ঘন্টা বাজছে, শুনতে পাচ্ছেন??
এটা আর বাজানো বন্ধ করা যাবেনা, বাজতেই থাকবে। যদিও আমরা জানতাম এটা বাজবে তবুও অনেক সুযোগ ছিলো এটা বিলম্বিত করার, বাজানোটা কিছুটা হলেও দূর্বল করার। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই আর কিছুতেই কিছু যায় আসবেনা।
এখন আর লকডাউন শব্দটার কোন অর্থ নেই। আমি ঘড়ির কাটার শব্দটা শুনছি আর ভাবছি এটার অর্থ কি আমরা যারা মানববোমার মত লুকায়িত করোনা নিয়ে বসে আছি আপনজনের সাথে। আপনি একবার ভাবুন, যদি দৈনিক একশত জনও যদি এই অবস্থায় করোনার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে ভীড় করে তা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলবে৷ সংকটময় পরিস্থিতে আক্রান্তদের নূন্যতম চিকিৎসা দেওয়াটাই তখন অসম্ভব হয়ে যাবে।
ক্রমশ পানিতে ডুবে যাচ্ছেন, কিন্তু ভেসে উঠতে পারছেন না। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শ্বাস নিচ্ছেন কিন্তু বুক ভরছেনা। এরকম অনুভূতির কথা জানিয়েছিলো ইতিপূর্ব্যে আক্রান্ত রোগীরা। একবার ভাবুন কেমন লাগবে এই অবস্থায়, আর আপনিতো এই সময় আপনার পাশেও কাউকে পাবেননা।সংক্রামনের ভয়ে আপনাকে সবাই দূরে ঠেলবে। চুপচাপ নির্ভৃত ঘরের কোনে, রাস্তায়, কোন ফুটপাথে অথবা সৌভাগ্যবান হলে হাসপাতালের বারান্দায় বা বেডে বিদায় নিতে হবে এই সুন্দর ধরনী থেকে।
কোন অভিযোগ করে লাভ নেই, কাউকে দোষারপ করারও কিছু নেই। গালি যদি দিতে চাই নিজেকেই দিতে হবে। এতো এতো সতর্কতার পরেও আমরা ক্রমাগত আমাদের একগুয়েমির পরিচয় দিয়ে গেছি। আমাদের চায়ের দোকানে আড্ডা না দিলে ভালো লাগেনা, তাজা সবজি ছাড়া খেতে পারিনা, সমাজের সবার সাথে না মিলে মিশে চলতে পারিনা!! । আর কতো???
ঘন্টা বাজছে, শুনতে পাচ্ছেন??
আমাদের খুব কঠিন একটা মূল্য চুকাতে ডাকছে।
আমি একটা মিরাকলের অপেক্ষায় আছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




