somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবুও তোমাকেই ভালোবেসে যাবো

১১ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন মাঝে মাঝে কঠিন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো ভারী হয় সম্ভবত কাউকে ভালোবাসলে অথবা কারো ভালোবাসায় পড়লে। যেখানে কেউ কান্না করে তার প্রিয় মানুষটিকে পেয়ে আবার কেউ কান্না করে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে। জীবনে এই দুটি ঘটনার কোনো একটি ঘটলে জীবনকে মনে হয় কাগজের একটি নৌকা। যে নৌকাটিকে কেউ খুব সুন্দরভাবে ভাজ করে অনেক যত্ম করে সময় নিয়ে পানিতে ভাসালো। মজার কথা হলো রাক্ষুসী পানির কাছে নৌকাটির প্রয়োজন বা মূল্য একেবারেই নগন্য। খুব অল্পসময়েই পানি আদরে গড়া সেই নৌকাটিকে ভিজিয়ে নি:শ্বেস করে দেয়।

কিছু ভালোবাসা তেমনি করে কিছু ভালোবাসার মানুষের কাছে অসহায়। জীবনে কখনো কখনো ভালোবাসা আপনার কাছে মুল্যহীন মনে হবে। যে মানুষটি আপনার চোখের আড়াল হলে আপনার হৃদয়ে কষ্টের ঢেউ উঠতো সেই মানুষটির কাছেও আপনাকে একসময় কাঠের পুতুল বলে মনে হবে। তখন শুধু আপনাকে মেনে নিতে হবে ভাগ্যে যা লেখা আছে তা-ই। যে জীবনটাকে আপনি ফুলের মতো করে সাজিয়েছিলেন সে জীবনটা হয়তো খুব নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যাবে। জীবনের ক্ষতিগুলো তখন চাইলেও পূরণ করতে পারবেন না। শুধুই অনুসূচনার আগুনে সবার অজান্তে নিজে একা পুড়ে মরবেন। আপনার কষ্ট এবং অনুসূচনাগুলো তখন হয়তো আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে অর্থহীন এবং মূল্যহীন মনে হবে। দেখবেন আপনার কষ্টের সামনে বসে অনায়াসেই দিব্যি হাসি মুখে হেসে যাচ্ছে সেই মানুষটি যার জন্য আপনি কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

মানুষ চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে। আর যা পারে না তা হলো প্রিয় মানুষটিকে ভুলে থাকতে। প্রিয় মানুষটিকে ভুলে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কঠিন কাজ। কেউ কেউ প্রিয় মানুষটির হাত ধরেই এগিয়ে যায় অনেক দূর। আবার কেউ কেউ প্রিয় মানুষটির হাত ধরার পরেও অনেক দূরে ছিটকে যায়। বিচ্ছেদ প্রতিটা মানুষকে অনেক কষ্ট দেয়। আর এই কষ্টগুলো জীবন থেকে অনেকটা সময় কেড়ে নেয়।

তোমার কারনে জীবনের অনেক স্বপ্নই শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল। প্রয়োজনের কারণেই হয়তো তুমি এত বদলে গেলে। স্বপ্নের উচ্চভিলাষে তুমি এখন বিভোর হয়ে আছো। তোমার উচ্চভিলাসি স্বপ্ন প্রতিদিন হয়তো তোমাকে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখায়। তুমি হয়তো সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন কাব্য রচনা কর। বাস্তবতা হলো মানুষ চাইলেই তার জীবনের পরিবর্তন আনতে পারে না। সুখের পিছনে মানুষ যতই দৌড় দেয় সুখ ততই সামনে গিয়ে হাতছানি দেয়। সুখ যদি নিজ থেকে এসে কারো জীবনে দেখা না দেয় তাহলে কখনো সুখের সন্ধান পাওয়া যায় না। তোমার পরিবর্তন দেখে প্রকৃতিও অবাক। কিছু কিছু মন রংয়ের হাওয়ায় অনেক বদলে যায়। তখন পৃথিবীর অন্য সবকিছু খুবই তুচ্ছ মনে হয় সেই মানুষগুলোর কাছে। প্রতিটি মানুষের জীবনে দু:খের ছোঁয়া আসে তার অধিক সুখের পর পরই। জানি না তুমি কিভাবে কাটাবে সেই মুহূর্তগুলোকে যখন সুখের বিপরীত অনুভূতিগুলো তোমাকে গ্রাস করে রাখবে।

জানিনা কার হাতছানিতে তুমি আমাকে পর করে দিয়েছো। হয়তো সে তোমাকে আমার চেয়ে অনেক সুন্দর করে ভালোবাসার কথাগুলো বলতে পারে। তার আবেগগুলো আমার চেয়ে অনেক বড় কিনা জানি না। হয়তো তার আকাশে তুমি নিজেকে অনেক সুখী মনে করো। আমার একাকী এই মন সারাক্ষণ তোমার জন্য কান্না করে। কি ছেলেমানুষী কান্না যা কাউকে আমি দেখাতেও পারি না। সবার কাছে যা ছেলেমানুষী অথচ সেখানে মিশে আছে আমার জীবনের সব কষ্টের অনুভূতিগুলো। সত্যিই নীরব রাতের কান্না মনের একান্ত গভীর থেকে আসে। জীবনে ভালোবাসা হয়তো বার বার আসে না যদি একবার এসে চলে যায়।

তোমাকে ভুলে যেতে হবে এমন কিছুই মেনে নিতে পারি না। এখনো তোমাকে মনে পড়ে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত। ব্যবধান শুধু এতটুকুই, আগে মনে হলে তোমাকে বলতে পারতাম এখন আর পারি না। তোমার আর আমার মাঝে কত বড় ব্যবধান যার ভিত্তি অনেক মজবুত। অথচ এই ব্যবধানের সীমানায় মিশানো হয়নি কোন ইট বালি। মানুষের কথা যে কত চিকন হতে পারে যা তোমার সাথে না মিশলে জানতাম না। সত্যিই তোমার সেই চিকন কথার আঘাতগুলো আমাকে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়। আমি সব কিছুই ভুলে যাবো যদি তুমি আবার ফিরে এসো।

বিশ্বাস করো প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে মনে পড়ে। আমার কোন ঘৃণা নেই তোমার উপর। তোমার প্রতিটি আচরণ তোমার প্রতি আমার সততার বিশ্বাস দ্বিগুন বাড়িয়েছে। এখনো তোমার মাঝে আমি বিশ্বাস খুজে পাই আমার বেচেঁ থাকার। এখনো তোমার আবেগমায়া মুখের দিকে তাকালে আমার অনেক মায়া হয়। কেন হয় জানি না। হয়তো আমি সত্যিই একটু বেহায়া। প্রতিটি মানুষই তার প্রিয় মানুষটির কাছে এধরণের বেহায়া হয়। খুব ইচ্ছে হয় আবার তোমার চোখের উপর চোখ রেখে তাকাতে। ইচ্ছে হয় তোমার হাসি মাখা মুখ দেখে আমিও একটু হাসি। কতটা ব্যবধান আমাদের মাঝে। তুমি কি কখনো ভেবেছো দিন দিন আমরা কতটা পর হয়ে যাচ্ছি। খুব ইচ্ছে করে তোমার কপালে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে একটা চুমু খেতে। যে চুমুতে মিশে থাকবে পৃথিবীর সব ভালোবাসা। রাগ করো না লক্ষ্মী আমার। তুমি রাগ করলে আমার অনেক কষ্ট হয়। তোমার কষ্ট আমাকেও অনেক কষ্ট দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×