই কথায় কষ্ট পেয়েছি আমরা সবাই। পুর ভিকারুন নিসা পরিবার।মিডিয়ার এই এক কথায় দহাই দিয়ে আজকে আপাকে প্রিন্সিপালের পদ থেকে নামানো হোল। তারা কি জানে আপা এই পদ টা নিতেই চাননি। আপা যদি প্রিঞ্চিপাল হতেই চাইতেন তাহলে হসনে আরার আগে আমাদের যে আপা ছিলেন সেই সময়ই হতে পারতেন। কিন্তু আপা ক্ষমতা লিপ্সু নন কোন দিন ই।এই চেয়ারে আপা বসতে চাননি। আমরা ১৮০০০ মেয়ে, ৪৫০ শিক্ষক আর ২০০ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দের অনুরধেই আপা ঢেকি গিলে ছিলেন। আজকের সাংবাদিকরা এটুকু বুঝল না, যে কতটা ছাত্রী নন্দিত হলে একজন শিক্ষিকার কাছে প্রত্যেকটা মানুষ ছুটে যায়। আর তাই আজ যখন আমাদের আরেক আপা, মঞ্জু আপা প্রিঞ্চিপালের আসনে বসলেন, আপা তার উষ্ণ হৃদয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এবার আসি, মঞ্জু আপার কথায়। মাটির একজন মানুষ। ছাত্রী অন্ত প্রান। ভিকারুন নিসা নুন স্কুলের ইতিহাসের প্রধান। আমার গর্ব হয়, যে এমন একজন শিক্ষকের প্রত্যক্ষ ছাত্রী আমি। আপা জখন ইতিহাশ পরাতেন, মেসোপটেমিয়া, নিল নদ, মিসরিয়, এসেরিও সভ্যতাগুলো চোখের সামনে উঠে আসতো। আপা কোন দিন কোন ছাত্রির সাথে উঁচু গলায় কথা বলেছেন বলেও মনে হয় না। আজকে যখন এই মানুশটি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসলেন তখন মনে হোল যেনও সত্যি একজন মা আজ তার সংসারের হাল ধরেছেন।

আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কোনদিন কনরকম দলাদলি দেখিনি।আমরা ছাতির শিক্ষক সবাই একটা পরিবার। আজকে যখন মিডিয়া আর বাইরের কিছু মানুষ আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে চাচ্ছে তখন তাদেরকে ধন্যবাদই দিতে হয়। কারন, তারা আমাদেরকে আজ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, আমরা একে অপরকে কতটা ভালবাসি!



উপরের ছবিটা দেখুন, আমাদের আম্বিয়া আপা মঞ্জু আপাকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন। এটা আমাদের ভিকারুন নিসার সত্তিকারের সিক্ষকের পক্ষেই সম্ভব। এই সম্মান হসনে আরা চিনেই না! ছিঃ! আমি কাদের সাথে আক্র তুলনা করছি? আমাদের আপাদের তুলনা হয়না। এতো জঘন্ন কারো সাথে তো নাই!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১:৩৮
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×