somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

একজন নীলমেঘ
মানুষ পাহাড় ডিঙায়, পর্বত ডিঙায়, আমি সময়কে ডিঙাতে পারি না। আমি এক জায়গায় জড় হয়ে বসে থাকা মানুষ, ঘূর্ণনশীল পৃথিবী ঘুরবে, আর আমি তার গতিতেই এগিয়ে যাবো। মানুষের ভালো ব্যবহারগুলো সব মরিচীকা, কোথাও সুখ নেই, চারিদিকে অহেতুক সৌন্দর্য।

প্রলয়বীণা বাজবে যখন (২)

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫.

অ্যানালাইসিসে আসি। আমাদের দেশের অবস্থা বললাম, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কথাও বর্ণনা করলাম। পার্থক্যটা কি?

পার্থক্যটা হলো--পাশ্চাত্যের কান্ট্রিগুলো যখন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সংযত, আমরা সে ব্যাপারে ততটাই উচ্ছৃংঙ্খল। প্রয়োজন না থাকলেও আমরা অ্যান্টিবায়োটিক খাই, প্রয়োজন থাকলে যে ইনফেকশন প্রাথমিক লেভেলের অ্যান্টিবায়োটিকে সারে, সেখানে আমরা রিজার্ভ ড্রাগকে ব্যবহার করি....

এর ফলাফল শুভ হবার কথা নয়।কিছু কিছু জীবাণুর জেনেটিক কোড সতত পরিবর্তনশীল। রিজার্ভ অ্যান্টিবায়োটিককে যখন আমরা মুড়ি-মুরকির মত ব্যবহার করি, তখন জীবাণুগুলো তাদের চিনে নেয়, নিজের জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে সেগুলোর বিরুদ্ধে নিজেকে রেজিস্ট্যান্ট করে গড়ে তোলে, কোনো কোনো জীবাণু তো আরো সরেস, 'সুপারবাগ' হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে। অন্যদিকে একেকটা অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারে যুগের পর যুগও কিন্তু পার হয়ে যায়।So, mind it, নতুন নতুন Superbug তৈরি হচ্ছে, নতুন যুদ্ধাস্ত্র কিন্তু সেভাবে তৈরি করা যাচ্ছে না...

ফলশ্রুতিতে আমরা ধীরে ধীরে Post antibiotic era তে প্রবেশ করছি, যেখানে জীবাণু আছে কিন্তু কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নেই। আমার কথা বাদ দেই, ফুকুদা সাহেবের (Keiji Fukuda, Assistant Director, WHO) কথাকে কোট করিঃ

"A post-antibiotic era — in which common infections and minor injuries can kill — far from being an apocalyptic fantasy, is instead a very real possibility for the twenty-first century...."

এই বছরের শুরুতে খবর পেলাম USA তে সবধরণের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু আত্মপ্রকাশ করেছে, মানুষ তাতে মারাও গিয়েছে। বৃটেনে নাকি বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু দিয়ে প্রতিবছর সরকারী হিসেবে ৫,০০০( বেসরকারী হিসেবে ১২,০০০) রোগী মারা যাচ্ছে....

কেউ কি ধারণা করতে পারছেন অসংযত বাংলাদেশে কি ঘটছে বা ঘটতে চলেছে?....

৬....

মাস ছয়েক আগে একটি সায়েন্স ফিকশন মুভি দেখছিলাম।কোনো এক অজানা জীবাণুর আক্রমণে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে এসেছে, নিজেদের DNA তে আনএক্সপেক্টেড কিছু পরিবর্তনের কারণে একাকীত্বকে সঙ্গী করে কিছু মানুষ জীবাণু থেকে বেঁচে রয়েছে। কি ভয়াবহ! কি নিষ্ঠুর সে একাকীত্ব!.....

লেখাটা লিখতে গিয়ে মুভিটার কথা মনে পড়লো। যদিও সেটি একটি সায়েন্স ফিকশন মুভি তবুও তা কি বাস্তবে খুব অসম্ভব?

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে আমরা যেভাবে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু তৈরির ক্ষেত্র প্রশস্ত করছি, আমি আতঙ্কিত, হয়ত একসময় মুভিটি সত্য হিসেবে আবির্ভূত হলেও হতে পারে...

৭....

একটা হিউম্যান সাইকোলজী বলি-- আমরা দৃশ্যমান প্রলয়কে ভয় পাই, অদৃশ্য প্রলয়ের আগমনকে উপেক্ষা করি। এটি হবার কথা ছিলো না, উল্টোটাই হওয়া উচিত ছিলো, দৃশ্যমান প্রলয়ে প্রস্তুতি থাকে, অদৃশ্য প্রলয়ে নয়...

অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে আমরা আস্তে আস্তে Post Antibiotic Era এর দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি, প্রলয়বীণা দ্রুতই বাজবে। দরজা উন্মুক্ত হলেই অদৃশ্য প্রলয় তার ধ্বংসাত্মক চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হবে। আমরা ভুলে যাচ্ছি, সে ক্ষমাহীন প্রলয় কোনো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর জন্য নয় বরং সে নির্দয় প্রলয় সমগ্র মানবজাতিকেই গ্রাস করবে.....

৮....

সুকান্তের 'ছাড়পত্র' কবিতাটি কি আপনাদের মনে আছে? আমি কয়েকটি লাইন মনে করিয়ে দেইঃ

"চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার....."

মানবসভ্যতার ইতিহাস অগ্রযাত্রার ইতিহাস, ধ্বংস থেকে মাথা তুলে দাঁড়াবার ইতিহাস। সাময়িক সময়ের জন্য এরা মিসগাইডেড হলেও, ইতিহাস বলে, এদের নিজেদের প্রয়োজনে কখনো না কখনো আবার শুভবুদ্ধির উদয় ঘটেছে.....

এই 'শুভবুদ্ধির উদয়'ই আমাদের প্রেরণা। অযাচিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ হোক।সবার কাছে অনুরোধ, নিজেদের প্রয়োজনেই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ রাখুন, নবজাতকের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলুন....
__________________________
ধন্যবাদ
ডা. জামান অ্যালেক্স । লোকসেবী চিকিৎসক। জনপ্রিয় লেখক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৩:৫০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×