somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এপ্রিল ফুল ভুলে যান, মুসলিম স্পেনকে না

৩১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদম ছোট বেলায়ই এপ্রিল ফুলের গল্প শুনেছিলাম [কম-বেশি সবাই এটা শুনেছে]। গল্পটা এমন খ্রিস্টান সেনাবাহিনি স্পেন জয় করে মুসলিমদের বলে তোমরা মসজিদ গিয়ে আত্নসমর্পণ তাহলে তোমাদের মাফ করে দেবো। সবাই তাই করে। তখন তাদের আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। দিনটা ছিল এপ্রিলের ১ তারিখ। এখান থেকেই এপ্রিল ফুল পালন শুরু হয়।
ঘটনাটা পুরাটাই মিথ্যা। এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। এটা ইউরোপের সাধারণ একটি উৎসব দিন [https://goo.gl/LzyvAX]।
তবে, স্পেনে এক সময় স্পেন ছিল মুসলিম দেশ। ৭১১ সালে তারিক বিন যিয়াদ মাত্র ৭০০ সদস্যের একটি বাহিনি নিয়ে গথিক রাজা রাডারিককে পরাজিত করে মুসলিম খিলাফাতের সূচনা করেন। এরপর যা হয় ইতিহাস। মুসলিমরা স্পেনের বুকে ইউরোপ তথা পৃথিবির ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধতম সভ্যতার একটি গড়ে তোলে। যখন পুরা ইউরোপ নানা অন্ধকারে ডুবে ছিলো। তখন স্পেন ছিল কমপক্ষে ১৫০০ বছর এগিয়ে। কর্ডোভা হয়ে উঠে ইউরোপের সবচাইতে সমৃদ্ধতম শহর। প্রায় ৫০০০ ফ্যাক্টারি ছিল শুধু কর্ডোভাতেই, যেখানে বাকি গোটা ইউরোপে একটিও ছিল না। ইউরোপের ৯৯ ভাগ লোক ছিল নিরক্ষর, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা ছিল নিষিদ্ধ, গ্যালিলিও সহ শত শত বিজ্ঞানিকে বিজ্ঞান চর্চার অপরাধে হত্যা করা হচ্ছিলো [https://goo.gl/qF3pxy]। চার্চ লক্ষ লক্ষ মেয়েদের ডাইনি বলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো [https://goo.gl/qF3pxy]। সেই সময়ে শুধুমাত্র কর্ডোভাতে ছিল ৮০০ সরকারি স্কুল, কয়েকশত বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে দর্শন, বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয় নিয়ে পড়ানো হত। ইউরোপে গোসলকে ঘৃণা করা হতো, আর কর্ডোভাতে ছিল ৯০০ পাবলিক বাথ। দশম শতকে কর্ডোভাতে ছিল ৭০০ মসজিদ, ৬০,০০০ প্রাসাদ, ৭০ টি লাইব্রেরী যার সবচেয়ে বড়টিতে ছিল ৬ লক্ষ বই। অন্যদিকে সে সময়কার ইউরোপে সবচেয়ে বড় লাইব্রেরীতে ৪০০ এর বেশী ম্যানুস্ক্রিপ্ট ছিল না। ১৪০০ শতকের শেষে ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে ছিল মাত্র ২০০০ টি বই। তৎকালিন আন্দালুসিয়ায় প্রতি বছর ৬০ হাজার পুস্তিকা, কবিতা, সংকলন ইত্যাদি প্রকাশিত হত, যেখানে স্পেন এখন প্রতি বছর ৪৬,৩৩০ বই প্রকাশ করে থাকে (১৯৯৬ সাল পর্যন্ত) [https://goo.gl/7iySmK] ।
এরপর ১৪৯২ সাল,
পর্তুগালের রানি ইসাবেলা এবং অস্ট্রিয়ার রাজা ফারডিন্যান্ডের সেনাবাহিনির হাতে মুসলিম স্পেনর ঘটে। মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল সবই ধ্বংস করা হয়। হত্যাজজ্ঞ চলে মুসলিমদের উপর প্রথম ক্রুসেডের পর জেরুজালেমে যেভাবে চালানো হয়েছিলো সেভাবে। এর পর যেসব মুসলিম হত্যাজজ্ঞ থেকে বেঁচে যায় তাদের স্পেন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জাহাজে উঠিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তবে সব শিশুদেরকে মা মেরির সন্তান বলে রেখে দেওয়া হয়। দাস বানানো হয়। জোর করে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তারিত করানো হয়। এখানেই শেষ না, কিছুদিন পর তারা খ্রিষ্টান বানানো শিশুদের করা হয় দ্বিতিয় শ্রেণির নাগরিক। নাম দেওয়া হয় মরিসকো। যাদের কোনরূপ নাগরিক বা আইনি অধিকার ছিল না। পরে এদের বেশিরভাগ অটোম্যান খিলাফতে আশ্রয় গ্রহণ করে।
...............।।
এভাবেই পৃথিবির ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধতম একটা সভ্যতার নির্মাতাদের নিশ্চিহ করে ফেলা হয়।
তাই এপ্রিলফুল ভুলে গেলেও মুসলিম স্পেনকে ভুলে যাবেন না......।।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:৫৬
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×