somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুমাইয়া শিমু, কালা-সাদা ও প্রবাস অভিজ্ঞতা

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা, আপনারা যারা নিজেদের সুন্দর মনে করেন, যারা নিজেদের শ্যামলা সুন্দর বা শ্যামলা ভাবেন।আর যেসব মানুষ নিজেদের কালো ভেবে কষ্ট পান। তাদের সবারই জানা উচিৎ, পশ্চিমা দেশের সাদা চামড়ার মানুষেরা আমাদের সবাইকেই(কথিত সুন্দর, শ্যামলা, কালা) ব্ল্যাক পিপল মনে করে।
সম্প্রতি আফ্রিকা ফেরৎ আমাদের সভ্যতার জ্ঞানদানকারী এমপি সাহেবেরও জানা উচিৎ, বাংলাদেশকে অনেক পশ্চিমাই আফ্রিকার একটা 'ব্ল্যাক', অত্যন্ত 'পোর কান্ট্রি' ভাবেন।বাংলাদেশ যে এশিয়ার একটি দেশ এটা তারা আমাদের মুখে প্রথম শুনেন।কেউ কেউ অবাকও হন।
আমি এখন ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগ সেতুর শহর ইস্তাম্বুলে বাস করছি।তুর্কির সব মানুষই সাদা চামড়ার, এদের অধিকাংশই শিক্ষিত, চলনে বলনে আধুনিক।পর্যটন নগরী বলে প্রতিদিন হাজার হাজার বিদেশী আসে শহরটিতে।এছাড়া অগুণতি বিদেশী শিক্ষার্থীর কলোরল শহরটির সৌন্দর্য্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদের যাদের সাথেই পরিচয় হয়েছে, পরিচয়ের প্রথম ক্ষণটা ছিল বেশ বিব্রতকর।
অধিকাংশই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির নাম জানে না। 'বাংলাদেশ কোথায়' ওদের কমন প্রশ্নগুলোর একটি।যারা জানে তাদের একটি অংশ এটিকে আফ্রিকার কোনো একটি কালো মানুষের অসভ্য জনপদ হিসেবে জানে।
যারা এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে বিডিকে চিনে, তাদের ধরণা বাংলাদেশ বন্যা খরায় জর্জরিত একটি দেশ।দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন একটি দেশ।রাজনৈতিক সহিংসতার একটি দেশ।তার্কিশদের বিশাল একটি অংশ দেশটিকে মুসলমানদের দুশমন জাহেল দেশ হিসেবে চেনে? এদের ছোট একটি অংশ বাংলাদেশকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র ভাবে!
এ পর্যায়ে এসে লব্ধ অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, একবার এক রাশিয়ান বন্ধুকে কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বাংলাদেশ সম্পর্কে রাশিয়ানদের ধারণা কী।ও উত্তরে বলল, অধিকাংশ রাশিয়ানই বাংলাদেশ নামে যে একটি রাষ্ট্র আছে তা জানে না। যারা জানে তাদের ধারণা এটা খুব গরীব একটা দেশ।তারা টি শার্ট বানিয়ে জীবন চালায়।গত কয়েকদিন আগে, আমার এক জার্মান ফ্রেন্ড আমাকে প্রশ্ন করেছে, বাংলাদেশের মানুষ কি এখন ঠিক করে খেতে পায়!
লেখাটা এ পর্যন্ত পড়ে কেউ যদি প্রশ্ন তুলেন, আমাদের কি কোনো অর্জন নেই।আমি বলব অবশ্যই আমাদের অর্জন আছে।আরও অনেক অর্জন থাকতে পারত। একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়ায় আমাদের নিয়ে পজিটিভ খবর প্রকাশিত হয় না বললেই চলে।
এক ড. ইউনূসকে নিয় কত জায়গায় কত যে গর্ব করেছি।আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ছবি দেখিয়ে বলেছি, এই মানুষটিকে শিক্ষায় নোবেল দেয়া না হলে নোবেলের গৌরব কমে যাবে...

আর একটু বলি,
দেশের বাইরে আসার পর উপলদ্ধি করলাম, আমরা যেন খোদার পালক বা বৈমেত্রিয় সন্তান! আমরা একদিকে যেমন কালো, অন্যদিকে ক্ষীণকায় দুর্বল।এ জন্যে বোধহয় আমাদের মানসিকতাও খুব ছোট।অপরের সুখ দেখে কষ্ট পাই আর অপরের দুঃখ দেখে সুখ পাই আমরা বাঙালিরা।

আফ্রিকানরা আমাদের চেয়ে কালো এ কথা সত্য তবে ওদের একটাকে ভাগ করলে আমাদের তিনটার চেয়ে বেশি হবে।ফলে বিশাল বডির গুণে ওরা ক্ষেত্রবিশেষে পার পেয়ে যাচ্ছে।সুতরাং চামড়া বা ছোট বডি হওয়ার অপরাধে আমাদের টুকটাক বৈষম্যের শিকার হতে হয়।
প্রথম প্রথম এসব ভেবে আমার খুব খারাপ লাগত।ভাবতাম পশ্চিমারা বর্ণবাদী।কিন্তু পরে চিন্তা করে দেখলাম আসলে একজন মানুষ হিসেবে তার্কিশ বা পশ্চিমারা আমাদের চেয়ে হাজার গুণ ভাল। ভাল বলেই ওরা আমাদের মতো মানুষদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করে, এক টেবিলে বসে খায়।আমাদের দেখে অন্তত ঘৃণায় নাক ছিটায় না।
শিমুর বরের রং নিয়ে চলমান বিতর্ক আমাকে আর একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল যে আসলে আমরা এখনো সভ্যতা শিখতে পারিনি।আমাদের কিছু নেই, তারপরও আমরা অহংকারী, বর্ণবাদী।
আমরা এখনো এ বাস্তবতা উপলদ্ধি করতে শিখিনি যে, দুনিয়ার তুলনায় আমরা সত্যিই অনেক কালো, বিশ্রী ও ক্ষীণকায়।আমরা যারা বিডিতে বসে নিজেদের গরীব ভাবি, যারা নিজেদের বড়লোক দাবি করে উদ্ধত্য দেখাই তারা সবাই বিদেশীদের চোখে ফকির।বিদেশিদের তুলনায় নিঃস্ব।আসলে পশ্চিমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে তুলনা করলে আমাদের জীবন কোন প্রাণীর জীবন সংগার মধ্যে ফেলা মুশকিল হবে।
বসুন্ধরার মালিকের সাথে কাকরাইল বস্তির এক বাসিন্দার যে পার্থক্য বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পার্থক্য এরচেয়েও বেশি।সুতরাং সাধু সাবধান। বড়াই করার আগে একবার উপরে তাকান। আপনি যে সৌন্দর্য নিয়ে অহমিকা দেখাচ্ছেন পশ্চিমাদের, আরবদের বালের আলোর কাছে আপনার সে সৌন্দর্য মলিন হয়ে যায়...
সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।কালার নয়, ক্যাপাসিটি, ক্যাপাবিলিটিই হোক মূল্যায়নের একমাত্র মাধ্যম।

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×