somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

প্রেমপত্র-৬৭

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় প্রনয়িনী,
হাজারো ভিড়ের মধ্যেও মায়াবী চাহুনীতে মাধ্যমে আকর্ষণ করেছিলে আমার দৃষ্টি।তারপর থেকে মনে হয় যেন তোমাকে যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।তোমার চঞ্চল চলাচল,চুপটি করে জড়োসরো হয়ে থাকা,ভাবুক রাজ্যের মধ্যে ভেসে বেড়ানো,পাগলামো বাঁধন হারা গতি,প্রেমে ডুবে থাকা চোখ,সবার কষ্টে ব্যাকুলতা,কত রূপ কত পরিবর্তন।
পার্বতী,চন্দ্রমুখী,ক্লিওপেট্রা,লাবন্য,হৈমন্তী,অপ্সরী সব চরিত্রই যেন তোমার মধ্যে,তবু হযবরল মনে হয়নি তোমাকে।দূর থেকে তোমার সকল রূপ আমাকে কষ্ট দেয়,পাগল করে,আবার মোহিতোও করতো।ধীরে ধীরে দূরের সেই তুমি কখন যে দূর থেকেই আমার মনের গভীরেরও গভীরে প্রবেশ করেছিলে বুঝতেও পারিনি।তোমাকে একদিন আমার চিঠি না দেখলেই আমার চোখ যেন নিজে থেকেই খুঁজে বেড়ায় তোমার প্রফাইলে।তোমাকে একদিন ভালবাসি বলব বলে কত যে পাগলামি করেছি তা হয়তো তোমার কখনোই জানা হবে না।আবার কখনো যখন তুমি আমার পাগলামির সাথে যোগ দিয়ে গভীর রাতেও দূর থেকে আমার স্বপ্নে আমাকে দেখা দিতে আসো,তখন পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ মনে হতো নিজেকে।
তাই আমার মধ্যে,আমার জগতে,সমস্ত তোমাকে সমস্ত আমার মধ্যেই বন্দি করে রাখি,আমিত্বকে তোমার মাঝে আমি শতবার বরন করি।.
আমি ভুলে যাই দুরত্বটা।চল মায়াবতী হৃদয়ে একবার ঠাই দিয়ে দেখ।
চলো রচনা করি ইতিহাস, গোড়াপত্তন করি একটি নতুন সভ্যতার;
তুমি আমি মিলে চলো গড়ে তুলি আলাদা মহাদেশ,যেখানে থাকবে সাজানো গোছানো খুব পরিপাটি এক নিজস্ব আকাশ!একবার হাত রাখো হাতে,তারপর তাকিয়ে দেখো আমার চোখের ভেতর জমাট বাঁধে কেমন পর্বতসম স্পৃহা।ভরসা রাখো মায়াবতী,আমরা ঠিকই পাড়ি দেবো আদিগন্ত্য
ভবিষ্যত!তোমার নাকি নতুন একটা আকাশের নিচে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ ইচ্ছে হয়?একটি বিশুদ্ধ বায়ুমণ্ডল এবং মেঘমুক্ত স্বচ্ছ আকাশের অঙ্গীকার আমি তোমাকে দিলাম,তুমি নিশ্বাস নিও দেবী।
কেউ না জানুক আমিতো জানি;তোমার দীর্ঘশ্বাসগুলো আজকাল কেবল
মুক্তি খোঁজে অপরিণাম আক্রোশে!জমে থাকা শ্যাওলা সরিয়ে তোমার
জন্য আমি বুকের জমিনে বিছিয়ে রাখব সবুজ ঘাস,রোজ সকালে সেখানে জমবে শিশিরবিন্দুর মত মুক্তো মুক্তো ঘাম।ইচ্ছে হলেই তুমি হেঁটে যেও খালি পায়,পথ ভুল হলে আমার হৃদয়ের স্পন্দন শুনে খুঁজে নিও গতিপথ!
কথা দিচ্ছি মায়াবতী,আমাদের আকাশে একান্ত ব্যক্তিগত একটা চাঁদ থাকবে,সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টার চূড়ায় বসে আমরা চাঁদ দেখবো।
জোছনায় ভিজে চুবচুবে হয়ে যাওয়া তোমার চুল বেয়ে নামবে জোনাকি
পোকার ঢল,ঐশ্বরিক এক আলোয় তোমার চোখেতে সৃষ্টি হবে স্বর্গপথ!
মুগ্ধতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে ফেলায় তোমার চোখের ভেতর জন্ম
নেবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পাহাড়ি ঝর্না! অবাক বিস্ময় নিয়ে আমি নির্বাক চোখে শুধু দেখবো তোমাকে,ভুলে যাব আমার অতীত বর্তমান
ভবিষ্যত!কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমাকে দেখে সবকটাগ্রহ উপগ্রহ ছায়াপথ নক্ষত্র কেবল মুচকি হাসবে,পরমুহূর্তে সপ্তর্ষিমণ্ডলের গোপন ইশারা
পেয়ে আমি চুমু আঁকবো তোমার অধরে,একেকটা চুমু থেকে জন্ম নেবে একেকটা নতুন নক্ষত্র!মায়াবতী,এরপর কোন এক রূপালী সন্ধ্যায় নিজের
ভেতর তুমি টের পাবে দ্বৈত দেবদূত্যি,আর তখন ভীষণ লজ্জায় আমার বুকে মাথারেখে তুমি লুকাবে অশ্রুজল।আর তোমার তলপেটে,যেখানে বেড়ে উঠবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু;সেখানে কান পেতে আমি শুনবো অনবদ্য সব ইন্সট্রুমেন্টাল!
প্রনয়িনী একটা কথা বলে আজ শেষ করি,আমি জানি তুমি বেশ কাঁচ ভাঙ্গা মিষ্টি হাসি দিতে পারো,হরিনীর নয়ন দিয়ে খুন করতে পারো শতবার।তুমি জেনে নিও আমি তোমাকে দেব এক জীবনের বিশুদ্ধ প্রেম,
সত্যিই দেবো,তুমি চাইলে দেবো বা না চাইলেও দেবো।কারন,তোমার এই বদ্ধ পাগলটা আর কিছুই না পারুক,বেহায়ার মত তোমাকে হৃদয়ে রেখে প্রতিদিন,তোমারই জন্যে শতশত বার মরতে পারে।
ইতি
অনিরুদ্ধ
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×