নীড়পাতা শব্দটি প্রথম শিখেছিলাম এই সাইটে এসে আর ভারি মায়া পড়েছিলো শব্দটির কোমল শরীরের উপর । আর নীড়পাতাতেই চোখে পড়েছিলো ক্যামন চমৎকার ফুটে আছে থরে থরে প্রিয় হরফসারি , টানা ও বেত্রবৎ ঋজু বাংলা অক্ষরাবলী , যার প্রেমে পড়েছিলাম সেই কবে শ্লেট-পেনসিলে দাগা বুলিয়ে যেদিন প্রথম তৈরী করেছিলাম পাকানো পাকানো পাকানো আঁকিবুঁকি , গোল গোল , 'অ' লেখার অছিলায় ।
প্রায় 32 বছর আগে বাবা অফিসফেরতা কিনে এনেছিলো কাঠের বাংলা হরফ , বড় বড় , নীল-বেগুনী , লাল ও সবুজ অক্ষরগুলি ঝুলতো আমাদের ভাড়াবাড়ির এঁটো দেওয়ালে দিনভর , রাতেও । ফলতঃ আমার হরফ চেতনায় শুরু থেকেই মিশে যেতে থাকে রঙ ও দৃশ্যোপদান , দেওয়ালে আঁটা নীল-বেগুনী বর্ণমালার আলগা দুলদুল ।
আজও এ হরফপ্রেম আমাকে পাগল ক'রে তোলে এইসব দুর্নিবার বাঁক ও কোনের কি অনবদ্য ছবি গড়ে এ প্রিয় বর্ণমালা জুড়ে তাকালেই দেখতে পাই সারি সারি নৃত্যরত হাতে হাত , পরষ্পরের মাথায় মাথা ঠেকিয়ে যেন সাঁওতালী নাচ হচ্ছে , খুব জমছে মাদলের তালে তাল , দুলে দুলে প্রান্তর পরগণায় । আর এই হরফপ্রেমেই জড়িয়ে পড়ি বিবিধ আঙিনায় , হাঁসের মধ্যে বকের মতো হাবলা মুখে দাঁড়িয়ে থাকি হাঁটুজলে কি করি বুঝে না পেয়ে ।
কি করতে এসেছি এখানে ? কি কথা বলার আছে ? ভাষা এক হ'লেও কথা কত আলাদা হতে পারে ভেবে খুব আবছা হ'য়ে যেতে ইচ্ছে ক'রে এ নীড়পাতায় । আমি তো কেউই না । বাঙলাদেশ আমার কাছে ম্যাপে একটা রঙ যা ছোটো বেলায় ভুয়ো অজুহাতে গিলিয়েছিলো ইশকুলের ভুগোল দিদিমনি - নমিতাদি , যিনি ছিলেন বিধবা , ছোটোখাটো একটা চশমাপরা সাদা শাড়ী মনে হতো যেন স্কেল হাতে ব্ল্যাকবোর্ড দিগন্তে ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৬ সকাল ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



