somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুয়া সমাচার (যারা এই লকডাউনে বুয়াদের মিস করছেন)

০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গৃহকর্মে সহযোগী বা বুয়াদের ধারনা অত্যন্ত প্রাচীন। কালের পরিক্রমায় বুয়ারা আজ অভিজাতদের হারেম থেকে মধ্যবর্তীদের বাসা আর ব্যাচেলরদের মেসেও নেমে এসেছে। সর্বস্তরে বুয়াদের আধিপত্য বজায় থাকলেও আমার সাথে বুয়াদের পরিচয় দীর্ঘকাল বাংলা সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো। সিনেমায় নায়িকার বুক ভাসানো গোপন কান্নার সঙ্গী হতো বুয়ারা। কাউকে কাউকে বৈপ্লবিক ভূমিকাতেও দেখা যেতো, বুর্জোয়াঁ চৌধুরী, পাটোয়ারীদের শ্রেণীশত্রু বিবেচনা করে অনেক বুয়াকেই পরবর্তীতে নিজেই বিশাল শিল্পপতি হয়ে উঠতে দেখা গেছে। এইসব কার্যকলাপ দেখে ছোটবেলা থেকেই বুয়ারা সংসারের কার্যকরী বিরোধীদল নাকি রাজপথ কাপানো বিরোধীদল তা নিয়ে ধন্দে থাকতাম।

বুয়াদের সাথে ব্যাপক আকারে পরিচয় হয় বাসা থেকে বেরোনর পর। আমি হলের বাসিন্দা হলেও সহপাঠী অনেকের বাসায় বুয়া ছিলো এবং তাদের সেই বুয়ার গল্প প্রতি সপ্তাহে একবার শোনা ছিলো বাধ্যতামূলক। প্রতিনিয়তই তাদের বুয়ারা ঝাল টক তরকারী রান্নার পাশাপাশি টক মিষ্টি ঘটনাও উপহার দিতো। বুয়াদের নিয়ে সবচেয়ে দুঃসময়টা মনে হয় পার করেছে বন্ধু রেজাউল। বুয়াদের গল্প বলতে এলেই মনে হতো তার মুখে সব শ্রাবনের মেঘ নেমে এসেছে, শুনতাম সে নাকি স্টুডেন্টকে ইতিহাস পড়ানোর সময় নাৎসী স্বৈরশাসক হিটলারের সাথে যুৎসই উদাহরন মিলানোর জন্য তার বুয়ার নাম উল্লেখ করতো। তার বুয়ার ছিলো মারাত্মক রকমের শুচিবাই, মেসের বিছানা সমকোনে না হয়ে বিষমকোনে কেন, কিচেনের একটা প্লেটে কেনো ঝোল লেগে আছে, ভোগবাদীদের মতো দুটো আইটেম খাওয়ার ইচ্ছা কেনো!! এসব নিয়েই প্রতিদিনই বুয়ার মুখের তৎসম শব্দ মিশ্রিত বাক্যাংশ শুনতো তারা। কেদে বালিশ না ভেজালেও হৃদয়ের গভীরে অশ্রু ঝরে যে তাদের খাবার হজম হতোনা তাই বা কে বলতে পারে।

তবে সকল বুয়ারাই যে হিটলারের জমজ বোন একথা আমি বলবোনা। অনেক বুয়ারাই আন্তরিকতার উচ্চ পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের মনে চীর উচ্চ আসনে আধিষ্ট হয়। ঢাকা থাকাকালীন একবার তরকারীর বাটিতে মাংসের ন্যায় খাবারে মাছের হাড়ের মতো উপাদান থাকায় স্মৃতিচারণ করেও যখন খাবারের হেতু বুঝতে পারছিলাম না, তখন বুয়াই আমাকে কৃতার্থ করে জানিয়েছিলেন এটা খাসীর মাংসের মাথা উনি ব্যাক্তিগত স্টাইলে রান্না করেছেন। প্রাণ তেল কোম্পানির গোপন ব্রান্ড এম্বেসেডর ছিলেন উনি, যদিও সকল বুয়াকেই আমি তেল কোম্পানির সাথে গোপন চুক্তিতে লিপিবদ্ধ হতে দেখেছি, তবে উনি ছিলেন ব্যাতিক্রম, উনি ছিলেন প্রানের একান্ত ভক্ত। ঢাকার বুয়ারা যে দেশ চালায়, বুয়াদের সিন্ডিকেট না দেখলে তা আপনার বোধগম্যই হবেনা। বুয়াদের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে আপনি সহজেই মেয়রের বাসার দুপুরের তরকারীতে ব্যবহৃত লবনের পরিমান জানতে পারবেন এবং ওই মূহর্তে কোন কাজে মেয়রের সমীপে যাওয়া উচিৎ কিংবা অনুচিত তাও নির্ণয় করতে পারবেন। শোনা যায় অনেক বুয়ারাই নাকি গ্রীন টি পরিবেশনকালীন মন্ত্রীদের দেশ চালানোর মতো গুরত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মেসের বুয়াদের সাথে সদস্যদের সম্পর্ক হয় সচরাচর খালা মামা স্টাইলে, কালকে হলুদ বেশি দিছিলা, লবন কম দিও টাইপের। সুন্দরী বুয়াদের আবির্ভাব ঘটলে দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়, তখন অনেক সদস্যকেই নিজেদের রান্না বিষয়ক পিএইচডির থিসিস শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লাগতে দেখা যায়। দেখা যায় বুয়ার সুচিন্তিত দিক নির্দেশনায় মেসের সদস্যরাই নিজ হাতে রান্না এগিয়ে নিচ্ছে।

আশাকরি বুঝতেই পারছেন, আমাদের সমাজে বুয়াদের প্রভাব কেমন। ঢাকা শহরের বুয়ারা স্ট্রাইক করলে বাংগালীর ওজন ২০% কমে যেতে বাধ্য। তাই বুয়াদের প্রতি আন্তরিক হোন, বুয়াদের এক্সপেরিমেন্ট রান্নাকে নিরুৎসাহিত করবেননা। রান্নায় গিনিপিগ হোন, মাংসের রেজালা কেনো মুলার চচ্চড়ির মতো লাগছে তা জিজ্ঞেস করে কারো সৃজনশীলতাকে বিনষ্ট করার মতো অবিবেচক হবেন না। হতে পারে আমাদের জেমি অলিভার, গর্ডন রামসেরা উঠে আসবে আপনার হেসেল থেকেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:২৭
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×