somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্যি বলছি, "তোমাকে ভালোবাসি"

১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন ভালোবাসার অনুভূতিগুলো প্রকাশ করি তখন তুমি হয়তো তা স্বাভাবিক মনে করো। যখন আমার কষ্টগুলোর যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারি না তখন হয়তো তুমি তাতে অনেক সুখ খুজে পাও। যখন আমার নির্ঘুম রাতগুলো কষ্টে অতিবাহিত হয় তখন হয়তো সুনিদ্রায় তোমার সকাল ভাঙ্গে। সুখ তোমার জীবনের সাথে হয়তো এমনভাবে মিশে আছে যেখানে দু:খের স্পর্শ কষ্টকর। তুমি সুখে থাকো এটাই আমার চাওয়া পাওয়া। বিধাতা তোমার জীবনের সাথে দু:খের পরিচয় যেনো না ঘটায়। কারণ তুমি এগুলো সহ্য করতে পারবে না। অনেক কষ্টের হয় এই দু:খগুলো। হয় স্বার্থপরও অনেক। অনুরোধ করলেও তখন দু:খগুলোকে দূরে রাখা যায় না। দু:খগুলো তখন জীবনের সাথে এত আপন করে মিশে যায়, মনে হয় একই দেহের অংশবিশেষ। ভুলে যাওয়ার জন্য যতই চেষ্টা করা হয় খুব নির্লজ্জভাবে তখন আরো বেশী করে মনে পড়ে। সম্ভবত কোনো কষ্টই চাইলেই ভুলে থাকা যায় না।

সুখ এবং দু:খের অনুভূতিগুলোর মধ্যে মন থেকে যার অনুভূতিগুলো বেশী অনুভব করা যায় সেটা হলো দু:খ। কারণ দু:খের অনুভূতিগুলো যখন জীবনের সাথে জড়িত থাকে তখন ঐ জীবনগুলো খুব অস্থির থাকে। বুকের ভিতর কতবার ধম যে তখন থমকে যায় যা ঐ জীবনগুলো ছাড়া আর কেউ বুঝে না। কতবার যে দীর্ঘশ্বাস নিতে হয় কষ্টগুলোকে একটু হালকা করতে। সত্যিই এক কঠিন সময় তখন জীবন অতিবাহিত করে। তখন ঐ জীবনগুলোর সঙ্গি থাকে একমাত্র রাতের আঁধার। খুব অদ্ভুত একটা মিল এই সঙ্গির সাথে জীবনের কষ্টগুলোর। কষ্টের রং সম্ভবত কালো হয়, সঙ্গিতো তাহলে কালো হবেই।

প্রকৃতি মাঝে মাঝে খুব নিষ্ঠুর আচরণ করে ভালোবাসার সাথে। মানুষ যা অপছন্দ করে নিয়তি তার সাথেই একসময় জোর করে মিলন ঘটায়। যে মন এবং ভালোবাসা একসময় একজনের জন্যই ছিল সে মন কে অন্যের সাথে জোর করে ভালোবাসা করতে বাধ্য করায়। জানিনা এ ভালোবাসার মাঝে কতটুকু তৃপ্তি থাকে। যে ভালোবাসার অঙ্গ এবং অনুভূতিগুলো ছিল যার জন্য সে নেই আজ কাছে। সত্যিই অনেক আজব এক পৃথিবী। জানিনা খুব লজ্জাবোধ কিংবা ঘৃণাবোধ জাগে কিনা তখন ঐ লীলাবতিদের মনে। ভালোবাসার এই পরিণতি যখন হয় তখন ঐ লীলাবতিদের মধ্যে এই অনুভূতি এবং প্রশ্ন জাগে কিনা যে কিছু মানুষের ভালোবাসা ছিল এই আমাকে নিয়ে। কিছু চোখের নীরব জল দেখেছি কিন্তু তাদেরকে দোহাই দিয়েছি আমি (?)র জন্য । আমার সব কিছুই (?) ঘিরে।

সত্যিই জীবন অনেক নাটকীয়। জানি না এই নাটক কার ইশারায় মঞ্চস্থ হয়। জীবনের এই নাটকগুলো সম্ভবত সৃষ্টিকর্তা নিয়ন্ত্রণ করেন না। কারণ এগুলো ........... এবং মূল্যহীন। মানুষ যখন অতি ভালোবাসায় মগ্ন থাকে তখন আল্লাহ হয়তো তার সীমা অতিক্রমের রেখাগুলো দেখে অথবা দেখে তার জীবনের পরিবর্তনগুলো । কিছু সীমা অতিক্রম এবং পরিবর্তন যখন কারো মনে কষ্ট দেয় তখন সৃষ্টিকর্তাও হয়তো কষ্ট পায়। জীবনের এই অনিচ্ছার চাওয়া পাওয়া তখন সম্ভবত তাকে ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক বরণ করে নিতে হয়। পৃথিবীর কত ভালোবাসা অনেক দূর পৌঁছার পরও অদৃশ্য ইশারায় ফিরে আসে। রেখে আসতে হয় নিজের হাতের গড়া অনেক স্মৃতি। যেখানে অন্য কেহ কর্তৃত্ব গড়ে। যে প্রিয় মানুষটি একসময় প্রিয় মানুষের হাতের খাবার ছাড়া অন্য কারো খাবার মুখে নিতো না সে মানুষটিও আজ খুব সুন্দর করে ভুলে গেছে সব অতীত। ভুলে গেছে সব কষ্ট ও সুখের স্মৃতিগুলো। যে মানুষটি খাবার নিয়ে বসে থাকতো এই ভেবে যে প্রিয় মানুষটির সাথে একসাথে খাবে সেও হয়তো আর বসে থাকে না। আর বসে থাকলেও হয়তো সে ভাবনায় নেই এখন আর আগের সেই ভালোবাসার মুখটি।

তোমাকে ভালোবাসি। সত্যিই অনেক অনেক বেশী ভালোবাসি। হয়তো এভাবে বলা ছাড়া তোমাকে বুঝানো যাবে না। আচ্ছা কিভাবে বুঝাবো যদি মুখের ভাষাই তুমি বিশ্বাস না করো। পৃথিবীতে সম্ভবত এই একটি কথা যা ভাষা দিয়ে বুঝানো যায় না। আচ্ছা তুমি কি মনের ভাষা বুঝতে পারো না ? আমার নীরব অনুভূতিগুলো কি তোমার হৃদয়ে একটুও দাগ কাটে না ? তুমি হয়তো ভাবতে পারো তুমি তো কোনোদিনও আমার জন্য পথের কোনোয় অপেক্ষা করো নি। অথবা লাল গোলাপ নিয়ে এসে বলোনি ‍আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার কাছে এই কাজগুলো কেন যেন কৃত্রিম মনে হয়। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার প্রতিটি চিন্তায় মিশে আছে তোমার আত্ম-সম্মান। বিশ্বাস করো এমন কিছু করতে মনে চায় না যাতে কেউ দূর থেকে তোমাকে দেখে চিমটি কাটুক। তোমাকে ভালোবাসি সত্যিই বলছি তোমাকে ভালোবাসি। এর চেয়ে আর কিছু নয়।

জীবনের এই পরিবর্তনগুলো কিছু মানুষ খুব অল্পতেই মেনে নেয় অথবা মেনে নিতে পারে। কিছু মানুষ আমৃত্যু এই কষ্ট ও স্মৃতিগুলোকে ভুলতে পারে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হয়তো তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়ায় এই কষ্টগুলো। কষ্টগুলো তাদের হৃদয়টাকে নিগড়িয়ে নিগড়িয়ে শোষণ করে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই তাদের এই কষ্টের সূচনা হয়। সত্যিই অনেক কষ্ট হয় যারা কষ্টের মাঝে সময়কে অতিক্রম করে। পৃথিবীটা কি এমন হতে পারে না পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই তাদের ভালোলাগার মানুষগুলোকে কাছে পাবে চিরদিনের জন্য। সত্যিই সত্যিকারের ভালোবাসা অনেক সুন্দর। অনেক দূর নিয়ে যায় জীবনের চলার ক্ষমতাকে। অনেক সফলতা অর্জন করা যায় সত্যিকারের ভালোবাসার স্পর্শ পেলে। সুন্দর জীবন নির্মান করা যায় এই ভালোবাসার শক্তি দিয়ে। জয় করা যায় পৃথিবীর সকল বাধা যদি সত্যিকারের ভালোবাসা ও ভালোবাসার মানুষটি সাথে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×