somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্ধকার থেকে আলোয়। পর্ব-১

২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালের মে মাসের দুপুরে যখন ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হল, তখন রাজাকারের দল যে মহৎ(!) কাজটি করেছিল তা হল- আগুন ধরানোর পূর্বে তারা ঘরের সকলকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে আগুন দেয়নি, ঘর থেকে সবাইকে বের করে দিয়েছিল। তাদের এই মহত্বটুকুই আজ আমাকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে সাহায্য করেছে।

আমার মা-বাবা, কাকা-কাকি এবং ঠাকুরমা তাদের একমাত্র পরিহিত বস্ত্রখানিকে সম্বল করে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। সামনের বারান্দায় বাঁধা ছাগলটা, যেটা তখন গর্ভবতী এবং বাবার সামান্য ব্যবসা বাদ দিলে যেটাই ঐ পরিবারের একমাত্র সম্পত্তি ছিল, সেটাকেও ছেড়ে দিতে দেয়া হল না। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ছাগলটার পেটটা যখন ফটাস করে ফেটে গিয়েছিল, তখন নাকি রাজাকারের দল উল্লাসে ফেটে পড়েছিল।

পুরো ঘরখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমাদের পরিবারের সবাই দূরে থেকেই তাকিয়ে দেখল আগুনের লোলিহান শিখার সাথে রাজাকারদের উল্লাস। শুধু ঘরখানাই নয়। পরিবারের একমাত্র জীবিকার উৎস, একটি ভাসমান দোকান (হাটবারগুলোতে হাটে হাটে গিয়ে রাস্তায় মালামাল সাজিয়ে যে দোকান পরিচালিত হয়), যার মালামাল তখন ঘরের মধ্যেই ছিল, পুড়ে কয়েকমুঠো ছাই হয়ে গেল।

প্রত্যেকের সাথে একমাত্র পরিধেয় বস্ত্র সম্বল করে যেভাবে আমাদের পরিবারটি মুক্তিযুদ্ধকালীন মাসগুলো পার করেছে তা আমি এখন ভাবতেও পারি না। এই কটা লাইন লিখতে গিয়েও হাত আটকে যাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আসছে। কী করুণ সে জীবন! আমি ভাবতে পারি না।

লিখতে বসেছিলাম আমার নাস্তিক হয়ে ওঠার গল্প। লিখে ফেললাম পারিবারিক দুর্যোগের গল্প। এ গল্পটাই আমার ভূমিকাস্বরূপ। কারণ, এরকম কপর্দকশূণ্য একটি পরিবার যখন ১৯৭২ সালে নিজ জেলা ঝালকাঠি ছেড়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় তখন তাদের সাথে পরিধেয় বস্ত্র, দু'খানা মাদুর ভিন্ন যা সাথে ছিল সে বস্তুটা হল একখানা কৃষ্ণের ছবি। যাকে তাঁরা ঈশ্বর মনে করতেন। 'ঈশ্বর যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন!'

এরকম একটি ঈশ্বর নির্ভরশীল পরিবারের সন্তান হয়েও যেভাবে আমি যু্ক্তিবাদী হলাম তার গল্প বলবো পরের পর্বে। আজ এ পর্যন্তই। ভাল থাকুন সবাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৫০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×