somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গরল
মানুষ শুধু মানুষের জন্য না, জগতের সকলের জন্য

জন্মিলে কি মরিতেই হবে আর না মরিলে কি হবে

০২ রা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্ম বলতে আসলে কি বুঝায় সেটা আমি এখন পরিস্কার না। মায়ের গর্ভে যেদিন ভ্রুন সৃস্টি হয় সেদিন বা অন্য কিছু প্রাণী যেমন পাখির ক্ষেত্রে ডিম সৃষ্টির দিন থেকেই বায়োলজিক্যাল জন্ম হলেও আমরা জন্ম ধরি যেদিন পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয় অথবা ডিমের খোলস ভেঙে যেদিন বের হয়। একটা জীব দেহের প্রতিটা কোষ জীবিত ধরলে ভ্রূনটাও জীবিত।আর জীবিত মানে তার জন্ম হয়েই গেছে। যদিও কোন ধর্ম বা সমাজ তা স্বীকার করে না। অতএব জন্মের সঙ্গা ধর্ম বা সমাজে বিজ্ঞান সম্মত না। এমনকি এখনকার যুগেও সমস্ত দেশের সরকারও এই নিয়মে চলছে। এটা গেল জন্ম নিয়ে বিতর্ক।

এখন আসি মৃত্যু কথা নিয়ে যার অনেক রকম মতবাদ আছে তবে এক্ষেত্রে মোটামুটি ভাবে বিজ্ঞান সম্মত মতবাদকেই সমর্থন করে সবাই। তবে আমার দ্বীমত আছে। স্বভাবিক ভাবে মৃত্যু বলে কিছু আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। আমি বলতে পারি ধ্বংস হয়ে যায় সবাই। একটু ব্যাখ্যা করি তবে আশা করব যারা এই বিষয়ে অনেক জ্ঞান রাখেন পারলে আমার ভুল ভাঙ্গিয়ে দেবেন।

এক কোষী প্রাণীর আসলে কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নাই এবং বিজ্ঞানের কথা আমার না। এক কোষী প্রণী পরিণত হলে ভেঙ্গে দুটো হয়, দুটো থেকে চারটা এভাবে বাড়তেই থাকে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু আমার প্রশ্ন বহুকোষী প্রাণী যেমন মানুষ নিয়ে। মানুষকে কখন আমরা মৃত বলি? যখন সে নড়াচড়া করে না, কথা বলে না বা উত্তর দেয় না, কোন আবেগ বা অনুভুতি থাকে না। নিথর হয়ে পড়ে থাকে। তবে নড়াচড়া করলেও কিন্তু মৃত হতে পারে যেটাকে ক্লিনিক্যাল ডেড বলে মেডিক্যাল এর ভাষায়।

মানুষের শরীর অনেকগুলো অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে গঠিত যাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা জীবন ও কার্যক্রম রয়েছে। যেমন ঋদযন্ত্র, কিডনী, ফুসফুস, যকৃৎ ইত্যাদি। এছাড়াও মানুষের শরীরের কোটি কোটি কোষেরও আলাদা আলাদা জীবন আছে। যেকারনে কোন একটা অঙ্গ বা কোষ কাজ না করলে আমরা প্রতিস্থাপন করে আবার মানুষকে সচল করতে পারি। সুতরাং একটা মৃত বলে যে মানুষটাকে ফেলে রাখি তার শরীরের ৮০ শতাংশ মটামুটি ভাবে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। সমস্যাটা হয় তখন যখন মস্তিষ্ক অকার্য্যকর হয়ে সমস্ত অঙ্গপ্রতঙ্গ পরিচালনা বন্ধ করে দেয় অথবা অন্য কোন অঙ্গের অকার্যকারীতার কারনে মস্তিষ্ক কায করা বন্ধ করে দেয়। বা আঘাত জনিত কারনেও হতে পারে। মস্তিষ্কের অনেকগুলো কাজের মধ্যে দুটো প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হল পরিচালনা বা প্রসেসিং ও অন্যটা হল তথ্য সংরক্ষন বা ডাটা স্টোরেজ। মূল সমস্যাটা হয় যখন প্রসেসিং ইউনিট অচল হয়ে যায়। এতে ঋদযন্ত্র ও ফুসফুস বন্ধ হয়ে গেলে রক্তবাহিত অক্সিজেনের ও খাদ্যের অভাবে অন্য সব অঙ্গপ্রতঙ্গ ও কোষগুল ধীরে ধীরে অকেজ হয়ে জেতে থাকে। এটাকেই আমরা মৃত্যু বলে চালিয়ে দেই। তবে একমাত্র মস্তিষ্ক অচল না হলে কৃত্তিম ভাবে যন্ত্রের সাহায্যে মানুষকে বাচিয়ে রাখা সম্ভব। মস্তিষ্ক অচল হলেও বাচিয়ে রাখা সম্ভব তবে আবেগ ও হুষ না থাকায় তাকে ক্লিনিক্যাল ডেড বলে। তবে এরকম মৃত অবস্থায়ও অনেকে বড় হয় এমন কি সন্তানও জন্ম দেয়।

এখানেই আমার প্রশ্ন যে মৃত হলে আবার সন্তান জন্ম দেয় কেনো, এটা কি মৃত মানুষের কাজ হতে পারে নাকি। অনেক অঙ্গই ডাক্তাররা প্রতিস্থাপন করতে পারলেও অনেক গুলো এখনো পারে না। এর জন্য যদি অন্য অঙ্গ অকার্যকর হয়ে মানুষের কার্য্যকারীতা বন্ধ হয়ে যায় তাকে আমরা মৃত বলব কেন। এটাত আমাদের ব্যার্থ্যতা যে আমরা ঐ বিষেশ কিছু অঙ্গ এখনো প্রতিস্থাপন করতে শিখি নাই। যখন শিখে যাব তখন কি হবে। তাহলে মৃত্যুটা কোথায় যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৪
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×