somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামি দল এবং ব্যাক্তিত্ব- বর্গের এবছর হজ্বের দুর্ঘটনায় ? চুপ থাকার কারন

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি এই পর্যন্ত কোন বছর হজ্ব করে ফেরার পর হাজিদের এমন মলিন মুখ দেখিনি বা এমন প্রতিক্রিয়া দেখিনি। তারা জানায় সউদি সরকারের অব্যবস্থাপনার কথা। একজন মহিলা কেঁদে কেঁদে বলছিলো, “দুর্ঘটনার সময় পাশেই ছিলাম, সারা পৃথিবি থেকে লক্ষ মানুষ আল্লাহের মেহমান গেছেন সেখানে পায়ে হেঁটে আর রাজার পুত্রের গাড়ি বহরের জন্য একটি রাস্তা বন্ধ করে দিলো তখন মানুষ হুরোহুরির মধ্যে পড়ে যায়। এবং......।। প্রচণ্ড গরম পড়েছিলো কিন্তু আমাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ছিল না। আমাদের সাথে কথাও বলছিলো বাজে ভাষায়”। এর আগে ক্রেন ঘটনা। টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হচ্ছিলো, তাদের ইঞ্জিনিয়ার-রা কি জানতো না ক্রেন আছে এবং এভাবে বৃষ্টি হলে তা ভেঙ্গে পড়তে পারে? এটা ইঞ্জিনিয়ার না একটা সাধারন সেন্স থাকা প্রাইমারি স্কুল ফেল করা মানুষেরও আছে। এতকিছুর পরও দেশের ইসলামি ব্যক্তি বা দল গুলো মুখে কুলুপ মেরে বসে আছে, কিছুতো বলছেই না উল্টা ইরান/ইন্দোনেশিয়া এর প্রতিবাদ করেছে বলে তাদের নানান রকম বিশেষণে বিশেষায়িত করছে। এবং সউদি রাজারা কেন এবং কিভাবে মহান তার বর্ণনা করছে।

মাথায় ঘুরছিলো, কেন তারা চুপ? কেন তারা কিছু বলছে না? উওর খুঁজতে গিয়ে যা পেলাম। তা অসাধারন-
আমি একবার আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সিটিউটে আরবি ভাষার উপর একটি কোর্স করেছিলাম। আরবি বিভাগের একজন সিনিয়র এবং বিখ্যাত অধ্যাপক আমাদের ক্লাস নিতেন। তিনি সউদি রাজার আমন্ত্রনে হজ্ব করতে গিয়েছিলেন সেই বছর। একদিন ক্লাসে আমাদেরকে তার সউদি রাজার আমন্ত্রনে হজ্ব করার গল্প শোনালেন।
...... প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১০০ জন বিশিষ্ট ইসলামি ব্যাক্তিত্ব বা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাজা দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যান হজ্ব করতে (প্রতিটি মুসলিম দেশ থেকেই এভাবে দাওয়াত দেন) । আমাকে রেখেছিলো সেই দলের প্রধান। বিমানের টিকেট সহ যাবতিয় খরচ বহন করেছে সউদি সরকার। জেদ্দা নেমেই দেখি মার্সিডিজ গাড়ি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের নিয়ে গেল একটি ৫ তারকা হোটেলে, হারমাইন শরিফ থেকে একদম কাছে। হজ্ব পালনে আমাদের বিশেষ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছিলো। মিনাতে আমাদের জন্য আলাদা আলাদা তাবু ছিল। তাবুগুলোও ছিল ৫ তরকা তাবু। এসি, ফ্রিজ, টিভি সবই ছিল তাবুতে। মক্কা থেকে যখন মদিনাতে যাই সাবাই যায় গাড়িতে আমাদের জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা ছিল। মদিনায় নিয়ে আমাদের অনেক কিছু ঘুরে দেখালো। সর্বশেষ ক্রাউন প্রিন্স আমাদের সম্মানে ডিনারের আয়োজন করলেন। দেখা করেলন। সব টিম লিডারের সাথে ২-১ মিনিট কথা বলেন। এর পর খাবার পালা। সেটা ছিল এলাহি কাণ্ড কারখানা। আমাদের প্রত্যেকের সামনে বুফে ছিল। দুনিয়ায় এমন কোন মাছ মাংস নেই যা ছিল না। আস্ত দুম্বাও ছিল। কমপক্ষে ৩০-৪০ জন খেতে পারবে এত্ত খাবার। খেলাম। হজ্ব পালন শেষে মক্কায় আমাদের ঘোরালো। সউদি বাদশা আমাদের জন্য কিছু উপহার দিলেন। তারপর আমারও সউদি আরবের প্লেনেই দেশে ফেরত আসলাম”।

এবার আরও কিছু যোগ করি। বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্য আরও নির্দিষ্ট করে বললে সউদি রাজপরিবারের প্রভাবিত কয়েক ডজন এনজিও রয়েছে যেমন রাবেতা, রিভাইরাল অব ইসলামিক হেরিটেজ, ওয়ামি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব এনজিওর উপদেষ্টা/পরিচালক হিসেবে থাকেন বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিগন এবং ইসলামি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এদের মাসেহারা নেহাত কম নয়। এছাড়া ইসলামি দল গুলোর (নির্দিষ্ট করে বললে জামায়াত) যে সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আছে যেমন ইবনে সিনা, ইসলামি ব্যাংক, সংগ্রাম এসব প্রতিষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যই সহজ শর্তে প্রচুর লগ্নি করেছে। এদের জন্ম হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের টাকায়। এসব প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টার পদগুলোও অলংকিত করে আছেন তারাই। [যেমন ইসলামি ব্যাংকের শরিয়া বোর্ড]
আমার সব কথা ইতি টানছি এভাবে, যদি দেখেন ইসলামি ব্যক্তিত্ব গন বা দল সমূহ যদি সউদি রাজ রাজাদের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন তাহলে বুঝবেন তারা সউদি রাজার ওই দাওয়াত খেয়ে আসা মানুষ বা তাদের রিয়াল ভোগি বা তাহা পাওয়ার আশায় নিবিষ্ট মনে তাদের প্রভু সউদি রাজ রাজাদের প্রশংসায় মগ্ন।
পুনশ্চঃ
 এটা আমার মত। দাবি করছি না এটাই একামাত্র সঠিক মত।
 যেকোন যোক্তিক এবং তথ্যভিওিক সমালোচনা স্বাগতম।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৪০
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×