somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“সালিশ মানি কিন্তু তালগাছ নিয়ে কোন কথা হবে না, কারণ তালগাছ আমার” টাইপের সংলাপ যেনো না হয়

০২ রা নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


উচ্চ ফলনশীল রসালো একটি তালগাছ নিয়ে দুই প্রতিবেশির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেন দরবার চলতেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। যখন যার দখলে থাকে, সেই এই তালগাছের পুরো সুবিধা ভোগ করে থাকে। এই তালগাছের তাল এতই রসালো আর সুস্বাধু যে, যখন যার দখলে থাকে সে আর কখনো এই তালগাছের দখদারিত্ব ছাড়তে চায় না। প্রয়োজনে জীবন দিতে রাজি কিন্তু তালগাছের দখলদারিত্ব ছাড়তে রাজি নয় এমন অবস্থা। অথচ প্রতিবেশি অন্যান্যরাও এই তালগাছের কিছুটা সুবিধাভোগি, কিছুটা দাবিদার। তবে বড় দুই প্রতিবেশিই এই তালগাছের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগ করে থাকে। তাই সময়ে অসময়ে এই তালগাছ নিয়ে প্রতিবেশি বড় দুই পক্ষ বাকযুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিশেষ করে যখন এই তালগাছের ফল দেওনের সময় হয়, তখন পুরো পরিস্থিতি আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করে। বিশেষ করে যারা এই তালগাছের সরাসরি সুবিধাভোগী নয় তাদের মনেই সবচেয়ে বেশি আতংক বিরাজ করে।অথচ এলাকার জনগণ চায়, দুর্বল সবল সকল ক্ষমতাবানরাই মিলেমিশে এই তালগাছের তাল ভোগ করুক, যাতে কোন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে। কিন্তু বড় দুই প্রতিবেশির একপক্ষ কিছুটা জনসমর্থন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই তালগাছের ফল একাই ভোগ করে আসছেন। প্রতিবেশি অন্য পক্ষকে এই তালগাছের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। বিরোধী পক্ষ কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছেন না। তারাও মরিয়া এই তালগাছের দখল নিতে। ছোট ছোট অন্যান্য পক্ষেরও বছর জুড়ে নজর থাকে এই তালগাছের দিকে। তারাও চায় এই তালগাছের সুবিধা ভোগ করতে। তাই ফল আসার আগে আগেই এই তালগাছ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, টক অব দ্যা টাউন হয়।

অথচ নিয়ম ছিল, তালগাছের ফলন শেষ হবার পর নির্ধারিত সময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমান ভোগ দখলকারীরা তালগাছ বুঝিয়ে দেবেন। তারপর এলাকার জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিবে বা দিবে তালগাছের পরবর্তী ফলন কোন পক্ষ বা পক্ষদ্বয় ভোগ দখল করবেন। এটাই ছিল শান্তিপূর্ণ নিয়ম । কিন্তু মাঝখানে এক কর্তৃপক্ষদ্বয় ক্ষমতা পেয়ে জোর করে তারা হয়ে গেল তালগাছের মালিক। কর্তৃপক্ষের এই অতিরিক্ত খামখেয়ালিপনা আর বাড়াবাড়ির কারণে বড় দুই প্রতিবেশির অনেক মানসম্মান বিসর্জন দিতে হয়েছে সেই সময়। কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণ কিছুতে মেনে নিতে পারেনি তারা তখন। তাই সবল দূর্বল সকল পক্ষই কিছুটা মনোক্ষুণ ছিল সেই কর্তৃপক্ষদ্বয়ের প্রতি। হয়তো মনে মনে সবাই ভাবছিল, দাড়াও কর্তৃপক্ষ একবার যদি তালগাছটা দখলে নিতে পারি, তাহলে তুমি কর্তৃপক্ষের অস্থিত্বই বিপন্ন করে ফেলব। হয়েছেও তাই। পরবর্তীতে বহু ত্যাগের বিনিময়ে তালগাছ যখন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেশি একপক্ষের কাছে গেল, তখন তারা কর্তৃপক্ষের উপর চরম ক্ষেপে গিয়ে দিল একেবারে কর্তৃপক্ষ প্রথা বাতিল করেই। কর্তৃপক্ষ হয়ে গেল নিজেরাই। কারণ মধ্যস্বত্ত্বভোগী কর্তৃপক্ষের প্রতি আর কোন বিশ্বাস নাই।

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, কারণ সামনেই এই তালগাছের ফল দেওনের সময় আসতেছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরাও এই তালগাছ নিয়ে চিন্তিত। তারাও চিন্তা করছেন কিভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসা যায়। কিভাবে এই তালগাছের সমস্যা সমাধা করা যায়। প্রতিবেশি অন্যান্যরা যেহেতু শক্তিতে দুর্বল, তালগাছ একা দখল করা কখনো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, বিরোধীপক্ষেরও বর্তমান যে অবস্থা, তারাও একা দখল নিতে পারবে না। তাই তারা চিন্তা করল, বর্তমান দখলদারদের হটিয়ে তালগাছের দখলদারিত্ব নিতে হলে আমাদের জোটবদ্ধ হতে হবে। জোটবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।কারণ বর্তমান ভোগদখলকারী প্রতিবেশী কিছুতেই তালগাছের দখলদারিত্ব ছাড়তে চাইবে না। কারণ তারা নিজেরাই এখন কর্তৃপক্ষ। নিজেরা কর্তৃপক্ষ হলে দখলদারিত্ব ছিনিয়ে আনা যে কতটা কষ্ট সাধ্য সেটা গত ফলনের সময়ই টের পেয়েছে বিরোধিপক্ষ, সাথে কিছু বুঝেছে জনগণও।

তাই জনগণের আশা আকাঙ্কা একটা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই তালগাছের দখলদারিত্ব যেকোন একপক্ষদ্বয়ের কাছে যাক। বা থাক।
যেহেতু সর্বসম্মতিক্রমে একটা সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, জনগণ আশা করে একটি শান্তিপূর্ণ ফলপ্রসু আলোচনা হবে। কিন্তু ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, “সালিশ মানি, কিন্তু তালগাছ নিয়ে কোন আলোচনা হবে না, কারণ তালগাছ আমার” টাইপের একটা কিছু হবে। যদি তাই হয়, তাহলে জনগণের ভাগ্যে যেই লাউ সেই কদু।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:৪৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×