somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাই সেকেন্ড ম্যারেজ

১৭ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১০

— থ্রি আওয়ারস মোর।
দুপুরের খাওয়া সেরে নিজের রুমে এসেছি। মা বললেন, একটু রেস্ট নিয়ে নে। এতো লম্বা জার্নি। কারণ সেটা না। ভাই বোনরা সবাই এসেছে, এই শেষ সময়টা আমার সাথে কাটাতে। ওদিকে আবার নিউলি ওয়েড কাপল। মা ভাবলেন, লজ্জা পাচ্ছে সবার মাঝ থেকে উঠে যেতে। তাই, ‘রেস্ট ফর্মুলা’। আমি উঠে এসেছি অন্য কারণে। লাস্ট অপারচুনিটি টু সেটল আওয়ার স্কোর।
বিছানায় আধশোয়া হয়ে নিবেদিতাকে দেখছি। ব্যাপারটা খানিকক্ষণ লক্ষ্য করল নিবেদিতা। একবার ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইল, কি দেখছি। মাথা দুদিকে নেড়ে বোঝালাম, কিছু না। এরপরেই আসল সতর্কতা বাণী, সময় শেষ হচ্ছে। তৃতীয় পাজল এখনও শলভ হয়নি। আই এগ্রি। এখনও পারিনি। মনে অনেক কথাই আসছে, আবার সেগুলো নাকচও হয়ে যাচ্ছে। একবার মনে হল, আমি সমিতকে নিয়ে সন্দেহ করছি, এমন কিছু বলতে চাইছি। পরে মনে হল, না। আর যাই হোক, সন্দেহ আমি করছি না। তেমন কিছু হলে, নিবেদিতাই আমাকে বলবে, আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বলবে। দেন হোয়াট? আমার চোখ কি বলছে? সেই চিন্তা মনে মনে চললেও, সময়টা গল্প করে কাটাতে ইচ্ছে করছে। বললাম
— আই নো।
আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল
—দেন?
— ব্রেন খুলছে না
ঠোঁটে সেই স্মিত হাসি। উত্তর দিল
— সিগারেট?
মন্দ হয় না। শেষ এই সময়টা একটু সুন্দর কাটবে। বিছানা ছেড়ে উঠলাম। বেড সাইড টেবিলে সিগারেটের প্যাকেটটা ছিল। ওটা হাতে নিয়ে ব্যালকনিতে আসলাম। একটু পরে নিবেদিতাও পাশে এসে দাঁড়াল। আমি সামনের রাস্তার দিকে দেখছিলাম। আজ খানিকটা মেঘলা। রোদ তেমন সমস্যা করছে না। নিবেদিতা আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে একটা জিজ্ঞাসা। স্পষ্ট পড়তে পারা যাচ্ছে। বললাম
— তুমি ধরাও।
কোন প্রতিবাদ না করে সিগারেটটা ধরাল। একরাশ ধোয়া ছেড়ে সিগারেটটা আমার দিকে এগিয়ে দিচ্ছিল। ইশারায় বারণ করলাম। স্মিত হেসে উত্তর দিল
— এটা তোমার দরকার। আমার না।
— আই নো।
— দেন?
— তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।
ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি। সিগারেটে আরেকটা পাফ টেনে উত্তর দিল
— হঠাৎ?
— ঠিক হঠাৎ না। জাস্ট… বলতে পার, মনের কথা বলছি।
ব্যাল্কনির রেলিংয়ে খানিকটা ঝুঁকে দাঁড়িয়েছে নিবেদিতা। কথার ফাঁকে ফাঁকে সিগারেট টানছে। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে ওকে আজকে। সামনের দিকে তাকিয়েই বলল
— খুব কথা বলছে আজকে তোমার মন?
— কথা আগেও বলত, বাট চোখ।
কিছুটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। বোধহয় বুঝতে পারছে, আমি আরও কিছু বলব। উত্তর না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। আমিও অপেক্ষা করে আছি। অবশেষে ও মুখ খুলল। কিছুটা গম্ভীর।
— ডোন্ট ইউ থিংক, ইটস টু লেট।
মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানালাম। বললাম
— আই নো। তারপরও… বলতে ইচ্ছে করছে।
কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। একটু ভাবল। এরপরে আমার মাথা তুলল। এরপরে আবার সেই হাসি। সিগারেটে শেষ আরেকটা টান দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিল
— অনেকদিন অভ্যাস নেই। এর বেশি পারব না।
ওর হাত থেকে সিগারেটটা নিতে নিতে জানতে চাইলাম
— গল্পটা শুরু করি?
ওর চুলগুলো মুখের ওপর এসে পড়ছিল। সেগুলো সরাতে সরাতে অবাক গলায় বলল
— গল্প? আবার?
— ইয়েস। ফর দ্যা লাস্ট টাইম।
— রাজকন্যার গল্পের রাক্ষসীয় ভার্সান?
সিগারেটে টান দিয়ে সামনের দিকে ধোঁয়া ছাড়লাম। ওর দিকে না তকিয়েই বললাম
— নাহ। একটা বস্তাপচা বাংলা ফিল্মের গল্প।
জানি, স্মিত হাসি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে নিবেদিতা। ওর হাসিটা মিস করতে চাইলাম না। ঘুরে দাঁড়ালাম। সোজাসুজি ওর দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলাম।
— এক নায়ক আর দুই নায়িকার গল্প।
চোখে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে নিবেদিতা। কিছু বলল না। আমি বলতে থাকলাম
— সো, দ্যা স্টোরি ইজ, গল্পের নায়ক একটা সমস্যায় পড়েছে। নায়ক ভালবেসে বিয়ে করে প্রথম নায়িকাকে। এরপরে শুরু হয়ে তাদের সুখের সংসার। আমেরিকার ব্যস্ত জীবনের সাথে তাল মেলাতে, আর একটু সচ্ছল জীবনের আশায় দুজনই ব্যস্ত হয়ে পড়ে অর্থ উপার্জনে। যে বেতন সে পেতো, তার সাথে যুক্ত হয় ফ্রি ল্যান্সিংয়ের ইনকাম। আমাউন্টটা নেহাত মন্দ ছিল না। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয়, দ্রুত লোণ শোধ করবে। ব্যাপারটা নায়িকার সাথে ডিসকাস করেই সে ঠিক করে। কিছুদিনের ভেতরেই সে বুঝতে পারে, কাজটা ভুল করে ফেলেছে। নায়িকার সাথে তার সম্পর্কে যে শীতলতা আসছে, সেটাও সে টের পায়। বাট, নিজেকে এই বলে কনভিন্স করে, আর তো মাত্র কয়েকটা দিন। বোর লাগছে?
— হ্যাঁ। জানা গল্প দ্বিতীয়বার শুনতে বিরক্ত লাগে।
— সরি, বাট গল্পটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্বিতীয় নায়িকাকে এই তথ্যটা জানানো, যে নায়ক ততটা গাধা না, যতোটা সে ভাবে।
— ওকে, দ্বিতীয় নায়িকা গট দ্যা ম্যাসেজ। নেক্সট
— সো, পুরো প্রবলেমটা বোঝা সত্ত্বেও, নায়ক হেল্পলেস ছিল। ব্যাঙ্কের কিস্তি ইচ্ছে করেই বেশি নিয়েছিল, ফলে চাইলেও সে নিজের কাজ কমাতে পারছিল না। লোন রিসিডিউল করা যেত, বাট… ভাবল, আর তো মাত্র বছর চারেক। বাট দেন দ্যা ডিসাস্টার হ্যাপেন্ড। ব্যাপারটায় সবাই নায়িকাকে দোষ দিলেও, নায়ক তা করতে পারে না। সে নিজেকেই অপরাধী ভাবতে থাকে। ভাবে, একটু ধীরে চললে কি এমন ক্ষতি হত।
— শেষ?
— না। আরেকটু আছে। তো বছর তিনেক পরে, যখন নায়ক দ্বিতীয় নায়িকাকে বিয়ে করে, তার কিছুদিনের মাথায়ই প্রথম নায়িকার ডিভোর্স হয়ে যায়। ওর সেকেন্ড হাসব্যান্ডের সাথে। নায়কের ভেতর একটা গিল্টি ফিলিংস আগে থেকেই ছিল আর এই নতুন ডেভেলপম্যানটে তখন সে তার পুরনো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবার একটা সম্ভাবনা দেখতে পায়। সে প্রথম নায়িকার জন্য কিছু একটা করতে চায়, যেন আমেরিকায় সে একটু নিশ্চিন্ত লাইফ লিড করতে পারে। মাথায় দুটো অপশান আসে। একটা হচ্ছে নিজের বাড়িটা ওকে দিয়ে দেয়া আর ওর জন্য একটা ভাল চাকরী জোগাড় করে দেয়া। যেহেতু তার জীবনে তখন দ্বিতীয় নায়িকা চলে এসেছে, তাই সে ঠিক করে প্রথম নায়িকার জন্য সে যদি কিছু করেই তা দ্বিতীয় নায়িকার সাথে ডিসকাস করেই করবে। অ্যান্ড হি ডিড দ্যাট। ব্যাপারটায় দ্বিতীয় নায়িকা সম্মতিও দেয়। অ্যান্ড দেন কেম দ্যা আল্টিমেট এনিমি অফ লাফ।
— থার্ড পারসন?
— নাহ, জেলাসি। দ্বিতীয় নায়িকা ভাবে, নায়ক আবার প্রথম নায়িকার কাছে ফিরে যেতে চায়। আর তাই, দ্বিতীয় নায়িকা ডিসাইডেড টু ব্রেক দ্যা রিলেশানশিপ। সো, নায়কের সামনে এখন দুটো রাস্তা, আইদার সেকেন্ড নায়িকাকে পারসুয়েড করা, আই মিন বোঝানোর চেষ্টা করা যে সে মিথ্যে সন্দেহ করছে ওর…
— ওর লিভ হার, সো দ্যাট শি ক্যান জয়েন দ্যা থার্ড পারসন।
— থার্ড পারসন ঠিক ইম্পরট্যান্ট না, বাট সে থাকাতে নায়ক ইজ ফিলিং দ্যাট, দ্বিতীয় নায়িকার ক্ষতি সে করছে না।
— অ্যান্ড দেয়ার এন্ডস দ্যা স্টোরি, এই তো?
— নাহ। দেয়ার এন্ডস দ্যা এক্সপ্ল্যানেশান অফ দ্যা হিরো।
— গল্পটা খারাপ না। বাট ওয়ান থিং ইজ মিসিং ইন দ্যা স্টোরি।
— কি সেটা?
— দ্যা পয়েন্ট অফ ভিউ অফ দ্যা ফিমেল প্রোটাগনিস্ট। নায়িকারা কি চায় বআ চেয়েছিল। ডিড দ্যা হিরো এভার ট্রাইড টু ফাইন্ড দ্যাট?
নিবেদিতা আমার পাশেই বিছানায় বসে ছিল। ঘাড় কাত করে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করল। ওর চোখের দৃষ্টিটায় নতুন কিছু আছে। ঠিক রাগ ওটা না। ঘৃণাও না। সামথিং এলস।
এমন সময় দরজায় নক হল। আমদের ডাকতে এসেছে বোধহয়। মুহূর্তে নিবেদিতা নিজেকে সামলে নিল। ঝট করে উঠে দাঁড়াল। এরপরে আমার দিকে তাকিয়ে বলল
— চল। আই থিংক ডাকতে এসেছে। এরপরে দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল, আই থিংক উই শুড স্টার্ট নাও। ওর উই উইল বি লেট।
বসে ছিলাম। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম। নিবেদিতার দিকে তাকালাম। নিবেদিতাও এক ঝলক আমার দিকে তাকাল। এরপরে চোখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু ঐ এক মুহূর্তের দৃষ্টিতে কিছু একটা ছিল। সাডেনলি আই গট দ্যা অ্যানসার। নাও আই নো দ্যা সলিউশান অফ দ্যা থার্ড পাজল।
চলবে
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:৪৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইশ্বর ও ধর্ম নিয়ে পাদ্রির লেখা ৪ হাজার পাতার স্বীকারোক্তি!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

১৭২৯ সালের এক শীতের সকালে ফ্রান্সের এক ছোট্ট গ্রামের ক্যাথলিক পাদ্রি জাঁ মেসলিয়ার (Jean Meslier) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর ঘর থেকে উদ্ধার হয় হাজার হাজার পাতার এক গোপন পাণ্ডুলিপি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×