somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

প্রেমপত্র-৯১

২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়তমা
এই চরম দুঃসময়ে তুমি পাশে না থাকলে আর কে থাকবে?একমাত্র তুমি না বাসলে আমাকে যে আর কেউ ভালবাসবে না!আমি সারাজীবন এমন ঝালমুড়ি টাইপেরই রয়ে যাবো আমার ভাল থাকা হবে না,বিয়ে করাও হবে না।তোমার বিচ্ছু টাইপের ছেলে মেয়ের বাবা হওয়া ও হবে না।আর এই যে এত কিছু না না না না।এ সব কিছুর জন্যে একমাত্র দায়ী থাকবে তুমি।আজন্ম ভালবাসার ঋন শোধ করছি আমি তুমি কি তা দেখতে পাও না।
বুঝলে মায়াবতী তুমি ছাড়া জগতে কোনও মেয়ে নেই, কোনও নারী নেই, কোনও মানুষও নেই, কোনও প্রেমিকা নেই,কোনও হৃদয় নেই!আমার এখন খুব মন বসছে তোমাতে।বুঝি মন বসছে তোমার নয়নে।আমি বুঝি আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে হাজারটা পড়ে থাকা কাজগুলো ফেলে তোমায় নিয়ে গল্প লিখি।তোমার কথা সবাইকে বলি।
মিছিল করে মিটিং করে স্লোগান দিয়ে।আবার ভাবি অনেক হয়েছে ওসব,এবার অন্য কিছু হোক,এই তোমাতে মন পড়ে থাক,এই তোমার জন্যে জীবন চলে যাক।
মনটা বড্ড বেয়ারা মনটাকে নিয়ে অন্য হিসেব নিকেশের কাজ করবো তা আর হয় না।সবারই হয়ত সবকিছু হয় না,এই যেমন আমার তুমি ছাড়া হয়না।তোমায় কল দিয়ে গভীর রাত্তিরে ঘুম থেকে তুলে প্রেমের কথা শোনাতে ইচ্ছে করে।তুমি এসেছিলে যবে
মনে হয়েছিল যেন স্বপ্ন দেখছি স্বপ্নই তো,এ তো একরকম স্বপ্নই,বরং তারচেয়েও মোহনীয় তুমি।আমাকে কেউ এমন করে মায়া করে কথা বলেনি আগে,আমারও কখনও ঘুমের মাঝে তোমাকে জাগিয়ে চুমু খেতে মন চায়নি আগে।আমাকে এত আশ্চর্য সুন্দর অসহ্য পাগলামী কোনওদিন কেউ সহ্য করেনি আগে,আমিও এমন
এমন ভেঙে চুরে ভালো বাসিনি।তুমি এত মিষ্টি কী করে হলে আইলসা বিলাই।
কী করে এত মিষ্টি বাচ্চা হলে তুমি? এত পাগলী কেন?যে রকম প্রেম পাওয়ার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করেছি, স্বপ্ন দেখেছি, পাইনি এমন মায়াবতী এমন বাচ্চা তুমি কোথায় ছিলে?যখন মরে যাবো,যখন মরে যাচ্ছি তখন যদি থোকা থোকা প্রেম এসে ঘর ভরিয়ে দেয়,মন ভরিয়ে দেয়, তখন সবকিছুকে স্বপ্নই তো মনে হবে,স্বপ্নই মনে হয়।
তোমাকে অনেক সময় রক্তমাংসের মানুষ বলে মনে হয় না,মনে হয় ঈশ্বরী।
হঠাৎ এ্যাজমায় কাহিল হয়ে যাওয়া রোগীর সামনে ইনহেলার যেমন।যেমন ডায়াবেটিস রোগীর জন্যে ইনসুলিন তুমি ঠিক তেমন যেন যেন অনেক প্রত্যাশিত অনেক কালের চির কাঙ্খিত।
আগে কখনও আমার মনে হয়নি একটার পর একটা বাজি ধরি কারো জন্যে।আগে কখনও আমার মনে হয়নি কাউকে পাওয়ার জন্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করি।আগে কখনও আমি জানিনি যে কিছু তোমার ছবির কপালে চুমু খেতে খেতে আমি রাতকে
ভোর করতে পারি।
পাগলি, তোমাকেই বলছি, ভয়টুকু ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে আসো। জানো তো, সাহসীদের মৃত্যু নেই। টুপটাপ করে প্রতিদিনই তো কতজন মরে যায়, বাঁচতে জানে কজনে! তাই
মৃত্যুচিন্তা ঝেড়ে ফেল মাথা থেকে। আয়, বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করি। যেটুকু সময় পাবো,ভালোবেসে, ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়ে বেঁচে থাকি।জানো তো, এই একটা জিনিসই সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া যায়।আসো, ভালোবাসা কুড়াই, অর্ধেক তোমার, অর্ধেক আমার!আমি অপেক্ষায় থাকবো তোমার শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবো ততদিন যতদিন তুমি আছ।যেদিন তোমার দেহের সৌরভে মাতয়ারা হবেনা কেউ কন্ঠের মাদকতায় ভাসাবেনা স্বপ্নের ভেলা,ভাঁজ খাওয়া ত্বকে স্বর্গীয় স্পর্শ করবেনা কখনো লাল সাদা চুলের গন্ধ শুকবেনা কেউ,সেদিন আমি- আমি অপেক্ষায় থাকবো তোমার জন্য।বেঁচে থাকবো ভালোবাসায় যতদিন তুমি আছ।যেদিন তোমার স্বপ্নগুলো ফিঁকে রং পাবে।মোটা ফ্রমের চশমার ওপাশটা ঝাপসা মনে হবে,পৃথিবীকে মনে হবে অপ্রয়োজনীয় কিংবা হৃদয়হীন।কানের কাছে এসে কেউ বলবেনা ভালোবাস-ভালোবাসা দাও সেদিন আমি- আমিই থাকবো তোমার জন্য বেঁচে থাকবো স্মৃতিতে যতদিন তুমি আছ।আমি অপেক্ষায় থাকবো তোমার শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবো ততদিন যতদিন তুমি আছ।
শোন যখন আমাদের চুলে পাক ধরবে আবার নতুন করে তোমার সাথে প্রেম করবো
মনে থাকবে?তোমার চুলে কাঁচাপাকা বেনী করে বলব বাহ্ বউ তোমার চুলটা তো সেইরকম।হঠাৎ করে বুকে ব্যাথা উঠলে গরম করে তেল মালিস করে দিব।শীতে বুকে জড়িয়ে দিব ওম। হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় আমার ভালবাসার সন্ধ্যা হবে মনের মাঝে গান বাজবে।তখন আমি বলবো তোমায় এই বালিকা চলো পালিয়ে যাবে আমার সাথে ফোকলা দাঁতে মনে থাকবে?এত বছরের দূরত্বটা বুড়ো বয়সে কমিয়ে দিব।
তোমার শরীরের মিষ্টি গন্ধে এক জন্মে কাটিয়ে দিব,এই জন্মের মাতাল চাওয়া জন্ম জন্মান্তরে তোমার প্রতি এমনই হবে, মনে থাকবে?আমি যেমন বড্ড পাগল এবং খানিক উস্কোখুস্কো তোমার মাঝে সকাল বিকাল তোমার মাঝেই জীবন মরন।তুমি কাঁদলে গভীর সুখে এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব মনে থাকবে?বৃদ্ধ বয়সেও গরম লাগবে তালপাখার বাতাসে মন জুড়িয়ে দিব।নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে তোমায় নাকে পায়ে পড়িয়ে চুমু খাবো,তোমার জন্যে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবো মনে থাকবে?সেই বয়সেও চামড়ায় যখন ভাজ পড়বে হাতে থাকবে লাঠি তখন আমি আবার তোমার বাচ্চার বাবা হতে চাইবো।এসব কিছু হই বা না হই তখন তোমার প্রথম পুরুষ হবো মনে থাকবে?
বুড়ি বয়সে তুমিও হবে আমার জন্যে বড্ড পাগল কাশির মাঝে জড়িয়ে ধরে কফ সিরাপ খাইয়ে দিবে।সারা শরীর ভ'রে দিবে তোমার অসংখ্য নীলচে ভালোবাসা।
তোমার এমন ভালবাসা আমায় অমর জীবন দিবে।আমার অনেক কথা ছিল
এতদিন যা হয়নি বলা,বুকে যত ভালবাসা এতদিন যা হয়নি দেয়া,সাজিয়ে গুছিয়ে তবুও ঠিক হয়নি দেয়া এ জনমেই বৃদ্ধ হলেও পুষিয়ে দিব।এত দিন তো কেটে গেল তুমিহীনা সঙ্কটে।বলতে ভীষণ লজ্জা করছে তবুও বলি নাতি পুতির কাছে ধরা খেলেও এমন চিছি তখন লিখব তুমি কিন্তু তখনও জবাব দিবে মনে থাকবে?
পরিশেষে বলি,তুমি জানতে না বুঝি ?বুকের ভেতর যে হৃদয় নিয়ে জন্মেছি তাতে তোমারই ডাকনাম!তুমি শুধু বিলীন করে দাও সব আলো,আমি তোমার চোখেই দেখি আমার পুনর্জন্ম।আমি তোমাতেই হই বিলীন।
ইতি
তোমার পাগল
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ২:৫৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×