somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোলাগা নাকি ভালোবাসা

১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার সাথে ঠিক কিভাবে এতোটা মিশে গিয়েছিলাম মনে করতে পারছি না। প্রতিদিনই একবার হলেও চেষ্টা করি মিশে যাওয়ার সেই সময়গুলো মনে করতে। কিভাবে শুরু হয়েছিল আমাদের এতটা আপন হওয়া ঠিক মনে নেই। তবে প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছি খুব মনে পড়ে সেই স্মৃতিগুলো। অনেক সহজ সরল তোমার একটি স্মৃতি মনে পড়লে একটু হলেও হাসি। কত সহজ ভঙ্গিমায় তুমি নিষেধ করার পরও কাজটি করেছিলে। তোমাকে সেদিন আমার কাছে পৃথিবীর এক নিষ্পাপ মানুষ বলে মনে হয়েছে।

এরপর অনেকটা দিন কেটে গেল দেখতে দেখতে। তোমার ছোট্ট ছোট্ট কাজগুলো আমার কাছে অনেক ভালোলাগতো। প্রতিটা কাজের মাঝে কেন যেন অনেক মায়া জড়িয়ে থাকতো। অনেক আপন করে জিজ্ঞেস করতে কেমন আছেন। তোমার মিষ্টি মায়াবি হাসি দেখলে সত্যিই মন খারাপ থাকলেও মুহূর্তেই ভালো হয়ে যেত। নিজ থেকে কোন কাজ যখন এগিয়ে এসে করে দিতে মনে হতো কিভাবে তোমার মন বুঝে এই কাজটা এখন করা দরকার। আমি প্রায়ই ভাবতাম তোমার মনের প্রখর ধারণা নিয়ে। সত্যিই তুমি অসাধারণভাবে আমাকে বুঝতে।

আমরা দু’জন দু’জনকে একসময় খুব বুঝতাম। কেমন যেন গণকের মত করে একজন একজনের মনের কথা বলে দিতাম। আমাদের এই ছোট্ট ছোট্ট গণকের কাজগুলো আমরা খুব উপভোগ করতাম। তোমার মন খারাপ থাকলে আমি মুহূর্তেই তোমাকে হাসিয়ে ফেলতাম আর তুমিও একই কাজ করতে যখন দেখতে আমার মন খারাপ। খুব আপণ করে তোমার সমস্যার কথাগুলো যখন আমাকে বলতে আমি মনযোগ দিয়ে শুনতাম। আমি ভাবতাম কত আপন তুমি আমাকে ভাবো। তোমার গভীর বিশ্বাস আমাকে বিশ্বাস করতো বলেই তুমি আপণ মনে কথাগুলো বলতে।

তোমার ছোট্ট ছোট্ট আবদার আমাকে খুব হাসাতো। তোমাকে দেখার জন্য যে কাজটি একবার করলেও হতো সেই একই কাজ বার বার করতাম। এভাবে চলতে থাকলো অনেক দিন। প্রায়ই তোমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকতাম। মাঝে মাঝে সত্যিই অনেক অবাক হতাম যখন ভাবতাম তুমি এসেছো ঠিকই দৃষ্টি ফিরিয়ে দেখতাম তুমি এসেছো। অসাধারণ এক অনুভূতি তখন মনের ভিতর কাজ করতো।

অনেক অত্মবিশ্বাস জমতে থাকলো নিজের মধ্যে। স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকতাম তোমায় ভেবে। জীবনের প্রতিটি অনুভূতিতে আস্তে আস্তে মিশে গেলে তুমি। সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি যার ব্যাপ্তি ও পরিধি ছিল আকাশ সমান। প্রতিটি দিন আমাদের কাছে খুবই অল্প সময় মনে হতো। কষ্ট আমাদের একটুও স্পর্শ করতে পারতো না। একজনের কাছে অন্যজনের হাসিই ছিল বড় প্রাপ্তি। তখন অন্য কোনো ভাবনা থাকতো না আমদের ঐ জগতে। সুখের স্বর্গে আমরা তখন বাঁধাহীনভাবে ডানা মেলে উড়তাম।

যখন চোখের আড়ালে থাকতে তখন তোমাকে মনে পড়তো অনেক বেশী। ঘন মেঘের অতি বর্ষনে যখন সবাই তার প্রিয়াকে নিয়ে রোমাঞ্চকর কল্পনায় মেতে থাকতো তখন আমার ভাবনা ছিল না জানি তুমি বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছ। প্রকৃতির প্রখর রৌদ্র যখন সব কিছু উত্তপ্ত করে দেয় তখন আমি ভাবি না জানি তুমি অনেক ঘেমে গেছো।

যখন তোমাকে কিছু কষ্ট ঘিরে থাকতো সেই কষ্টগুলো আমাকেও ঘিরে থাকতো। তোমার মলিন মুখ যখন আমি দেখতাম খুবই কষ্ট লাগতো। যখন তোমার কাছে কারণ জানতে চেতাম তুমি নীরবে কাটিয়ে যেতে চাইতে। তুমি না বললেও আমি তোমার সব কষ্ট বুঝি। কারণ আমাদের আত্মাদুটোকে আল্লাহ অনেকটা মিল রেখে বানিয়েছে। কেন যেন দিন দিন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছ তুমি। কষ্টকে লুকিয়ে রাখলেও আমি তোমার কষ্ট বুঝি। কোনদিন কি এমন হয়েছে তুমি আমার থেকে কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পেরেছো।

কখন যে এতটা আপন করে নিয়েছি তোমাকে বুঝিনা। এখন তোমাকে অনেক কাছের বলে মনে হয়। অনেক আত্মবিশ্বাস খুজে পাই তোমার মাঝে। অনেক স্বপ্নের উৎস মনে হয় এখন তোমাকে। তোমার মাঝে খুজে পাই আমার পথ চলার প্রত্যয়। প্রতিটি বিশ্বাসে মিশে আছো তুমি, মিশে আছো আমার জীবনের প্রতিটা নি:শ্বাসে। জানিনা এগুলো তোমাকে ভালোলাগা নাকি ভালোবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×