somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠপ্রতিক্রিয়া : ‘কবি সীমান্ত হেলালের ‘মাটির মদিরা’

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সমকালীন তরুণদের কবিতা কিছু হচ্ছে না এটা অনেকদিন থেকেই শুনছি। যদিও যিনি বা যারা বলছেন তাদের জপটে ধরলে ঠিক করে সময়ের কোনো তরুণ কবির নাম পর্যন্ত বলতে পারেন না। কিন্তু ডিসিশান দেয়ার সময় পুরো ডিসিশানটাই দিয়ে দেন। সেরকম একটা ডিসিশান শুনেছিলাম কিছুদিন আগে এক পাঠক আড্ডায়। আড্ডার সাধারণ অংশগ্রহনকারী হিসেবে যথারীতি সবার পিছনে বসে ছিলাম। এক আলোচক এভাবেই বললেন, ‘ এখন তরুণরা যা লিখছে তা অনেক কঠিন । কিছুই বোঝা যায় না। সহজ করেও যে কবিতা লেখা যায়। মানুষের কাছে পৌঁছা যায় সেটা শিখানোর জন্য আমি কয়েকটি কবিতার বই লিখেছি।’
আমি একজন নাবালক পাঠক হিসেবে শুনেছি। ভেবেছি যাক শেখার তো কোনো শেষ নেই। শিখতে থাকি। সহজ-কঠিন নিয়ে আরেকদিন কথা বলা যাবে। তবে কথা হচ্ছে এমন করে যারা ভাবেন বা ডিসিশান দিয়ে দেন তাদের সাথে তরুণ কবি সীমান্ত হেলালের কবিতার বই ‘ মাটির মদিরা’র পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। আসুন আমরা ‘মাটির মদিরায়’ ডুবে যাই....

‘বলো সাধু...
তবে কেন বহুরূপ পাথরের পসরা সাজিয়ে বসে আছো?’

এমনই প্রশ্ন কবি সীমান্ত হেলালের ‘মাটির মদিরা’ কবিতার বইয়ের ‘জাদু’ কবিতায়। কবি যেন জীবনের যাদুতে চমকে ওঠেন। নিজের অবয়ব দেখেও তার সন্দেহ তৈরি হয়। তখন নিজের অজান্তেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। কিন্তু এই প্রশ্ন কার উদ্দেশ্যে ! হয়তো কবিই জানেন। অথবা জানেন না।

সীমান্ত হেলালের ‘মাটির মদিরা’ কবিতার বইয়ে এমন সব কবিতার ঘ্রাণ পাওয়া যায় যেখান থেকে নিজেকে সংযত করা কষ্টকর। বারবার মনে হয় সেই বিষণ্ন সুন্দরের কথা। যেখানে বিনা বাক্য ব্যয়ে ঝাঁপ দেয়া যায়। বিনা প্রশ্নে একটা জীবন উৎসর্গ করা যায়। দুঃখ বিন্যাসে কবি বলেন-

‘ঝালকাঠীর লবনখানার নস্টালজিক পরদে যতটা না খেয়েছে শ্রমিকের ঘাম--তার চেয়েও পরিশ্রান্ত আমার হৃদয়।’
[লবণদুঃখ]

এ যেন নিজেকেই আয়নায় দেখা। এবং নিজেকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করানো। তিনি সেটি করেন সাহসের সাথে। যেখানে আয়না ও ব্যক্তি কোনো ভাগ শেষের অপেক্ষা করে না। জীবনের উহ্য ঐশ্বর্যে নিবেদিত হয়। গোপেনে। খুব গোপনে।

আবার যখন তিনি ‘ঘুম’ কবিতায় বলেন-

‘অনেক ঘুমের কালো জমেছে এ শরিরে...’

তখন আমার সামনেও একটি আয়না তৈরি হয়। সে আয়নায় নিজের অন্ধকারগুচ্ছ দেখে নেয়ার চেষ্টা করি। এবং পেয়েও যাই। যখন তার ‘হিমালয় দর্শন’ কবিতায় ঢুকি।

‘ একবার তুমি বলেছিলে--হিমালয় দেখবে
আমি বললাম,
অত দূরে নিভনদেশে যাওয়া সম্ভব নয়।
তুমি বললে--
বুকে মাথা রাখতে দাও--তবেই আমার হিমালয় দেকা হয়ে যাবে।’

এই কবিতার সাথে আমিও যেন নিজস্ব হিমালয় ঘুরে আসি। স্পর্শ করে নিই আত্মঅহম।
আবার যখন তিনি বলেন,

‘মরণ ডাকে ঢাকায়;
পিষ্ট হ’তে-চাকায়।
[ ঢাকা ]

তখন নাগরিক দৌড়ে নিজেদের আটকে ফেলা এই নগরীর গণ্ডি টের পাই। এবং মাথায় বুঁদ বুঁদ তোলে প্যাকেট হয়ে থাকা ইচ্ছেরা।

এতো কিছুর পরও কবিতার চোখের স্বপ্ন আমার মধ্যে উস্‌কে দেয় বিভ্রাটে জড়ানো নিজস্বতাকে। তার লাইনের সাথে সাথে আমিও নতুন করে আবার স্বপ্নের চারা রোপন করি তাজা অক্সিজেনের লোভে।
যেন তার মতোই ছুটছি; কিংবা উড়ার ইচ্ছে ছাড়াচ্ছি--

‘জল ছোঁব না
আগুন ছোঁব

জমাটবাঁধা লবণ ভেঙে
আগুন কচলে জল ঝড়াবো...’
[স্পৃহাবৃত্তান্ত ]

কবি সীমান্ত হেলাল কবিতা যাপনে থাকুন। ভালো থাকুন।

...........
বইয়ের নাম: মাটির মদিরা
লেখক: সীমান্ত হেলাল
ধরন: কবিতার বই
প্রচ্ছদ: আল নোমান
প্রকাশনী: বেহুলাবাংলা
প্রকাশকাল: অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯
দরদাম: ১৭৫ টাকা।
পৃষ্ঠা: ৬৪

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×