অবিন্যস্ত সময়গুলি - সকাল
ভোর হলো । আর আকাশ উঠতেই দ্যাখা গ্যালো তার গায়ে গরম ইডলীর মতো ধোঁয়া ওঠা সাদা সাদা দাগ । চোখের পাশে জমে থাকা গতরাত্রের বাসি শ্রমের রঙ তখন রক্তের মতো ঘোলাটে সাদা । দূরে কোথাও সত্যি সত্যি ঘন্টা পড়ছে , গীর্জা হতে পারে । ঘড়ি পড়িনি ব'লে সময় মেলানোর কথা মনে পড়তে চোখ রাখি রাস্তায় । পৃথিবী সুবিধাজনক ভেবে আমরা এখন সুখী হয়ে উঠতে শুরু করেছি । দারুণ ।
অবিন্যস্ত সময়গুলি - দুপুর
সময় এখন রাতের মতো গাঢ় হচ্ছে । গলে যাচ্ছে ; যেভাবে চ্যাটালো রোদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলে ক্রমে গলে যায় পীচ । যাবতীয় চাকার অবশ্যম্ভাবী বৃত্তগুলি কি এক আশ্চর্য নিয়মে সরলরেখা হয়ে উঠছে আর উঁচু ক্ষতচিহ্নের মতো অসংখ্য দাগ রেখে যাচ্ছে এলোমেলো বিজ্ঞাপনে টায়ার কোম্পানীর হাসি হাসি মুখে । দূরে কোথাও যাওয়ার কথা হচ্ছে । ভোঁ বাজলেই সটান - চাকা ও দাগ নিয়ে ছুটে যেতে হবে । তর্জনী ছুঁয়ে থাকবে পৃথুল সূর্যকে । যেন ট্রাম , গতিপথ নির্দিষ্ট ।
অবিন্যস্ত সময়গুলি - বিকেল
এ মুহূর্তে রাস্তা দ্যাখার কথা । চোখ ও চামড়া দিয়ে আমাদের গতিবিধি বুঝে নেওয়ার কথা । সামনে হলুদ আলো , গোল গোল , চ্যাপ্টা ছাতার মতো হতে গিয়েও মনে পড়ে আমাদের এখন ফেরার কথাা আছে । আমাদের প্লাস্টিক , বাজারের ব্যাগ হাওয়া ও রাস্তার মাঝেই অওয়াজ করতে থাকে । নাভিহীন পেটের মতো পাঁচরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের সারি সারি কব্জির হাড় । মাংসও । চামড়া চোখে লাগিয়ে নিই । আমাদের না-ধোওয়া টিফিন বাক্স জুড়ে এখন শুধু ঘরে ফেরার তাড়া ।
অবিন্যস্ত সময়গুলি - রাত
চোখ খুলতেই চোখে পড়ে হাড় । ঈষৎ ছাইয়ের মতো । হালকা মাটি ও মানুষ গন্ধ চোখের সামনে ভোরের ধোঁয়ার মতো লেগে থাকে । আমার মাথা ও অন্যান্য মাংস জুড়ে গন্গনে লাল হয়ে ওঠে ধূপকাঠি , ফুল ও জল , আজেবাজে খাট । অগুরু ও আতর পোড়ে ; রেললাইনের পাশে বসে থাকতে থাকতে গড়ে ওঠে স্কুলগেট , ভোরের বাস , ট্রামরাস্তা ।
(2000)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৯:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



