somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো-৭

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৩:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
টাইট জিন্স পরিহিত এক নব্য হিজাবী রাস্তা পার হইতেছে মোহাম্মদপুরে, রিক্সাওয়ালারে বললাম, 'আস্তে যাও ওই আপারে পার হইতে দাও'। মামু কয়, 'দেইক্ষা তো মনে কয় গার পরে উডায় দি, শইল ঢাকনের খবর নাই মাতায় পদ্দা করতেছে। শালার মাতারীর দল, স্টাইল মারে।' বললাম, 'এইডা হইলো হিজাব মামু, আধুনিক পর্দা'। উত্তরে মামু যা কইলো, শুনে আমি হাসতে হাসতে রিক্সা দিয়ে পড়ে যাচ্ছিলাম। মামু কয়, 'এই রহম পদ্দা করা আর মাজারে বইস্যা গাঁজা টাইনা আল্লারে ডাকা সমান কতা। দুইডাই বাটপার।"
সমুদয় ছোট বইন/আফা/খালাম্মা, তোমরা যারা হিজাবি ফ্যাশন কইচ্ছো তাগো জনগন কি চক্ষে দেখতাছে বুইঝা লও। পাগড়ী পড়ে নামাজ পড়লে ৭০গুন বেশি ছওয়াব।তাই বলে লুংগি খুইলা মাথায় বাধতে বলে নাই।

২।
কয়েক মাস আগে ধানমন্ডির এক ছোট ভাই ফোন দিল আমাকে, বলল-
-ভাই কেমন আছেন ? এই প্রথম আপ্নারে ভুল প্রমান করতে পারছি, এই আনন্দে ফোন দিলাম। ভাই কি ব্যস্ত ?
- একটু ব্যস্ত, পরে কথা বলি। -
- না বলে শান্তি পাচ্ছি না ভাই, দুই মিনিট লাগবে, বলি ?
-আচ্ছা বল। এতো আনন্দিত মনে হচ্ছে কেন ?
- আপনার নায়ীকারে দেখলাম।
-কোন নায়িকা ?
- ঐযে ছোট্ট করে। আপনারে চুড়ান্ত অপমান করলো, হুমকি ধামকি দিলো লোকজন দিয়ে। তারপরেও আপনি বললেন যে, সে নাকি অসাধারন মেয়ে। অনেক ভালো ভালো কিছু শিখছে। অশালিন ড্রেস পরে না কখনও আর পরবেও না।
-আচ্ছা কি হইছে তাই বল, আমি ব্যস্ত।
- ভাই আপনি আসলে মানুষ চিনেননা। আপনি ভালোতো এইজন্য সবাইরে ভালো মনে করেন। আর মেয়ে মানুষ, ভাই খুব খারাপ।
- কি বলবা বল। এতো জ্ঞান দিতে হবে না।
-ভাই, আমি প্রথম থেকে কইছিলাম না যে, এই মেয়ে নাটক করতেছে। আমি একদিন কথা বলেই বুঝছি।
- আচ্ছা আমি রাখি। পরে কথা বলব।
- না না শোনেন, তারে দেখছি একটু আগে। ভাই, আপনি বিশ্বাস করবেন না। টাইট হট ড্রেস পরে যাইতেছে, আর ভাই খুব যে বলতেন বড় ওর্না ব্যবহার করে- সেতো এখন আর ওর্নাই পরে না। হা হা হা। বুঝলেন ভাই, বয়সে আপনার ছোট হতে পারি কিন্তু প্রচুর মেয়ে ঘাটছি এই বয়সে। আমি ওদের হাড়ে হাড়ে চিনি।
- আচ্ছা ঠিক আছে চিনতে থাকো। আমার বিশ্বাস আমার কাছেই থাক। আমার সাথে যতদিন ছিলো ভালই ছিলো, সেরকমই আমি মনে করে যাবো। এখন সে কি করলো, ন্যাংটা হয়ে চললও এটা আমার ম্যাথা ব্যাথা না। এইডা ওর নতুন বয় ফ্রেন্ডের ব্যাপার। রাখি, ভালো থেকো।
- ভাই কি রাগ করলেন ?
-নাহ, রাগের কি আছে।

জানিনা কেন, ফোন রাখার পরে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। কঠোর বিশ্বাস নষ্ট হলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। :( :(

৩।
ইদানিং নিজের কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি জানতাম যে আমি একবার মাথায় ঢুকালে সহজে কিছুই ভুলি না। কিন্তু অবাক হলাম গত মাসে ২৬ তারিখ মনে হল যে ১৬ তারিখে আমার খুব প্রিয় একজনকে জন্মদিনের উইশ করা হয়নি। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে তার সাথে যখন শেষ দেখা হয় তখন অনেক দুঃখী মনে বলেছিলো, 'তুমি তো আমাকে কয়েকদিন পরেই ভুলে যাবে, তাই না ? এইটাই আমার একমাত্র দুঃখ, এমন এক ছেলেকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালবাসলাম, তার কাছ থেকে কখনও সাড়াতো পেলামই না উল্টো শুধু খারাপ ব্যাবহার। আমি তার ভিতরে একটুও জায়গা পেলাম না।' আমি বলেছিলাম, কে বলেছে আমি মনে রাখবো না, অবশ্যই মনে রাখবো। হয়তো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ থাকবে না, কিন্তু তোমার কথা আমার সবসময় মনে থাকবে। কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। একটা বারের জন্যও আমার মনে পড়লো না যে ১৬ই অক্টোবর তার জন্মদিন ছিলো। আমার ঠিক ৩ দিন আগেই তার। এভাবে ছোট খাটো অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছি ইদানিং আর নিজেই খুব অবাক হচ্ছি। হলটা কি আমার !!! বন্ধুদের দ্বারা আয়োজিত নিজের জন্মদিনের পার্টিতে চরম মজা করলাম কিন্তু সেদিনো একবারও মনে পড়েনি। আসলে সময় সব কিছু মুছে দেয় , সবকিছু। :(
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১:৫১


মাইলস্টোন স্কুলের কথা কি এখনও মনে আছে? একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল স্কুলের ওপর। ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করছিল, হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এল মৃত্যু। ঠিক যেমনটা আমরা সিনেমাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রমাটিক নন্দনতত্ত্বের ব্যবচ্ছেদ

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪০


শহুরে জ্যামিতির প্রতিটি কোণে আজ এক বিমূর্ত হাহাকার, যেখানে আমাদের ছায়াগুলোও বড্ড বেশি অচেনা আর পরাবাস্তবতার মতই নির্জীব। রক্তিম গোধূলির কার্নিশ বেয়ে চুইয়ে পড়ে এক আধো-চেনা ট্রমা, যেন কোনো এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাওড়া স্টেশনের স্মৃতি

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৫৮



মায়ের সাথে স্মৃতির শেষ নেই। আজ মা দিবস উপলক্ষে, মাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম সেই স্মৃতি নিয়ে কিছু কথা লিখছি।

হাওড়া স্টেশন। মা, সাহস, নিপু, আমি। প্রচণ্ড ভীড়ের ভিতর আমরা হাঁটছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অতল সমুদ্রের প্রতিধ্বনি: ছায়ার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

হাতিয়ার লক্ষ্মদীয়া গ্রামে ৫ মে-র বিকেলটা ছিল অস্বাভাবিক গুমোট। মেঘের আড়ালে সূর্য লুকানোর আগেই খবর এল—৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ ফিরে এসেছেন। বাড়ির উঠানে ৮৩ বছরের এক বৃদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মি মোদিজ্বির দেশ বাঁচাও আহবান এবং বাংলাদেশ সরকারকে কিছু কথা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:০৭

কার্য্যত গত কয়েক দিন আগে হায়দারাবাদে এক জনসভায় মি মোদি প্রথম স্বীকার করেন যে, বর্তমানে ইন্ডিয়ার আর্থিক অবস্থা এখন অত্যন্ত দূর্বল এবং সেখানে তিনি ভাষনে দেশবাসীকে কিছু কথা বলেন যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×