আসলে ইশকুলটি ছিলো গোটা ভারতে প্রথম পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থা প্রচারের বেসরকারী কল । শিক্ষিত চাকর বানানোর কলও বলা যায় একটুবাড়াবাড়ি করলে । 1818 সালের ফেকলু আভিজাত্য আর ইউরোপীয়ত্ব 1976-এ ধুয়ে মুছে শেষ হ'য়ে গেলেও থেকে গেছিলো বিরাট বিরাট অয়েল পেন্টিং , ঘোরানো কাঠের সিঁড়ি আর ডেভিড হেয়ার সাহেবের আখাম্বা মার্বেল মুর্তির গম্গমে সাদা রঙ ।
ডেভিড হেয়ার সায়েব ছিলেন বটে, কিন্তুবেনে ব্রিটিশ ছিলেন না । ফলতঃ তিনি অনেকটাই মানুষের মতো ছিলেন আর দিশি মানুষদের কেলে কেলে নোংরা বাচ্চাগুলিকে তিনি বড় ভালোবাসতেন । পুরনো ইশকুল বাড়ির অ-নে-ক উঁচু ছাদের কড়ি-বরগার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এসব গুণ গাথা শুনে শুনে আমরা বড় হতাম আর ভাবতাম , 'আহা, হেয়ার সায়েব না থাকিলে আমরা আজও বোধ হয় অসভ্য থাকিতাম , ন্যাঙট পড়িয়া নিউ মার্কে ট যাইতাম , পরষ্পরকে মাগি ও মিনসে বলিয়া সম্বোধন করিতাম, গামছা স্কন্ধে ধেই ধেই করিয়া রাজপথে নাচিয়া বেড়াইতাম । ইউরোপীয় বেনেগণের কি অপার করুণা যে তাহারা সেই সুদূর প্রদেশ থেকে অসভ্য অশিক্ষিত বাঙালীজাতিকে শিক্ষিত করিয়া জাতে তুলিতে আসিয়াছিলো !'
ভাগ্যিস!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৬ দুপুর ১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



