somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচিত্র জীবন

১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নষ্ট হওয়া প্রতিটি মানুষের অন্তরালে থাকে নিষ্পাপ চাওয়া পাওয়ার কিছু বিরূপ প্রতিফলন। যখন এই চাওয়া পাওয়া থেকে না পাওয়ার বেদনা নিয়ে ফিরে আসতে হয় তখন জীবনের প্রতি অনেক হতাশা নেমে আসে। জীবনের প্রয়োজনীয়তা তখন কারো কাছেই মূল্যবান মনে হয় না।ভবঘুরে মানুষ কিংবা যারা মনঃকষ্টে থাকে তাদের দেখলে অনেক মায়া হয়। সত্যিই কষ্ট মানুষকে কি না করতে পারে।স্বভাব নষ্ট করা থেকে শুরু করে অধপতনের নিম্ন রেখায় নিয়ে যায় নিমিষেই এই কষ্ট।

বহমান এই জীবনে কষ্ট প্রতিটি মানুষের জীবনে আসে। কারো কাছে আসে ভালোবাসায় ব্যর্থতা নিয়ে। কারো কাছে আসে অভাবের মাধ্যমে। কিছু কিছু মানুষের কষ্ট কিছু কিছু মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।কষ্ট যেমনই হোক না কেন সত্যিই তা কষ্টের। আপনি যাতে কষ্ট পাচ্ছেন হয়তো আপনার পরিচিত কেউ শুনলে আপনাকে বলবে আরে এটা নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কি আছে? অথচ এই কষ্টের যন্ত্রণা আপনাকে শেষ করে দিচ্ছে।কেউ কেউ কষ্টের এই যন্ত্রণা নিয়েই হারিয়ে যাচ্ছে অচেনা অজানা পথে।হয়তো সেই লোকদেরকেই আমরা শহরের রাস্তার আনাচে কানাচে দেখতে পাচ্ছি । কি বিচিত্র জীবন তাদের। না আছে খাওয়া দাওয়ার হুশ, না আছে কোনো অনুভূতি। কি ভালো আর কি মন্দ তা বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে তারা।এই জীবন থেকে ফিরে আসার অনুভূতিও এখন তাদের মনে জাগে না।জীবনের কোন চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্খা এখন আর তাদের মধ্যে নেই। কারণ এই অনুভূতি ও আকাঙ্খাই তাদের জীবনের এই পরিণতি করেছে।

মানুষ যখন কোন কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার বেশীর ভাগই অবদান থাকে স্বপ্ন যাকে নিয়ে দেখা হয় তার কাছে। চাইলেই সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন অথবা কাফন সবকিছুই করতে পারে যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা হয় সে। পৃথিবীর প্রায় সব স্বপ্নই প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যায়।স্বপ্ন ঝরে গেলেও বেঁচে থাকে স্বপ্নদ্রষ্টা সেই মানুষগুলো। কষ্ট তখন তাদেরকে এমনভাবে গ্রাস করে যার শেষ পরিণতি হয় নষ্ট জীবন। প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন বা চাওয়া পাওয়া যদি পূরণ হতো তা হলে সব মানুষই ভালো থাকতো।মহা সুখের এক পৃথিবী হতো যেখানে দুঃখ খুজে পাওয়া কঠিন হতো।

সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে সব নষ্ট ও কষ্টকে জয় করা যায়। কিছু কিছু মানুষের কারণে কিছু কিছু মানুষ নষ্ট হয়ে যায়।কারও কারও আচরণ মানুষকে এত কষ্ট দেয় যে জীবন তখন অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।আবার কিছু মানুষের অহমিকা ও দাম্ভিকতা অনেকের মনে কষ্ট দেয়। প্রতিটি মানুষের উচিত তার আচরণ ও কথাবার্তা এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে কেউ কষ্ট নায় পায়।

ভালোবাসা হচ্ছে সব কিছুকে জয় করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। মানুষ ভালোবাসা দিয়ে খারাপ মানুষকেও ভালো পথে আনতে পারে।আবার এই ভালোবাসাই অনেক মানুষকে খারাপ পথে অথবা নষ্ট জীবনে জড়ায়।যখন কেউ তার প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসি বলে ‘না‘ উত্তর পায় তখন সত্যিই তা অনেক কষ্টের হয়।প্রতিটি ভালোবাসার অভিব্যক্তিতে মিশে থাকে একটি জীবনের সব অনুভূতি। সেই অনুভূতির ভাষাগুলো যখন প্রিয় মানুষটিকে বুঝাতে না পারা যায় তখন ভাষাকে নিজের কাছে নিষ্প্রয়োজন বলে মনে হয়। সব কিছুই ভাষা দিয়ে বুঝানো গেলেও ভালোবাসি এর বর্ণনা সম্ভবত ভাষা দিয়ে বুঝানো যায় না। আপনি যদি ভালোবাসার এই বর্ণনা প্রিয় মানুষটির কাছে ভাষা দিয়ে ব্যখ্যা করতে যান হয়তো পাগল উপাধি নিয়ে ফিরে আসতে হবে। সত্যিই অনেক কষ্ট, যখন আপনার অনুভূতিগুলো কারো কাছে ঠাট্টা বলে মনে হয়।

প্রতিটি মানুষ ফিরিয়ে দেয়ার কষ্ট কারো কাছ থেকে ফিরে গেলেই বুঝতে পারে।তখন বহমান জীবনের ঘটে যাওয়া সব স্মৃতি এক এক করে মনে পড়ে। মানুষ তখন সবচেয়ে বেশী মনে করে তার ফিরিয়ে দেয়া ভালোবাসার কথাগুলো।যে মানুষটির ভালোবাসা না পেয়ে জীবন চলার পথের পরিবর্তন হয়েছে সেই মানুষটি হয়তো তার ভালোবাসা পেলে অনেক দূরে এগিয়ে যেতে পারতো।প্রয়োজন যখন কাছে এসে খুব অনুরোধ করে তখন প্রয়োজনের মূল্য কমতে থাকে। অনেক যন্ত্রণাদায়ক কিছু অপমাণ অথবা আরো কিছু নীরব আঘাত যা নীরবে ধ্বংস করে এগুলোর সম্মুখীন হতে হয় তখন।

মানুষ যখন কষ্টগুলোকে আর সহ্য করতে পারে না তখন জীবনের প্রতি একধরণের অনিহা জন্ম নেয়। জীবনের প্রতি অথবা নিজের বিবেকের প্রতি তখন কষ্টে জর্জরিত মানুষগুলো তার দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলে। কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু মানুষ হয়ে যায় অপ্রতিরোধ্য। সমাজ তখন তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখতে শুরু করে।আর কিছু মানুষ নীরবে কষ্টগুলোকে নিয়ে বসবাস করে। কারণ হিংস্রতা তাদেরকে সাথে মিশে থাকতে পারে না। তাদের প্রতিবাদ হয় নীরব ঘৃণা আর গভীর রাতের নীরব চোখের পানি। সত্যিই জীবন অনেক বিচিত্র।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×