somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অধমকে মার্জনা করবেন...... ছোট মুখে বড় কথা বলছি!

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপরাধ গুরুতর!বলেছিলেন ‘জয় মা কালী,জয় ইনডিয়া”!

এই অপরাধে বুয়েটের ছাত্রলীগ নেতা সিয়াম হোসেন,ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, সাথে তাদের অনুসারীরা তাৎক্ষনিক বিচার করেছে অপরাধীর।বিলম্ব করার মতো ভুল তারা করে নাই!দেশের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্ররা জানে “জাস্টিস ডিলেড,জাস্টিস ডিনাইড”!

কনকের জোরালো থাপ্পর অপরাধীকে বিহ্বল করেছিলো কেন,সেটা নিয়ে বুয়েটের ল্যাবে গবেষণার দাবী রাখে মনে করিয়ে দিয়ে,শুভজ্যোতি,কনক,সিয়াম,আবু সাঈদ গবেষক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পরবর্তী ১০-১৫ মিনিট অপরাধীর মুখে ডিম ভেঙ্গে,সারা শরীর নোংরা করে,কিল থাপ্পর চুল টেনে মিস্টির প্যকেট থেকে একটা মিষ্টি তাঁর নাকে মুখে জোর করে করে ঢুকিয়ে আমোদে উল্লাশে শেষ করলো গবেষণা এই বলে যে “এটা তোর বাপ রাজাকারের ফাঁসির মিষ্টি” খা শুয়োরের বাচ্চা!রাশেদ নামের তারই আরেক ছাত্র কয়েকটা মিষ্টি তার পিঠে ডলে দিলো আদর করে!দলের নেতা “শুভজ্যোতি” সার্টিফিকেট দিতে চিৎকার করে বললো,শুয়োরের বাচ্চা আর কোনদিন পারলে মা কালী অথবা ইনডিয়ার নাম নিস।তখন তোর জিহবা টেনে ছিড়ে ফেলবো।আজকে ছেড়ে দিলাম?

অপরাধীকে চিনতে পারেন নাই এখনও আপনারা?পারার কোথাও না অবশ্য।আপনারা তো এখন অতীব ব্যাস্ত ফেসবুকে নারীর শ্লীলতাহানীর বিচার চেয়ে।সময় কে দাফন করার সময়ও এখন আপনাদের নাই!এই সুযোগ বাড়বার আসে না নিজের সভ্য পরিচয়ের আইডেন্টিটি জোগাড় কোরতে।যারা একটু বামে ক্যাঁৎ তারা ব্যস্ত সেরার আসনে বসতে।হাজার হাজার ছেলের ভীরে মাত্র তিনটা হিন্দু ছেলে,তাও আবার বাম ঘেঁষা,কি নিপুণতায় ও ত্যাগে রক্ষা করলো জাতীর ইজ্জত।ভাবা যায়?

সময় কথায় আপনাদের ঐ অপরাধীর পরিচয় জানতে?ওঁর পরিচয় জেনে তো আর আপনাদের সভ্য মানবের আইডেন্টিটি জোগাড় হবে না।নিজের ইজ্জৎ বাঁচবে না!উনি শিক্ষক,নাম অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম। দুর্ভাগ্যক্রমে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক!? Click This Link Click This Link

ঘটনা ঘটেছে ১২ই এপ্রিল,২০১৫। আজ পর্যন্ত দেশের প্রথম সারির কোনও খবরের কাগজে ঠাই হয় নাই ঐ অধমের।হাজার হাজার ছেলেদের ভীরে সামান্য ১৫-২০ টা কুলাঙ্গারের দ্বারা দু’তিনটা মেয়ে বা মহিলার
নিগৃহীত হওয়া যে আলোড়ন তুলেছে,একটা প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষককে তারই ছাত্রদের দ্বারা লাঞ্জনা,অপমান,মারধর আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না?এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের(ঢাবি ও বুয়েট) তিন দিনের পার্থক্যে দুইটা ঘটনা এবং আমাদের সেই দুই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন চেতনা/প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত পরিষ্কার কিছু বার্তা এই দেশের ভবিষ্যতের জন্য রেখে গেলো!১লা বৈশাখে যে কয়জন ছাত্রের কুকাম যদি গুরুত্বপূর্ণ হয় হাজার হাজার মানুষ গড়ার কারিগরের উপর অন্যায়,অবিচার,আক্রমন ও লাঞ্জনার থেকে তবে আজকে যারা শ্লীলতাহানি বলে লজ্জায় মুখ ঢাকছে ভদ্রতার মুখোশ পরে,গত ৫-৭ বছর ধরে একের পর এক ঘটনাকে অস্বীকার করে,তাদের জন্য আমার করুনাকে আমি উঠিয়ে নিলাম।

বেচারা প্রকৃতির কিছুই করার নেই আসলে।সব প্রতিক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।কোনও কিছুই হটাত করে ঘটে না।সব ঘটনারই পিছে অনেক ছোট ছোট ঘটনা থাকে,যে গুলো ভবিষ্যৎ অনুমান করার উপাদান আসলে।আমরা শিক্ষা নেই নাই আগে,এখনও নিচ্ছি না।কিন্তু অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ হবে?

এই জাতীর ইতিহাসে অনেক বড় ঘটনার জন্ম নিতে সমস্ত উপকরণগুলো একে একে মিলছে!সব তারকা,গ্রহ নক্ষত্র যেমন কালো গহ্বরের(ব্ল্যাক হোল) দিকে প্রচন্ড আকর্ষণে নিশ্চত হারিয়ে যেতে ছুটে যায় দিগ্বিদিক ভুলে,তেমনি নিশ্চিত একটা নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে এই দেশ ছুটে চলছে।সে পরিণতি ততোটাই ভয়াবহ হবে যতোটা গত পাঁচ-সাত বছর থেকে এই রকম অনেক ছোট ছোট ঘটনার সম্মিলিত ফলাফল!হ্যঁ আমি এই শ্লীলতাহানি,শিক্ষক নির্যাতন,প্রতিদিন অন্তত ৩-৫টা ধর্ষণ,প্রকাশ্যে অসংখ্য খুন,দিনে দুপুরে গায়েবী বাহিনী দ্বারা সাধারণ এবং বিপরীত চিন্তাধারার মানুষকে হাওয়া করে দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আমরা কেউ কিছু জানি না বলে দায়িত্ব শেষ করে পান চিবুতে চিবুতে একের পর এক মিথ্যা কাহিনী আর ইতিহাসের জনম দেওয়া,প্রতিদিন অন্তত একটা বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার,ক্রস ফায়ারের নামে বিরোধী মতকে বিলুপ্ত করার মতো সব ঘটনাগুলোকে ছোট ছোট ঘটনাই বলছি!দুঃখিত,সন্মানিত মানুষদের যেমন,মুজিব,জিয়া,ইউনুস,প্রাক্তন সিইসি,আকবর আলী,ব্যারিস্টার রফিক ইত্যাদি মানুষগুলোকে অপমান,অসন্মান কে আমি ছোট ঘটনা ভাবতে পাড়লাম না।৭-১০ বছর আগেও এই রকমের ঘটনা ঘটেছিল,তবে তা ছিল এই ৫-৭ বছরের থেকে আরও অনেক ছোট্ট ছোট্ট!মনে করে দেখেন,কারন এই অধম তো ভুল বলতেও পারে।

আমাদের কল্পিত জাতীয়তাবোধ,দেশ প্রেমের গাল গপ্প,ধর্মের অনুভূতি নিয়ে নামাজ কালাম কোনও কিছুই সেই ছোট্ট ছোট্ট ঘটনাগুলোকে আজকের এই ছোট ছোট ঘটনায় নিয়ে আসাতে আটকাতে পারে নাই!৪০ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার ছিল এই দেশে। এখন আছে:
১)স্বাধীনতার পক্ষ আর বিপক্ষ শক্তি!
২)বাংলাদেশি ও বাঙ্গালী জাতীয়তা চেতনা শক্তি!
৩)শুভ এবং অশুভ শক্তি!
৪)ফাকিস্তান মুর্দা যাক বলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম শক্তি!
৫)চেতনায় বলিয়ান কিছু চেতনাবাজ শক্তি!
৬)ভারত লেহন করা শক্তি!

এই সব “শক্তি” আমাদেরই ৪০ বছরের অর্জন!আমরা আরও শক্তি অর্জনের দিকে ধাবিত হচ্ছি বিপুল উৎসাহে!নাস্তিক শক্তির ছদ্মবেশে ধর্মকে আক্রমণকারী শক্তি(বিশেষকরে ইসলাম ধর্ম),নারী-পুরুষ পরিপুরক থেকে উভয়কে প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর শক্তি!ইত্যাদি আরও কিছু শক্তি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে যেমন, সমকামী ও লেসবিয়ানদের প্রমটকারি শক্তি!অবাধ মেলামেশা ও অবৈধ যৌনাচারকে প্রতিষ্ঠিত করার শক্তি! আরও একটা বৃহৎ শক্তি আছে,যার ছায়ায় বাকী সব করে রব!বিএনপি ও বাআল শক্তি!

আশ্চর্যজনক সত্যি হছে,উল্লেখিত শক্তিগুলোর মধ্যে একটা সাধারণ মিল আছে!তারা সবাই ভদ্রতার মুখোশ পড়ে বিবেকের ফেনা তুলে একে অপরের রক্ততে স্নান কোরতে উল্লাশিত বোধ করে!কেউ হয়তো কারও ঘাড়ে বন্দুক রেখে আর কেউ নেতৃত্ব দিয়ে অপরকে ধ্বংস করাটা দায়িত্ব মনে করে!

দেশে এখন Brazzers এর টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে,দাম মাত্র ৩০০ টাকা! http://goo.gl/6U1rau আপনি জানেন না Brazzers(http://en.wikipedia.org/wiki/Brazzers) কি?হাসালেন,জানেন জানেন,শুধু শুধু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন!এখন তো সবার সেল ফোনে দু চারটা Brazzers এর ভিডিয় থাকে।বেচারা ধানমন্ডি লেক কত্রিপক্ষ সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে “সন্ধার পরে যুবক-যুবতিদের প্রবেশ নিষেধ”! সংখ্যা লুঘু পরিচয়দানকারীরা(৮%-১২%)এখন গোটা দেশ কে শাসন করছে!যেভাবে কালো আফ্রিকাতে সাদারা শাসন করেছে! পরিণতি তো আমরা জানি। কি জানি না?

এক মুজিবের রক্ত থেকে কতো ধর্ষক মানিক,সিয়াম,শুভ্র জ্যোতি,আবু সাঈদের জন্ম নিয়েছে তাতো মিথ্যায় ভরে বিকৃত হয়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া এই সময়ের খবরের কাগজে এখনও প্রতিনিয়িতই আসছে!যেহেতু আমরা এখন দেখছিনা,মানছি না বা আমার মতের,সেহেতু তারা নাই!

এক জিয়ার রক্ত থেকে কতো জিয়ার জন্ম নিবে এবং কাদের মোল্লা,কাম্রুজ্জামানের রক্ত থেকে কতো লক্ষ্য মোল্লা,কাম্রুজ্জামান এখন মাতৃগর্ভে তা জানতে একটু অপেক্ষা কোরতে হবে।ছোট ছোট বালু কণা বিন্দু বিন্দু জল……………………

কোনও কিছুই এক দিনে বা লহমায় হয় না,অপেক্ষা কোরতেই হয়,পছন্দ হউক বা না হউক!আমি শুধু মনে করিয়ে দিলাম,পরে বলবেন না যেন “এই আমার দেশ”?“এই রকম তো হবার কথা ছিল না”?“এই লজ্জা রাখি কথায়”?! আগেও মনে করিয়ে দিয়েছিলাম(Click This Link ), http://samaj-wwwsamaj.blogspot.com/ কাজ হয় নাই,জানি এবারেও হবে না।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×