
অনেক বছর পর আজ আবার হুমায়ূন আহমেদের 'আগুল কাটা জগলু' পড়লাম। পড়াটা অনেকটা অনিচ্ছায় শুরু হয়েছিলো। পড়তেই হবে তাই পড়া। কাজের জন্য। যেন পড়া নয় কেবল দায়! কিন্তু পড়তে পড়তে সেটা আর দায় থাকেনি। আমাকে ডুবিয়ে দিয়েছে গল্পের মধ্যে। হিমু চরিত্রটি বিরক্তকর লাগলেও তাকে ঘিরে যেসব গল্প গতি পেয়েছে সেখানে হুমায়ূন আহমেদ তার মতোই উজ্জ্বল। অন্যদের থেকে আলাদা।জগলু-মতি চরিত্ররাও আমাদের পরিচিত। চারপাশের মানুষ। এমনকি মতির গ্রামের মানুষ যারা তাকে কবর দিতে দেয়নি তারাও তো আমাদেরই চারপাশের। আমাদেরই গ্রাম! গ্রামের মানুষ! যারা নিজেরা অপরাধের মধ্যে ডুবে থাকলেও লাশের সাথে আপোষ করবে না(!) মনে পড়লো শরৎ বাবুর কথা। শ্রীকান্ত উপন্যাসে তিনি বলেছিলেন 'লাশের আবার জাত কি!' জীবিত মানুষের সাথে না পারলেও আমরা ঠিকই লাশের সাথে পারি! পারার চেষ্টা করি।
জগলুর ছেলে বাবুর নিঃসঙ্গতা। শুভর ভয়ডরহীন বেঁচে থাকার চেষ্টা আমাদের কোনো ম্যাসেজ দেয়? হয়তো দেয় কিংবা দেয় না। কিন্তু একটা চিন্তার মধ্যে ঠিকই ডুবিয়ে দেয়। যে চিন্তার কোনো শেষ নেই। হিমু চরিত্রের হালকা সংলাপ আর উদ্ভট আচরণের বাইরে কিছুক্ষণ না হয় ডুবে থাকি গল্পের মধ্যে। চরিত্র বিন্যাস কল্পে উড়াল দিই গন্তব্যহীন আকাশে। সেখানে জগলু-বাবু-মতি-মিতু-শুভ চরিত্রের উজ্জ্বলতায় না হয় চুপ করেই থাকলো হিমু কিংবা বাদল! অথবা হিমু কিংবা একজন হুমায়ূন আহমেদ কথা বলুক বিরতিহীন...
ধানমন্ডি, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





