somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় পরিচালকগণ : 1

২৯ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়ং কার ওয়াই (Wong-Kar Wai)
স্থান ও কালের তারল্য : 1

আমার ওয়ং দেখা শুরু হয় 'ইন দ্য মুড ফর লাভ' ছবিটি দিয়ে । প্রথম দর্শনেই এক ঝটকায় ছিটকে যায় আমার অভ্যস্ত ইউরোপীয় সিনেমা পঠনপদ্ধতি , চশমা , স্থান ও কালের সীমানাগত বোধ । ব্যক্তিগত স্থান ও সময়বোধের স্বচ্ছন্দ , চৌকশ , মেপে নেওয়া পরিচিত গন্ডীর মধ্যে বাসরত পরিচিত চেতনা গুলি কেঁপে ওঠে । 'পরিচিতি এক ধরণের স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করে' - এ ভ্রান্তির সত্যতা থেকে জন্ম নেয় পরিচিতির এক অপরিচিত অস্বাচ্ছন্দ্য । ওয়ং-এর ছবি স্থান নির্ভর , শহর নির্ভর - হংকং নির্ভর বলতে হয় আরো শুদ্ধ করে বলতে গেলে । ওয়ং-এর ক্যামেরার গতিবিধিও নির্মোঘ আদেশের মতো নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে শহরের claustrophobic সরু করিডোরে আর বাক্সের মতো ফ্ল্যাটঘরে - এদিক থেকে ওদিক ঘুরতে গিয়ে ওয়ং প্রায় যেন দেওয়ালে , দরজায় , সোফায় , কোলে রাখা টিভিতে ধাককা খেতে গিয়েও খান না - কারণ চরিত্রগুলির স্থানাভাবজনিত পরিচিত অস্বাচ্ছন্দ্য তখন উঠে আসতে থাকে ক্যামেরার গায়ে ।

এর মধ্যেই আবার এক আশ্চর্য স্মৃতিনির্ভর সম্পাদনা রীতির সামনে আমাদের ছেড়ে দেন ওয়ং । ওয়ং-এর প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব কাহিনীগুলি গড়ে ওঠে অসংখ্য নিকট ও দূর অতীতের স্মৃতিবিন্দু দিয়ে ভরে তোলা ছোটো ছোটো ছবির সমষ্টি হিসেবে - যে ছবিগুলি প্রতিটিই ব্যক্তিগত ও তাই অসম্পূর্ণ । চরিত্রগুলির এইসব ব্যক্তিগত স্মৃতির স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতার উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে ছবির লয় । ফলতঃ ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠতে থাকে পরিচিত বাক্সগুলি , কোণগুলি , দরজা ও ঘুলঘুলিগুলি আর ওয়ং 8 ফুট বাই 6 ফুট কোনো ঘরের মধ্যে বসে সময়ের স্মৃতি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ক্রমাগত বদলে দিতে থাকেন ক্ষেত্রমিতি ।

শারীরিক স্থানের এই চুড়ান্ত অভাবের ফলে ওয়ং যেন বাধ্য হয়ে মানসিক স্থানের অপরিমেয়তাকে বেছে নেন তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে । আর এই মানসিক স্থানবোধ ক্রমেই দানা বাঁধতে থাকে চরিত্রগুলির দূর ও নিকট স্মৃতির যোগাযোগ আর পারষ্পরিক আপাতবিচ্ছিন্নতার উপর ভিত্তি করে ।

ওয়ং-এর ছবিতে চরিত্র কম , প্রতিটি চরিত্রই মূল চরিত্র , আর প্রতিটি চরিত্রই যেন একটি স্পষ্ট অথচ এলোমেলো দাগ - যার শুরু ও শেষ ক্যানভাসের বাইরে ।

(চলবে)
------------------
Wong Kar Wai : Liquidity of Time and Space
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:১৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×