সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৪:২৬
প্রাপ্তির কিছু কথা ...
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
আমার পরিবারের সবাই অস্থির হয়ে অপেখা করে আমি কখন অফিস থেকে আসবো আর প্রাপ্তিকে নিয়ে আপনাদের লেখাগুলো পড়ে শোনাবো । তারপর শুরু হয় শব্দহীন কান্না । অনেকগুলো ভিন্ন মতের , ভিন্ন আদর্শের , ভিন্ন চিন্তার মানুষকে প্রাপ্তি এক করেছে । নির্দিধায় , নিঃসংকোচে , নিঃশ্বার্থভাবে মানুষগুলো তাদের ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছে । এখনতো অবস্থা এমন যে , ব্লগের অনেকেরই নাম মুখস্থ হয়ে গেছে । দেখা গেল আম্মা বলছে , " আজকে সাদিক কি লিখছে রে ?? " অথবা বলছে " কালপুরুষের ছড়াটা আবার পড়ে শোনাতো " ইত্যাদি । আস্তমেয়ে , শোহেইল ভাই , হাসান , হাসান মোর্শেদ , মাধবী , রাসেল (..), জুয়েল , ওয়ালী , কাশফুল , মীরা , ফ্রুলিংঙ্ , সাইমুম , শুভ , শাওন , গোপাল ভার , অরুপ , ত্রিভুজ , ফখরুল ইসলাম দীপু , 57 , খুশবু , সুমন চৌধুরী , শর্মী , আশার আলো , ফজলে এলাহি , আবু সালেহ , এম , বদরুল আহমেদ , তীরন্দাজ , হযবরল , ধূসর গোধুলি , শমিত , অপ বাক , মাহবুব মোর্শেদ , মেঘ কন্যা , ল িমেয়ে , হাসিন ভাই , কৌশিক , মিতেব , আত্মহত্যা , আবু সাঈদ , রিনয় , সদরুল , আরাফাতুল ইসলাম , না + না = হ্যা , লুনা রুশদী , জানতে চাই , ঘুনপোকা , ঝড়ো হাওয়া এমন আরো অনেক অনেক নাম প্রাপ্তির জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে । প্রাপ্তি এখন এদেরই একটা অংশ ।তেলাপোকা বলেছেন আমাদের দেশে কেন প্রাপ্তি আলোচনায় আসে না ?? কেমন করে আসবে বলুন ?? চারিদিকে হাজারো অসুস্থ মানুষ। চারিদিকে হাহাকার । আমাদের ভাগ্য ভালো অমি পিয়াল ছিল , যে এই বিষয়টা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে আর আপনারা সবাই অবলীলায় প্রাপ্তিকে আপন করে নিয়েছেন , ওর হাসিটুকু ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন । কিন্তু এই অভাগা দেশে প্রতিদিন , প্রতিমুহূর্তে হাজারো প্রাপ্তি বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে । শুধুমাত্র পত্রিকায় সাহায্যের আবেদনের জন্য কতদিন ধর্না দিতে হয়েছে !! অথচ পত্রিকা জুড়ে পাতার পর পাতা নায়ক নায়িকাদের নোংড়া গসিপ ছাপানো হয় । কিন্তু আমাদের প্রাপ্তির জন্য আপন তারিক ছিল ,যিনি মনের সবটুকু আবেগ দিয়ে প্রাপ্তিকে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন । কয়টা প্রাপ্তির এমন সুযোগ হয় ?? যখন প্রাপ্তিকে বম্বে নিয়ে গিয়েছিলাম তখন ডাঃ আদভানী খুব পরিষ্কার বলেছেন " ইউ আর লাকি দ্যাট দ্যা ডিজিস ওয়াজ ডায়াগনাইজড ইন এ ভেরি প্রাইমারি স্টেজ । ইন দিস স্টেজ দ্যা ট্রিটমেন্ট প্রসিডিওর ইজ সেম অল ওভার দ্যা ওয়ার্ল্ড । ইউ ক্যান ইজিলি ট্রিট হার ইন ঢাকা এন্ড ডঃ ইউনুস ইজ দ্যা বেস্ট সো ফার আই নো " কেমন করে ডঃ আদভানিকে বোঝাই যে ট্রিটমেন্ট প্রসিডিওর এক হলে কি হবে , আমাদের চরিত্র তো এক না । আমাদের দেশে চিকিৎসা মানে তো সেবা নয় , অত্যাচার । এক ডাঃ ইউনুস একা তো সব কিছু করতে পারবেন না । তিনি বলেছেন " আমার এত বছরের পেশাদারী জীবনে প্রাপ্তির মত রোগী দেখিনি । বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা তার মধ্যে , প্রাপ্তি একটি অসাধারন শিশু " আমরা একটা ব্যক্তিগত জরীপ করে দেখেছি , যতগুলো শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছে একমাত্র প্রাপ্তি ছাড়া আর কারও অবস্থা উন্নতির দিকে নেই । 1. যে ইনজেকশনের একটা ফোঁটা গায়ে পড়লে চামড়ায় পচন ধরে , যে ইনজেকশন রোগীর শরীরের থেকে দূরে দাঁড়িয়ে সিরিঞ্জে ভরতে হয় .. আমাদের ডিউটি ডাক্তাররা সেইটা করেন হাতে গ্লাভস না পরে এবং রোগীর ঠিক মাথার উপর দাঁড়িয়ে । 2. প্রাপ্তির একটা ইনজেকশন স্যালাইনের ভেতর দিয়ে দিতে হয় , প্রতি মিনিট 8 ফোঁটা হিসেবে । এতে সময় লাগে প্রায় 5 ঘন্টা । কিন্তু কর্তব্যরত নার্স দেখা গেলো এইটা সরাসরি ভেইনে দিতে চান , কারন 5 ঘন্টা অবজার্ভ করার ধৈর্য নাই । 3. প্রাপ্তির জন্য 160 এম.এল ব্লাড নিতে হয় ডোনারের শরীর থেকে । দেখা গেলো ডোনারের শরীর থেকে 250 এম.এল পর্যন্ত রক্ত নেয়া হয়ে গেছে , অথচ খেয়ালই করে না । 160 এম.এল প্রাপ্তিকে দেয়ার পরে বাকিটা ফেলে দেয় । 4. দুইমাস আগেও যে ঔষধ ছিল 500 টাকা , সেইটা এখন 4500 টাকা । এরকম আরো অনেক অনেক উদাহরন আছে ভয়াবহ সব অনিয়মের । আমাদের দেশের অসহায় মানুষ নিরুপায় হয়ে মেনে নিচ্ছে । তাদের উপায় নেই । হয়তো তারা জানেইনা কোনটা সঠিক , কোনটা সঠিক নয় । তাদের জ্ঞানের অভাব , লোকবলের অভাব । এরকম পরিস্থিতিতেও আমাদের প্রাপ্তির অবস্থা উন্নতির দিকে । আর সেটা সম্ভব হয়েছে প্রাপ্তির নানাভাইয়ের জন্য । অতন্ত্র প্রহরীর মত প্রাপ্তিকে তিনি আগলে রাখেন । ওর চিকিৎসার প্রতিটি বিন্দু বিসর্গ ল্য রাখেন । প্রাপ্তির শরীরে দেয়া স্যালাইনের প্রতিটি ফোঁটা গুনে গুনে দেখেন ঘন্টার পর ঘন্টা । কর্তব্যরত ডাক্তার বা নার্সের প্রতিটি অনিয়ম প্রবল ভাবে প্রতিহত করেন । কতদিন দেখেছি উনার কোলের উপর প্রাপ্তি পায়খানা করেছে কারন ওর নড়বার শক্তি ছিলনা । প্রায়ই বলতেন " দুনিয়ার সব মরে ছাই হয়ে যাক , কেবল আমার নাতিন বেঁচে থাকুক " .. যে কেউ শুনলে বলবে পাগলের প্রলাপ , কিন্তু আমরা বুঝি কি প্রবল মমতা থেকে এই কথা তিনি বলছেন । তারপরও আমরা স্বপ্ন দেখছি আপনাদের প্রাপ্তি সুস্থ হয়ে উঠবে । কারণ প্রাপ্তি একটি অসাধারন ব্যতিক্রমি শিশু । খুব অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রবল ভালোবাসায় ডুবে আছে । আজকে প্রাপ্তির জন্মদিনের একটা ছবি দিলাম আজকে । ভিষণ আনন্দের একটা মুহূর্ত । আমরা তখনও জানতে পারিনি আমাদের প্রাপ্তি সোনার দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ংকর এক দানব ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?
অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

১
আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।