somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাই সেকেন্ড ম্যারেজ

১৭ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




— তোমাকে কি পিক আপ করতে আসব?
কথা হচ্ছিল ইশিতার সাথে। গত দুদিন আমার আর নিবেদিতার সম্পর্কে আর তেমন কোন অবনতি হয়নি। আমার অবস্থা যথারীতি বিধ্বস্ত। গতকাল তো আমার চেহারা দেখে মা বলেই ফেললেন, কি হয়েছে? নিবেদিতা অবশ্য অনেকটাই স্বাভাবিক। মায়ের সাথে মিলে আমার সব ফেভারেট রান্না করছে। মাঝে মাঝে জানতে আসছে, আজকে কি খেতে চাই। ওদের বাসায় গতকাল দাওয়াত ছিল, সেখানেও বেশ গল্প গুজব করল সবার সাথে।
টিকেট চেঞ্জ করার পরে শিশিরকে ফোন করে সময় জানিয়েছিলাম। দিন দুয়েক আগে রিমাইন্ড করতে আবার ফোন করেছিলাম। ও জানাল, ওর শরীর খারাপ। এটা সোনার পর স্বাভাবিক ভদ্রতা হচ্ছে, ওকে বারণ করা। সেটাই করলাম। ওকে বললাম, এয়ারপোর্টে আসতে হবে না। আমি ক্যাব নিয়ে চলে আসব।
এরপরের দুদিন তেমন কোন ঘটনা ছাড়াই কাটল। নিবেদিতার সাথে খুব প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনি। নিবেদিতাও দেখলাম আমার সাথে কথা বলতে তেমন কোন আগ্রহ দেখাল না। খানিকটা অভিমানেই নিজের পুরনো লাইফ স্টাইলে ফিরে গেছি। নিজের ছোটখাট কাজ নিজেই করছি। মোবাইল ফোনও নিজে চার্জে দিচ্ছি। টাওয়েলও জায়গামত রাখছি। একসময় ফিল করলাম, একটা সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
আজ সকালে এই কদিনের স্মৃতি একবার রোমন্থন করলাম। নিজে নিজেই হাসলাম। আই জাস্ট কান্ট বিলিভ মাই লাক। গত পঁচিশটা দিন, কি সাসপেন্সভরা একটা সময় পার করলাম। নিবেদিতার সাথে বিয়ে। এরপরে হঠাৎই ইশিতার ফিরে আসা। দেন ইশিতাকে নিয়ে সন্দেহ আর গত দুদিন আগে শমিতের এন্ট্রি। হোয়াট অ্যা টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন।
সবচেয়ে অবাক করা ফিলিংস হয়েছিল যখন নিবেদিতা জানাল, শমিত আমেরিকা আসছে। মনে হল চোখের সামনে হঠাৎ সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল। নিবেদিতাকে যে এতোটা ভালবেসে ফেলেছি, নিজেই বুঝতে পারিনি। সাথে এটাও বুঝলাম, ইট ইজ টু লেট টু রিয়ালাইজ।
এরপরে তো গত দুদিন আর তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আজ সকালে এল ইশিতার ফোন। আর আসলও এমন সময় যখন নিবেদিতা চা নিয়ে এসেছে। ওদিকে ইশিতার গলার আওয়াজ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে ও চাইছে আমি যেন হ্যাঁ বলি। সামনে দাঁড়িয়ে নিবেদিতা। হঠাৎ কি হল, দুটো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। নিবেদিতার জীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব আর ইশিতাকে বারণ করব না। কেন করলাম, জানি না। কেবল ইশিতার প্রশ্নের উত্তরে জানালাম
— তোমার যদি খুব অসুবিধা না হয়।
— নাহ। অসুবিধা আর কি। তুমি তো ফিরছ ফ্রাইডে তে। এরপরে তো দুদিন ছুটি আছেই।
—ওকে দেন। দেখা হবে।
ফোনটা রাখলাম। নিবেদিতার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিলাম। হঠাৎ ফিল করলাম, নিজেকে বেশ শান্ত লাগছে। নিবেদিতার দিকে তাকিয়ে স্মিত একটা হাসিও দিলাম। চায়ে চুমুক দিয়ে জানালাম ‘সুন্দর হয়েছে’। নিবেদিতা ঠাণ্ডা চোখে আমার দিকে একবার তাকাল। এরপরে ড্রেসিং টেবিলের টুলটা টেনে আমার সামনে বসল।মন বলছে, এখন কিছু একটা হবে। তেমন কিছু হল না। ঠোঁটে একটা স্মিত হাসি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। আমি কিছুক্ষণ চায়ে চুমুক দিলাম। এখনও কিছু বলছে না দেখে একসময় আমিই বললাম
— কিছু বলবে?
নিবেদিতা মাথা নেড়ে জানাল, না। অবাক হলাম। কিছু যদি না ই বলে তবে হঠাৎ বসল কেন? জানতে চাইলাম
-- দেন?
— তুমি বলবে।
— মানে?
— মানে তোমার চোখ বলছে, আমাকে তুমি আমাকে তিনটে কথা বলতে চাও।
এবার আমি একটা বাঁকা হাসি দিলাম। জানতে চাইলাম
— তাই? তা কি বলব সেটা বলছে না?
— সেটাও বলছে, বাট আই ওয়ান্ট টু হিয়ার ইট ফ্রম ইউ।
বেশ কিছুক্ষণ ওর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। এরপরে বললাম
— তেমন কিছু বলার নেই। জাস্ট, এটাই, যে তোমাদের জীবন থেকে আমি সরে যাব।
— গুড। নেক্সট?
— নেক্সট মানে?
— পরের কথাটা।
— আর কিছু বলার নেই।
— তোমার চোখ তো তা বলছে না।
এবার হেসে ফেললাম। বললাম
— তা কি বলছে আমার চোখ।
আমার তখন চা খাওয়া শেষ। আমার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিল। এরপরে স্মিত হেসে ও উঠে দাঁড়াল। এরপরে ফিরে যেতে লাগল।
— বললে না, কি বলছে আমার চোখ?
স্মিত হেসে উত্তর দিল
— না, ওটা তোমাকে নিজের মুখেই বলতে হবে। এনিওয়ে, বাবা বললেন আটটায় যেহেতু রিপোর্টিং, বাসা থেকে বেরোতে হবে ছটায়। অ্যান্ড দ্যাট মিনস,, কথাটা বলার জন্য তোমার হাতে আর মাত্র নয় ঘণ্টা আছে। অ্যান্ড ইয়োর টাইম স্টার্টস নাও।
বলে রহস্য মাখানো একটা হাসি দিয়ে নিবেদিতা চলে গেল। দিস ইজ নিবেদিতা। আমার কথা না বলা, আমার অভিমান, সবটাও ও লক্ষ্য করেছে। হয়তো কিছুটা এঞ্জয়ও করেছে। আর শমিতের কারণে নেয়া আমার সিদ্ধান্তটা বুঝে নিতে ওর সময় লাগেনি। বাট সেটা শুনে ও হাসল কেন? ও কি সেটাই চায়?
একটু পরে ব্রেকফাস্টের টেবিলে ডাক পড়বে। নিয়ম মাফিক তখন থেকেই মা কান্নাকাটি শুরু করবে। আমার দুই বোনও ফ্যামিলিসহ আসবে। ছোট ভাই তো এবাসাতেই থাকে। সবার মন খারাপ শুরু হবে। মায়ের মত কাঁদবে না, বাট ‘ভাইটা তো সুখে আছে’ এই ভেবে নিজেদের সান্ত্বনা দেবে। এবার যোগ হচ্ছে নতুন একজন সদস্য, নিবেদিতা। ওর কেমন লাগবে?
ডাইনিং রুমে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। দুই বোন, তাঁদের আণ্ডা বাচ্চাসহ এসে গেছে মনে হচ্ছে। আমি উঠে পড়লাম। লক্ষ্য করলাম, ফিলিং ফ্রেস। এই দুদিন মনটা যেমন অশান্ত হয়ে ছিল, তেমনটা এখন আর নেই। হাসিমুখেই ডাইনিং টেবিলে বসলাম। সবার সাথে হেসে হেসেই কথা বললাম। দুএকবার আড়চোখে নিবেদিতার দিকে তাকালাম। ওর তেমন ভ্রুক্ষেপ নাই। ওর সব মনোযোগ মাকে হেল্প করায়।
এরপরে সব ভাই বোন মিলে জম্পেশ আড্ডা হল। একসময় লক্ষ্য করলাম, আমি ঠিক ওদের ভেতরে নেই। মাথায় শুধু ঘুরছে, নিবেদিতা আমার চোখে কি দেখতে পেয়েছে, সেই প্রশ্ন। একসময় ‘আমি একটু আসছি’ বলে নিজের রুমে ফিরে আসলাম। যথারীতি আমার প্রিয় জায়গা ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। রোদের তেজ নেহাত কম না, তারপরও রুমে গেলাম না। সিগারেট ধরালাম। এমন সময় ফিল করলাম নিবেদিতাও রুমে এসেছে। আমার পেছন থেকেই জানতে চাইল
— উঠে এলে যে? সবাই জানতে চাইছে কি ব্যাপার। চল।
ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম
— পাজল সলভ করছি।
যদিও ফিরে তাকালাম না, তারপরও জানি, ওর ঠোঁটের কোণে একটা দুষ্টুমির হাসি দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। চোখের ওপর হাত দিয়ে রোদ আটকিয়ে বলল— কি এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছ। ভেতরে চল।
নির্বিকারভাবে সিগারেট টানতে টানতে বললাম
— এখানে আমার ব্রেন ভাল খোলে।
— তা অনেকক্ষণ তো আছ, খুলেছে?
— আই থিঙ্ক, খুলেছে।
ধীরে ধীরে ওর দিকে তাকালাম। ঠোঁটের কোণে সেই দুষ্টুমির হাসি। ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইল
— সো? তোমার খুলে যাওয়া ব্রেন থেকে পাজলের কি সলিউশান বের করল?
রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সেদিক থেকে নিবেদিতার দিকে ফিরে তাকালাম। ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি নিয়ে কেটে কেটে উচ্চারণ করলাম
— দ্যা সলিউশান অফ দ্যা পাজল ইজ, আমার চোখ নেক্সট যে কথাটা তোমাকে বলছে, তা হচ্ছে, আই লাভ ইউ।
নিবেদিতার সারা মুখ জুড়ে একটা ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে গেল। এতোটা সুন্দর ওকে কখনও লাগেনি। চোখে খানিকটা লজ্জা নিয়েই আমার দিকে তাকাল। এরপরে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানিয়ে বলল
-- গ্রেট।
এরপরে আমার হাত থেকে সিগারেটটা নিল। ঠোঁটে লাগিয়ে একরাশ ধোঁয়া টানল। এরপরে ওপরের দিকে মুখ করে ধোঁয়া ছাড়ল। আলতো করে ঘাড় বাঁকিয়ে আমার দিকে তাকাল। টিপিক্যাল মাস্টারনির মত পরীক্ষা নেয়ার ঢঙে জানতে চাইল
— অ্যান্ড দ্যা থার্ড ওয়ান?

চলবে
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:১৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইশ্বর ও ধর্ম নিয়ে পাদ্রির লেখা ৪ হাজার পাতার স্বীকারোক্তি!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

১৭২৯ সালের এক শীতের সকালে ফ্রান্সের এক ছোট্ট গ্রামের ক্যাথলিক পাদ্রি জাঁ মেসলিয়ার (Jean Meslier) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ঘর থেকে উদ্ধার হয় হাজার হাজার পাতার এক গোপন পাণ্ডুলিপি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×