ঠিক করেছি এবার কিছু অন্য কথা হোক । অন্য মানে যা সচরাচর লিখি না । সাদা মাটা অগভীর লেখা । বাক্যগঠনের মার প্যাঁচ নেই যাতে অহেতুক ; শিল্প নেই ; সচেতন গঠনপ্রচেষ্টাও । বক্তব্যও নেই তেমন কিছু , তত্ত্বকথার কচকচি বাদ । এমনকি বিষয়ও নাই থাকতে পারে ! আসলে 'বিষয়' এ বিষয়টিই বড় জটিল বিষয় । তবু তো 'বিষয়'-এর মানে ধরলাম সাবজেক্ট ।
বিষয়হীন লেখার কথা ভাবতে শুরু করলাম । মনে করার চেষ্টা করলাম খুব । আশ্চর্য প্রথমেই মনে পড়লো ইশকুলের বাংলা রচনার কথা । অথচ বাংলা রচনা তো বিষয়হীন হতো না , বরং ইয়া গোব্দা এক একটা বিষয় যেন বাঁশ নিয়ে অপেক্ষা করতো পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে । তবু বিষয়হীন লেখা ভাবতেই প্রথম রচনার কথা মনে পড়লো কেনো? তাহলে কি বাধ্যতামূলক বিষয়নির্ভরতা এক ধরণের বিষয়বিমুখতার জন্ম দ্যায় ?
বাদ দেই বাধ্যতামূলক বিষয়নির্ভরতাজনিত বিষয়বিমুখতার কথা । বিষয় থাকলেই বা কি , না থাকলেই বা কি! লেখাটি নিজেই তো একটি বিষয় হয়ে ওঠে হামেহাল । অন্তত আমি তো তাই দেখি । শুধু লেখা কেন , মনুষ্যরচিত যে কোনো শিল্পবস্তুই তো তাই । সারি সারি সব বিষয়হীন শিল্পবস্তুযারা নিজেরাই এক একটি চমৎকার বিষয় ।
এ কথাগুলি এলোমেলো লেখার পরেই খামোখা গোলে পরলাম । গোল মানে গন্ডগোল । গন্ডগোলের বিষয় শিল্প ও শিল্পবস্তু । গন্ডগোলের বিষয় থাকতে পারে কিনা এবং বিষয় না থাকলে গন্ডগোল শিল্পবস্তু হতে পারে কিনা , এসব তর্কে না গিয়ে বরং সুবিধাজনক মনে হলো , শিল্পবস্তুর গন্ডগোলে বিষয়বস্তুর ভুমিকা ও গন্ডগোলের বিষয় হিসেবে শিল্পবস্তুর ভুমিকা - এ দুটি বিষয় নিয়ে ভাবা । অবশ্য ভাবা সুবিধাজনক মনে হলেই ভাবতে হবে এরকম কোনো নিয়ম নেই । ফলত, ঘুরে ফিরে আমড়াতলার মোড়ে এসে দাঁড়ানোর মধ্যেও বিষয়বিহীন শিল্পবস্তু খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ।
আসলে সবই সচেতন ও অবচেতন বিনির্মাণ । শিল্প , বিষয় , গন্ডগোল , এমন কি আমড়াতলার মোড়ও ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




