somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আঁধার অন্তরালে

২৫ শে জুন, ২০১৪ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আঁধার অন্তরালে





একজন , দুজন না, নয় নয়জন মেয়ে আমাকে প্রেমের অফার দিয়েছে । বন্ধুরা বলে, আমি নাকি মেয়েকপালী।

না, আমার রুপটুপ ততো উচ্চাঙ্গের না ।ঐ চোখদুটোই যা ঢলোঢলো মায়াকাড়া । আমার এক প্রাক্তন প্রেয়সী হেমলিনী , ও বলতো , ‘কেন জানি না , তোমার চোখের দিকে তাকালে আমার চোখে জল নেমে আসে । এমন পবিত্র !’। আর একটা ব্যাপার , আমার চুলগুলো বেশ কোমল আর আদুরে, পাকটাক নেই, সাটসাট লম্বা, হাওয়ায় ওড়ে ।দুটি বিষয়ে আমার বেশ দক্ষতা- বাঁশি বাজাতে আর খোলামকুচি খেলতে ।

আমি বিপুল রায় । অটো-রিক্সা চালায় । আগে নিজের-ই ছিল , লুটেরাদের হাতে সে লুট গেছে । এখন ভাঁড়ায় চালায় ।

আমার বাবা বিজয় রায় । বাবার ঠাকুর-দা প্রজয় রায় । এই প্রজয় রায় ছিলেন যশোর অঞ্চলের একজন জমিদার ।কিন্তু ব্যাটা মদ, জুয়া আর বারনারী, নতর্কীদের পাল্লায় সব উড়িয়ে, পুড়িয়ে, ছড়িয়ে একেবারে দেউলিয়া হয়ে একাল ছেড়েছে । তারই রক্তধারার আরেক যোগ্য উত্তরসূরী আমার দাদু অজয় রায়। জমিদারিত্বের যা একটু অবশিষ্ট ছিল, সেগুলো অজয় বাবুর সহ্য হল না । একেবারে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসে তবে তিনি শান্ত হলেন । মুখে বোল ফুটতেই বাবাকে মুখাগ্নি করতে হল ।

আমাদের ইস্কুলের গেট দারোয়ান ছিলেন- মঙল পান্ডে । প্রথম সিপাহী বিদ্রহী না কিন্ত ।তবে উনার ছিল যোদ্ধার মতো সুঠাম দেহ আর মুখশ্রী সত্যি দেখবার মতো । সবসময় পরিপাটি হয়ে সে্জেগুজে থাকত আর কথা বলার সময় শুদ্ধ বাংলা বলার চেষ্টা করত । তাই অনেকে টিটকারী মেরে স্যার স্যার করত ।

একদিন বিকেলে বাজারের চায়ের দোকানে প্রবেশ করতেই কয়েকজন বলল, আরে শার এইচে, বস বস । কদিন দেখিনি যে ।

উনি বলল , ওরে তুরা ক্যান আমাকে স্যার বলিস বল তো । আমি কি ইস্কুলে পড়ায়? এসব ইয়ারকি ভাল্লাগে না ।

আমার কাকু জগমোহন রায়, এক কথায় শয়তান লোক, মানুষকে উপহাস করা তার ভীষন আনন্দের ।

বলল, না, না শার, ভালো না লাগলে কি হবে? ইস্কুলটা তো বলতে গেলে আপনার মাথার উপরেই চলছে- সে কি আর দশজন জানে না ।

দ্যাখো জগমোহন, এভাবে করলে তো আমায় ঘর-বন্দী হতে হবে । এই যদু, ফটাফট এক কাপ কড়া চা দে তো । দুধ চিনি ধরে দিস ।

জ়গমোহন কাকু বলল, ওরে যদু , মাষ্টার মশাই কে চট করে চা টা দে । শুনলি তো- দুধ চিনি লিকার একটু ধরে দিস । শারদের কত রাত জেগে খাতাপত্র দেখতে হয় ।

মঙল পান্ডে ফট করে উঠে গমগম করে চলে গেল । চায়ের দোকানে হোহো, হেহে ___ হাসির হিড়িক পরে গেল ।





এই মঙল পান্ডের মেয়ে দিশা পান্ডে ছিল আমার সহপাঠিনী । পদ্মগাছে তো পদ্মফুল ধরবে- তাইত নিয়ম । গৌরবর্ণা দিশার ঘনকালো আয়ত চোখ , ছিপছিপে দেহ , মধুর সরল হাসি, টসটসে কথা আমার বুকের একেবারে গহীনে ঠকঠক করে ঘা মারত । সব ক্লাসে বরাবর প্রথম হয়ে আসছে ।

আমার অবস্থান ছিল তেয়াতর নাম্বারে। অর্থাৎ আমার পরে আরো পাঁচজন বলদ ছিল ।পড়ালেখায় মন ছিল না তবে রোজ- ঝড়, বাদলা কিংবা কুয়াশা কাটিয়ে সবার আগে ইস্কুলে পৌঁছে আমার প্রিয় লাস্ট বেঞ্চে বসতাম । কান ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রথমা তন্মী বালিকার অপরুপ কেশবিন্যাসে অপলক চেয়ে ভাবতাম , ও চাঁদের মতো, ও রঙ-জ্বলা মেঘের মতো- কোনদিন কোন ক্ষণে ওর রুপের কমতি নেই । একেই বলে সুন্দর । তখন রোববার গল্প পড়েছি । আমার এক বলদ সতী্র্থ প্রদীপকে বলতাম, দিশা হলো ভগমানের বাড়াবাড়ি, বুঝলি ।

পরীক্ষা তখন দরজায় টোকা মারছে ।রাত্রিবেলা ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন বিছানায় হানা দেয় । কিন্ত পড়তে বসলেই আমার চঞ্চলা মন চাঁদের আলোয় , ফুলের গন্ধে , পাখির গানে কেমন উতলা হয়ে যেত । তখন সমস্ত চোখে জল নিয়ে ক্লান্ত শুকতারার মতো দিশার দুটি চোখ আমার হৃদয়ের প্রদীপ হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠত । বিভোর কল্পনায় ভেসে চলে যেত আমার মনের ঘোড়া ।কল্পনার সূতো কেঁটে কেঁটে রাতের প্রহর জলে ভেসে যেত ।মন্ত্র-তন্ত্র-যন্ত্রে উড়াল মন বাঁধা মানল না ।জগমোহন কাকু বলল , তোর আর কি দোষ দেব রে, যত দোষ সব বয়সের । তাছারা বংশের রক্তটায় তো এমন ।

গণিতবাদে সবগুলোতে পাশ! বাপরে বাপ ! সেই আনন্দে আমার হৃদয় মন একেবারে উছলে উঠল । বিকেল থেকেই টো মেরে বসে আছি , কিন্ত সুবিধা করতে না পেরে সন্ধ্যার আঁধারে হসপিটাল বাগান থেকে পটাপট বেশ ক’টা গোলাপ চুড়ি করে দৌঁড় দিলাম দিশার কাছে । হাতে কাঁটা ফুটেছে - ফুটুক, দিশা অন্তত বুজুক আমিও ফেলনা নই ।

তোর ফেলের কথা শুনে খুব খারাপ লাগছে রে । দিশা জানাল ।

ওই অংকটায় যে কিভাবে আটকে গেলাম মাথায় খেলছে না । শালার খাতা দেখায় নিশ্চয় ভেজাল আছে বুঝলি ।

তাই হবে বোধ হয় ।

বললাম, তুই মন খারাপ করিস না দিশা । সামনের বছর তো পাশ করছিই ।

ও বলল , হ্যা তা তো করবিই ।

তখন ফুলগুলো ওর সামনে ধরতেই ও চমকে উঠল , ফুল এনেছিস ক্যান ?

জেলাতে তুই প্রথম হলি । কি ভালো লাগছে ।

ও হাত বাড়িয়ে বলল , তুই ছাড়া কেউ কিন্ত দেয় নি । তারপর মৃদু হাসল । সে হাসি যে কি সে কি বলব । ওর হাতের পরশ লাগল আমার হাতে । যেন উন্মাদ মেঘে মেঘে ঘর্ষন লেগে বহু শতাব্দির গোপন আগুন মুক্তির আনন্দে একেবারে দিশাহারা হয়ে গেল । যদি পাশটা হয়ে যেত না তবে আজ বলেই ফেলতাম- তুই আমার । কিন্ত পোড়া কপাল আমার !

খুশিতে প্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছি কিন্ত এ পাড়ার কুকুরগুলোর সেই আনন্দ সহ্য হল না । অসহায়ে ভয়ে চোখে জল এসে গেল । তখন লাইটার মেরে মঙল পান্ডে বাবু গলায় খাকানি দিতে দিতে সামনে এসে দাঁড়াল । অন্ধকারে চিনতে না পেরে বলল , কে, কে রে ?

আমি কাকা , বিপুল ।

ওহ! কুকুরগুলো তাড়িয়ে বলল , তোমার কাকু- জগা এমন খচ্চর ক্যান বল তো । আমি মেয়েকে বিলেতে পড়াব কি আমেরিকায় পড়াব তাতে ওর কি ! শয়তান লোক কোথাকার!

বললাম , কাকুকে তো জানেন, ওই রকম-ই ।

আজ আমিও ছেড়ে দিইনি । যাক তুমি তো ফেল করেছ ।

লজ্জায় বেদনায় বুকটা জমে গেল । বললাল, হ্যা একটাতে ।

কি বলব আর , জগার মতো না হয়ে লেখাপড়ায় মন দেও গে ।



দিশা খুলনা চলে গেল কলেজ পড়তে । শুনলাম ও নাকি কার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে । খেতেই পারে-দোষ কি? আমার তখন ঘোর কেটে গেছে । সেদিন রাতের কথা মনে হলে লজ্জায় মাথা কাটা যায় । দুষ্প্রাপ্য দিশাকে ভুলে তখন হেমনলিনীর সাথে লাইন মারছি । মাইরি বলছি ও আমায় যতটা ভক্তি করত তা লাখে দুজনের কপালে জোটে না ।

এর মধ্যে একদিন গ্রাম ব্যাপী হৈ হৈ রৈ রৈ পরে গেল । চায়ের দোকানে বসে জগমোহন কাকু বলল, ছ্যা ছ্যা ছ্যা ছ্যা , শেষ পর্যন্ত কিনা ভিডিও করে… ছুরিকে একেবারে ন্যাংটা করে ফেলেছে রে । হে হে হে ।

হুলস্থুল পড়ে গেল, দেকি দেকি, এরে তাইতো , এ তো মঙঈলার বেটিই তো রে, হায় ! হায়! কি অবস্থা!

পিরিত টিরিত কি আমাদের কালে ছিল না গো জগমোহন , এমন বেনিল্লাপনা ত দেখিনি ।

আর কিছুদিন বাঁচোই , আরো কত দেখবে ।

প্রদীপকে বললাম , ছেলেটা কে রে?

কে আবার , ওই নাগরটায় হবে । আর হয়ত বনছে না । এমন প্রেমিকের মুখে থুতু মারি ।

ঘরে ঘরে, মাচানে মাচানে , দোকানে দোকানে – এই নিয়ে গরম হাওয়া ।লজ্জা,অপমানের ভার সইতে না পেরে এক রাতে মঙ্গল পান্ডে তমাল ডালে ঝুলল । দিশা সেই পথে না গিয়ে অন্ধকারে কোন পথে , কোথায় চলে গেল- কেউ জানে না ।



চারিপাশটা থমকে গেল । দীগন্ত জুড়ে কেবল শুন্যতা , কেবল বিষন্নতা, কেউ যেন কোথাও নেই ।সুপ্ত প্রেমের ঘুম ভাঙল । বুকের মধ্যে এ্কটা অসহ্য বাথাভার ক্ষনে ক্ষনে গুমরে উঠছিল । তার-ই মধ্যে একদিন হটাৎ হেমনলিনীর বিয়ে হয়ে গেল । আমারও সব বাঁধা বন্ধন ছিড়ে গেল ।



সেদিন আশ্বিন মাসের কৃষপক্ষের রাত । কোজাগরী উপসী চাঁদের পড়ন্ত বেলাতেও রূপ-জোৎস্না ঠিকরে পড়ছে । গীর্জায় তখন ঢং ঢং করে দুটো ঘন্টা দিয়ে জানিয়ে দিল এখন রাত দুটো । দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছি – মায়ের কথা মনে পরছে ।আমার মায়ের খোলা গলায় – রবী ঠাকুরের গান আরো সরস , আরো সজীব হয়ে ওঠে । সেই সতের বছরে বিধবা, বৈধব্যের ব্যাথা বুকে দীর্ঘ জীবন দাঁড়িয়ে আছে । অস্তোগামী সূর্যের রক্তিম রেখা মায়ের কপালে কখন দেখিছি বলে মনে নেই । আমাকে নিয়ে তার-ও কত স্বপ্ন ছিল , কিছুই হল না । ছেলে শহরে অটো-রিক্সা চালাবে এ নিশ্চয় কখন ভাবে নি- অথচ তাই তো করতে হচ্ছে ।



একজন ভদ্র-গোছের লোক এসে বলল , এই যে ভাই যাবে?

কোথায়?

কুমারপাড়া, দু’ঘন্টার জন্য রিজার্ভ নেব ।

ঠিক আছে ।

পথঘাট শুনশান । যে কয়জন চোখে পড়ে তাদের বেশির ভাগ নেশাখোর আর বারনারী । ছমছম আঁধার চিড়ে একটা বাদুর ডানা ঝাপটিয়ে চলে গেল ।

কুমারপাড়া পৌঁছে উনি বলল , দাঁড়িয়ে থাকো । দেরি হলেও যেও না, ভাড়া পুষিয়ে দেব ।

ঠিক আছে, অপেক্ষা করছি ।

রাত তখন ফুরিয়ে আসছে । শিউলি ফুলের গন্ধে আকুল শেষ রাত্রির শীতল বাতাস । যন্ত্রনার অপেক্ষা শেষে ভদ্রলোক বেরিয়ে আসছে । আমার ঘুম জড়ানো চোখ, তবু ওকে বিদায় দিতে আসা মেয়েটাকে চিনতে ভুল হলো না যে ও দিশা ।মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ল । এ কি !

এক কুকুরকে টানতে টানতে আমার মাথায় আরেক কুকুর জাগল । ঘুটঘুটে অন্ধকারে গাড়ি থামিয়ে ভদ্রলোককে বেধর চড়-থাপ্পর-লাথি মেরে চলে এলাম ।

ছটফটে প্রহর শেষে ভোরের আলোয় এসে দেখি ভাঙা কাঠের দরজায় তালা ঝুলছে ।

চায়ের দোকানীকে বললাম, ঐ বাড়িতে কে থাকে তা কি জানেন?

ঐ পুরাতন হলুদ বাড়িটাই?

হ্যা, হ্যা ঐটাই ।

ওই নিশিদেবী নামে এক খারাপ মেয়ে থাকে বুঝলেন । দিনে পাবেন না । রাতে আসে ।

আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে । সন্ধ্যার আঁধারে একজন বৃদ্ধা হারিকেন হাতে দরজা খুলে ভিতরে চলে গেল।



ঝড় উঠেছে । বিদ্যুৎ চলে গেছে ।ঘন-ঘোর অন্ধকারের প্রবল আশ্বিনী ঝড় বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি এইসময় দ্রুত পায়ে দিশা আসল । ঝড়ের ঝাপটাই ওর হাতের প্রদীপ নিভে গেল । দীগন্তের মেঘ চিড়ে বিজুলী আলো এসে পড়ল ওর চোখে মুখে ।সেই আলোক ঝলকে চমকে বিস্মিত হতবাক দিশা উৎসুক চোখে দাঁড়িয়ে রইল । ওর বেপরোয়া এলোচুল আর শাড়ির নীল আঁচল শূন্যে উথাল পাথাল ভাসছে ।

মুখমুখি দুজনই নির্বাক । সব কথা যেন আজ ঝড়ের হাওয়ায় উড়ে গেছে । ভুত দেখা হয়ে গেলে ঝড়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে দিশা ভিতরে চলে গেল ।যেতে যেতে থমকে পেছন ঘুরে ও বলল, আপনি কি চান, পিছু নিয়েছেন ক্যান?

ঘুটঘুটে অন্ধকার । কেন জানি না , আমার পা কম্পনে টলমল করছে । বললাম, কি বলছিস যা তা, আমি বিপুল, দিশা ।

কে দিশা? আর আমি বিপুল টিপুল কাউকে চিনি না। ঘরে পৌঁছে চিৎকার করে বলল , মাসী দরজা লাগিয়ে দেও , আর সবাইকে আজ ফিরে যেতে বলবে ।বলেই দিশা সিঁড়ি দিয়ে উপরে চলে গেল ।

কাজের মেয়েটা এসে বলল, কি ,কানে শোন না নাকি? যাও আজ হবে না।

ওর হাতে ঝাটকা মেরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই বৃদ্ধা চেঁচিয়ে বলল, ওই ওই নাম নাম, আরে এ যে দেকি পাক্কা ডাকাত রে ।

ঝড় থেমে গেছে । টিপটিপ বৃষ্টি-টা তখনও ছিল । দিশা শান্ত হয়েছে । ও বলল , মরতে আমি-ও চেয়েছিনু । পারি নি ।হ্যারে বিপুল, আমাকে তোর ঘেন্না করছে না ?

ঘেন্না করবে ক্যান?

জানিস আমার একটা দেড় বছর-ই ছেলে আছে?

না, জানব কি করে?

দেখিস কি সুন্দর হয়েছে ! ও একটা দীঘশ্বাস ফেলে বলল বেশ্যার-ও মা হতে সাধ হয় রে ।দিশা হাসতে লাগল । সে হাসিতে যে কত দুঃখ কত বেদনা মিলেমিশে ছিল তাই যেন ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হল ।

বৃদ্ধা এসে বলল , অরূপ বাবু এইচে ।

ওহ! ঘরে আলো জ্বেলে দেও । আমি আসছি । দিশা বলল ।

আমার দিকে তাকিয়ে, এখানেই তো থাকিস , মাঝে মাঝে আসিস ,গল্প হবে ।

তুই কি আমাকে চলে যেতে বলছিস ?

উপায় নেই ।

সিঁড়ির মুখে গতকালের ভদ্রলোকের সাথে দেখা । তাহলে এই অরূপ বাবু! ওর চোখ-মুখ এখনও ফুলে আছে । আমাকে দেখেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল । এই শালা তুই । ওরে কে আছিস , শুয়োর-টারে বাঁধ ।

কেউ নেই । বলে ওর কলার ধরতেই উন্মাদের মতো হাত ঘোরাতে লাগল । মারপিট লাগতেই সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে দিশা বলল , ছেড়ে দে বিপুল । তুই এখন-ই বেরিয়ে যা । আর আসবি না ।

ওর আদেশের হাত তখন শূন্যে ভেসে বাইরের পথ দেখাচ্ছে ।

ঘৃণা, অভিমান, ক্রোধ নিয়ে চলে এলাম ।যার দেহে রাজ্যের মাতাল গুন্ডাদের ছাপ , যার পুত্রের বাপের ঠিক নেই , যে নারী সমাজের প্রতিষ্ঠিত পতিতা – তার সাথে সংস্রব রাখবার কোন মানে হয়!



সেদিন কত রাত্রি কে জানে –সন্ধ্যার সরকার পক্ষ এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংঘর্ষের ছোপ ছোপ রক্ত তখন রাস্তায় রাস্তায় । শুনশান হয়ে গেছে পথঘাট । রাস্তায় হলুদ সোডিয়াম আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা দিশাকে মন থেকে কিছুতেই এড়ানো গেল না ।বুকের মধ্যে এক দুর্নিবার ঝড় বয়ে গেল । ওকে মনে হল ও আমার চিরকালের ।সব কিছু চুরমার করে ভেঙ্গে ওকে আপনার করে পাবার এক সীমাহীন উন্মাদনা জাগল । কথাবার্তায় টের পেলাম ও নেশাগ্রস্থ ।

শুক্লা পঞমীর রাত । চাঁদের ঈষৎ আলোয় ওর মায়াবী মুখখানি আমার হৃদয় মোহাবিস্ট করে ফেলল । ভেতরের আরেক প্রাণ জেগে উঠল ।বুকের মধ্যে ওকে আঁকড়ে নিতেই দিশা বলল , আমাকে ছাড়িস না বিপুল, শক্ত করে জড়িয়ে ধর , দ্যাখ আমার বুক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ।

কোথা থেকে চারজন উড়ে এসে চিলের মতো ছো মেরে চড় থাপ্পর কষিয়ে বলল, ভদ্রপাড়ায় ফস্টিনস্টি হচ্ছে না ।

আমি ভ্যাবাচাকা খেয়ে বললাম, না শুনুন , ও আমার …

কি বউ?

না কিন্তু…

দিশার নেশাটা তখন ধরে এসেছে । ও অবিরাম প্রলাপ বকছে, ওগো পায়ে পড়ছি , ওকে মেরনা । ও আমায় ভীষন ভালবাসে ।

ওরা মুখ বেঁধে প্রবল বৃষ্টির মতো ঘায়ের পর ঘা মেরে অন্ধকার গলির ভিতর একটা বকুল গাছে বেঁধে দৌঁড়ে পালাল ।
দিশার অবিরাম প্রলাপধ্বনি দূর থেকে দূরে রাত্রির বাতাসে মিলিয়ে গেল । অন্ধকারে তখন একটা করূণ পাপিয়া ও দূরাগত গির্জার আহত মিলিত ধ্বনি হায় হায় করে উঠল ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×