
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নগরী আলোকিত না হলেও, শিক্ষার আলোয় আলোকিত আমাদের এই ঢাকা শহর। মানুষ এখন বড় বেশি শিক্ষা সচেতন। আমার মাতাপিতা পিছিয়ে থাকবে কেন? তারা আমাকে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্বাদ নেওয়ার জন্য তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আমার খুব শখ কলেজের অনিল স্যারের কাছে ইংরেজি পড়ার। এক ব্যাচে ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর অতটুকুু রূমে জায়গা হয় না- হাজেরা, নাবিলা, সাদিয়া, টুম্পা, বিজয়া, রাবিতা, শিলা, মিলি, হাসিনা, মীম, সাম্মী, অভি, সুকান্ত, বাবুল, অবন্তিদের। মৌমাছির মত গিজগিজ করে রূম। ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাচে সবার একটি করে প্রশ্ন থাকলে, আর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে তিন মিনিট সময় লাগলে নব্বই মিনিট পার হয়ে যায়, অথচ স্যার পড়ান কাঁটায় কাঁটায় এক ঘন্টা বা মিনিট পাঁচেক বেশি। ঘাটতি ২৫/৩০মিনিট স্যার কোনদিনও মেলাতে পারেন না, কারণ আরেকটি ব্যাচ তার দরজায় দন্ডায়মান। স্যার অনির্বাণ কোচিং এর জনপ্রিয় অনিল স্যার। কলেজের অভিভাবক তাকে এক নামে চিনে। রাস্তায় কোন অভিভাবক দেখা হলে সালাম দিতেই স্যার বলেন- আপনার ছেলে কোচিং এ বেশ ভাল করছে, ওর ইংরেজিতে মাথা ভাল। আমার কাছে ছয় মাসের কোর্স শেষ না করে কলেজের বিনয় বাবুর কাছে যেন না যায়। ইদানিং শুনছি উনি নিজেকে ইংরেজির জাহাজ বলে দাবি করেন। গত মাসের বকেয়া বেতনের হালকা আভাস দিয়ে উনি অনির্বাণ-এর দিকে বানবেগে ছুটতে থাকেন। বাবাকে বলে-কয়ে অনিল স্যারের অনির্বাণ-এ বহুকষ্টে দুই মাস পরের ব্যাচে ভর্তি হলাম। দুই মাস আগে কোন ব্যাচ খালি নাই। স্যারের অনির্বাণ যেন অনির্বাণ দীপশিখার মত একবার জ্বলতে শুরু করেছে আর কখনো নিভবে না। স্যার নিজেও অনির্বাণের মত। সেই ভোর ছয়টায় ওঠে চার ব্যাচ পড়িয়ে কলেজের ক্লাসে এসে ক্লান্তি দূর করেন। আর ক্লাস শেষে কলেজের সবুজ মাঠ পার হওয়ার আগেই স্যার সতেজ হয়ে যান। বিদ্যুতের আলো আর শিক্ষার আলো কখনোই অনির্বাণ-এ নিভে না। বিদ্যুৎ ঘন ঘন যায়, এই কারনে স্যার গত মাসের এক ব্যাচের অর্ধেক টাকা দিয়ে একখানা আইপিএস কিনেছেন। যাতে শিক্ষার আলো বিদ্যুতের বাড়াবাড়িতে দমে না যায়। স্যার ইংরেজির জাদুকর। ক্লাস শুরু হলে সে জাদুমন্ত্রে সবাই বিভোর হয়ে যায়। তবে সে জাদু স্যার কলেজের ক্লাসে দেখান না। অনির্বাণ নামক মঞ্চ ছাড়া অন্য কোন মঞ্চে তিনি এ জাদু দেখান না। স্যার ইংরেজির জাদু দেখান এমন সময় পকেটে থাকা আজব যন্ত্রটা বেজে ওঠে। হ্যালো, বলার আগেই স্যার বলে ওঠে, এ মাসে সিট খালি নাই সামনের মাসে খবর নিয়েন। ওপাশ থেকে অভাবী এক অভিভাবকের কন্ঠস্বর-স্যার, আমার ছেলেটাকে একটু ব্যাচে নিয়েন।
আমি সামনের মাসের বকেয়া বেতন পেলেই আপনার কোর্স ফি দিয়ে দেব।
স্যার হঠাৎ থেমে যান। অনির্বাণ তো থামবার কথা না। স্যার দ্বিতীয় ব্যাচ পড়ানো শুরু করেন। এ ব্যাচে দুষ্ট দু’জন ছাত্র স্যারকে বড় বেশি জ্বালাতন করে । তারা স্যারকে বলে- স্যার, বিনয় স্যার কোচিং খোলার কথা ভাবছেন। ওখানে নাকি প্রতি ব্যাচে পাঁচ জন আর মাসে পাঁচশত টাকা। স্যার মুচকি হাসে আর ভাবে আমিও পাঁচ জন দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ পঁচিশ জন। আমাকে ধরতে বিনয় বাবুর বিনয় থেকে ‘বি’ বাদ গেলে যা থাকে, মানে নয় বছর লাগবে। বিনয় স্যারের ইংরেজির ম্যাজিক্যাল টিপস্ অনিল স্যার ইনিয়ে বিনিয়ে পড়েন। স্যারের সাদা বোর্ড কালো মার্কার। কলেজের ঠিক বিপরীত, সাদা চক কালো বোর্ড। অনির্বাণ কোচিং তিনি অহেতুক দেননি। এর শিক্ষার উপকরণও তিনি আড়ম্বর করেছেন। তিনি বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য ভাল রকম ব্যবস্থা করেছেন। স্যার সাদা বোর্ডে লিখা সাদা মনের মানুষ। কালো মার্কারের কালো কালি দিয়ে ব্যাচের টাকার হিসাব মেলান। দু’জন বকেয়া মাত্র। স্যার মার্কারের কালি শেষ হলেই বুঝেন আজ তিনি ১,২,৩,৪ নং জঁষবং পড়িয়েছেন। আজ আর নয়। আগামী ক্লাসে বাকি জঁষবং। না হলে কোর্সের সাথে ব্যয়িত ফোর্স সমান হবে না। তিন মাসের কোর্স টানলেও বাড়বে না। স্যার বেশী পড়ান না পাছে বই শেষ হয়ে যায় কোর্সের আগে। স্যার কলেজের একই বইয়ের একই বিষয় পড়ান কিন্তু জাদু দিয়ে পড়ান না, যে কারণে মজা লাগে না ইংরেজি পড়তে। আমি দুই মাস পরে স্যারের ব্যাচে পড়ার বেসিক মজা পেলাম। স্যার পড়াতে পড়াতে পিড়িত হয়ে যান, তবু পড়া বাদ দেন না। স্যারের ঘরে নতুন বউ, নতুন ফ্ল্যাটে উঠার বায়না ধরেছে। স্যারও কম কিসে এবার এইচএসসি পরীক্ষার গড়ফবষ ঞবংঃ নিয়ে টাকা কামানোর গড়ফঁষব বের করেছেন। এতে শুধু পরীক্ষা নেওয়া আর নতুন বউয়ের সাথে গল্প করতে করতে খাতা দেখা। নতুন বউ মাঝে মাঝে বেঁকে যায়; তার বাবার গাড়ির মত অত দামি গাড়ি না হোক, ছয় সিটের এক শীতল গাড়ির জন্য। বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিং দিন দিন সামনে এগুচ্ছে আর এদিকে অনির্বাণ নিভতে শুরু করেছে। বিনয় স্যার বিনয় দিয়ে পড়ান, ছাত্ররা তার ব্যাপক ভক্ত। ইংরেজির জাহাজ তিনি প্রমাণ করেছেন, ইতোমধ্যেই ইংরেজির বই বের করেছেন। স্যার নিজের বই ছাড়া অন্য কোন লেখকের বই ধরেনও না, পড়ানও না। আমি অনিল স্যারের কাছে অনির্বাণ-এ পড়ি। অগ্রসর-এর বন্ধুদেরও খবর রাখি। মাঝে মাঝে অগ্রসর-এর উন্নতির কথা শুনলে অনিল স্যার ব্যথায় নীল হয়ে যান। বিনয় স্যার বছর দুই না যেতেই সাভারে বড় দু’টি প¬ট কিনেছেন। অগ্রসর-এর উন্নতির সাথে সাথে স্যারের আর্থিক উন্নতির অগ্রসরতা বেড়েই চলছে।
রহিম সাহেব ছোট বেতনের ছোট চাকরি করেন। একমাত্র ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন এতেই তাঁর কলিজা ঠান্ডা। ছেলেটি বড়ই মেধাবী তাই এত ভয়। কলেজ পার হলেই অনার্স পড়ানোর বড়ই শখ। ছেলেকে অনার্স পড়াবেন, ঠিক এমনি স্বপ্ন দেখেন স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে। কলেজের অত বড় বড় বই মাঝে মাঝে তিনি নেড়ে চেড়ে দেখেন। কলেজের বেতন বেশি না, যতটা বেশী বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিংয়ের কোর্স ফি। ছেলেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে রহিম সাহেব জান বাজি রেখেছেন। কিন্তু অগ্রসর এর অত টাকা কোর্স ফি দিতে রহিম সাহেবের পা অগ্রসর হয় না। ছেলে একা একা অত বড় বই কীভাবে অনিল স্যারের জাদুমন্ত্র ছাড়া পড়ে, তা ভেবে পান না অভাবী বাবা। ছেলেটা তাঁর আশার আলো, সে আশার আলো যে প্রায় নিভু নিভু। ছেলেটা আমার ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে গত পরীক্ষায়। বিনয় বাবুদের কাছে গেলাম উনাদের কাছে বিনয়ের বালাই নেই। আপনাকে অত করে বললাম আপনার ছেলেটার মাথা ভাল। কিন্তু আপনি বুঝলেন না। ছেলেকে কলেজের পাশাপাশি যে কোচিং করানো লাগে সে কথা আপনারা বুঝতে চান না। এখন ডিজিটাল যুগ, সেকেলে বইপত্র নাকি ছাত্ররা একাই পড়ে বুঝবে? অগ্রসর তো আমি সেই জন্যই দিলাম। রহিম সাহেবও বুঝেন ছেলেকে কোচিং এ পড়ানো দরকার, না হয় ছেলের শিক্ষার আলো কালো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। মনকে প্রবোধ দেন, সামনের মাসেই ছেলেকে কোচিং এ ভর্তি করাবেন। অনিল বাবুদের টাকার অভাব হয় না। কিন্তু রহিম সাহেবদের টাকার অভাবে সংসার চলে না। ছেলেকে মানুষ করতে অমানুষিক কষ্ট করে তাঁরা। কাগুজে ঐ পদার্থটি না হলে শিক্ষার স্বাদ পায় না রহিম সাহেবের মেধাবী ছেলে রুমান। অগ্রসর কোচিং এর কোর্স ফি’র সাথে একই গতিতে অগ্রসর হতে পারে না রহিম সাহেব। রুমানেরও সাধ জাগে অগ্রসর-এ গিয়ে ইংরেজি বিষয়ে ফেল এর অনগ্রসরতা কাটানোর। কিন্তু কোর্স ফি’র ভয়ে অগ্রসর হতে পারে না। অনিল স্যারের জাদুর মাধ্যমে ইংরেজির পড়ার কৌশল তারও শিখতে মন চায়। কিন্তু অনির্বাণ-এর মাসিক বেতনটাই মাসে মাসে দিতে পারে না রুমানরা। অনিল স্যাররা শিক্ষার সুশীল সমাজে অতিশয় সুজন। জ্ঞানের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ তাঁদের উর্বর মস্তিষ্ক। তুলার নরম বিছানায় শুয়ে বিনয় বাবুরা শুধু অগ্রসর এর অগ্রগামীতাই চিন্তা করেন।
কোচিং এ ভর্তি হয়ে কিছুটা ইংরেজি ভীতি কমলো আমার। ফেল মারব না আশা করি। তবে স্যাররা যে কেন এমন হয় আমার মাথায় আসে না!
অনিল স্যারের অনির্বাণ বনাম বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিং:
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নগরী আলোকিত না হলেও, শিক্ষার আলোয় আলোকিত আমাদের এই ঢাকা শহর। মানুষ এখন বড় বেশি শিক্ষা সচেতন। আমার মাতাপিতা পিছিয়ে থাকবে কেন? তারা আমাকে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্বাদ নেওয়ার জন্য তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আমার খুব শখ কলেজের অনিল স্যারের কাছে ইংরেজি পড়ার। এক ব্যাচে ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর অতটুকুু রূমে জায়গা হয় না- হাজেরা, নাবিলা, সাদিয়া, টুম্পা, বিজয়া, রাবিতা, শিলা, মিলি, হাসিনা, মীম, সাম্মী, অভি, সুকান্ত, বাবুল, অবন্তিদের। মৌমাছির মত গিজগিজ করে রূম। ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাচে সবার একটি করে প্রশ্ন থাকলে, আর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে তিন মিনিট সময় লাগলে নব্বই মিনিট পার হয়ে যায়, অথচ স্যার পড়ান কাঁটায় কাঁটায় এক ঘন্টা বা মিনিট পাঁচেক বেশি। ঘাটতি ২৫/৩০মিনিট স্যার কোনদিনও মেলাতে পারেন না, কারণ আরেকটি ব্যাচ তার দরজায় দন্ডায়মান। স্যার অনির্বাণ কোচিং এর জনপ্রিয় অনিল স্যার। কলেজের অভিভাবক তাকে এক নামে চিনে। রাস্তায় কোন অভিভাবক দেখা হলে সালাম দিতেই স্যার বলেন- আপনার ছেলে কোচিং এ বেশ ভাল করছে, ওর ইংরেজিতে মাথা ভাল। আমার কাছে ছয় মাসের কোর্স শেষ না করে কলেজের বিনয় বাবুর কাছে যেন না যায়। ইদানিং শুনছি উনি নিজেকে ইংরেজির জাহাজ বলে দাবি করেন। গত মাসের বকেয়া বেতনের হালকা আভাস দিয়ে উনি অনির্বাণ-এর দিকে বানবেগে ছুটতে থাকেন। বাবাকে বলে-কয়ে অনিল স্যারের অনির্বাণ-এ বহুকষ্টে দুই মাস পরের ব্যাচে ভর্তি হলাম। দুই মাস আগে কোন ব্যাচ খালি নাই। স্যারের অনির্বাণ যেন অনির্বাণ দীপশিখার মত একবার জ্বলতে শুরু করেছে আর কখনো নিভবে না। স্যার নিজেও অনির্বাণের মত। সেই ভোর ছয়টায় ওঠে চার ব্যাচ পড়িয়ে কলেজের ক্লাসে এসে ক্লান্তি দূর করেন। আর ক্লাস শেষে কলেজের সবুজ মাঠ পার হওয়ার আগেই স্যার সতেজ হয়ে যান। বিদ্যুতের আলো আর শিক্ষার আলো কখনোই অনির্বাণ-এ নিভে না। বিদ্যুৎ ঘন ঘন যায়, এই কারনে স্যার গত মাসের এক ব্যাচের অর্ধেক টাকা দিয়ে একখানা আইপিএস কিনেছেন। যাতে শিক্ষার আলো বিদ্যুতের বাড়াবাড়িতে দমে না যায়। স্যার ইংরেজির জাদুকর। ক্লাস শুরু হলে সে জাদুমন্ত্রে সবাই বিভোর হয়ে যায়। তবে সে জাদু স্যার কলেজের ক্লাসে দেখান না। অনির্বাণ নামক মঞ্চ ছাড়া অন্য কোন মঞ্চে তিনি এ জাদু দেখান না। স্যার ইংরেজির জাদু দেখান এমন সময় পকেটে থাকা আজব যন্ত্রটা বেজে ওঠে। হ্যালো, বলার আগেই স্যার বলে ওঠে, এ মাসে সিট খালি নাই সামনের মাসে খবর নিয়েন। ওপাশ থেকে অভাবী এক অভিভাবকের কন্ঠস্বর-স্যার, আমার ছেলেটাকে একটু ব্যাচে নিয়েন।
আমি সামনের মাসের বকেয়া বেতন পেলেই আপনার কোর্স ফি দিয়ে দেব।
স্যার হঠাৎ থেমে যান। অনির্বাণ তো থামবার কথা না। স্যার দ্বিতীয় ব্যাচ পড়ানো শুরু করেন। এ ব্যাচে দুষ্ট দু’জন ছাত্র স্যারকে বড় বেশি জ্বালাতন করে । তারা স্যারকে বলে- স্যার, বিনয় স্যার কোচিং খোলার কথা ভাবছেন। ওখানে নাকি প্রতি ব্যাচে পাঁচ জন আর মাসে পাঁচশত টাকা। স্যার মুচকি হাসে আর ভাবে আমিও পাঁচ জন দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ পঁচিশ জন। আমাকে ধরতে বিনয় বাবুর বিনয় থেকে ‘বি’ বাদ গেলে যা থাকে, মানে নয় বছর লাগবে। বিনয় স্যারের ইংরেজির ম্যাজিক্যাল টিপস্ অনিল স্যার ইনিয়ে বিনিয়ে পড়েন। স্যারের সাদা বোর্ড কালো মার্কার। কলেজের ঠিক বিপরীত, সাদা চক কালো বোর্ড। অনির্বাণ কোচিং তিনি অহেতুক দেননি। এর শিক্ষার উপকরণও তিনি আড়ম্বর করেছেন। তিনি বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য ভাল রকম ব্যবস্থা করেছেন। স্যার সাদা বোর্ডে লিখা সাদা মনের মানুষ। কালো মার্কারের কালো কালি দিয়ে ব্যাচের টাকার হিসাব মেলান। দু’জন বকেয়া মাত্র। স্যার মার্কারের কালি শেষ হলেই বুঝেন আজ তিনি ১,২,৩,৪ নং জঁষবং পড়িয়েছেন। আজ আর নয়। আগামী ক্লাসে বাকি জঁষবং। না হলে কোর্সের সাথে ব্যয়িত ফোর্স সমান হবে না। তিন মাসের কোর্স টানলেও বাড়বে না। স্যার বেশী পড়ান না পাছে বই শেষ হয়ে যায় কোর্সের আগে। স্যার কলেজের একই বইয়ের একই বিষয় পড়ান কিন্তু জাদু দিয়ে পড়ান না, যে কারণে মজা লাগে না ইংরেজি পড়তে। আমি দুই মাস পরে স্যারের ব্যাচে পড়ার বেসিক মজা পেলাম। স্যার পড়াতে পড়াতে পিড়িত হয়ে যান, তবু পড়া বাদ দেন না। স্যারের ঘরে নতুন বউ, নতুন ফ্ল্যাটে উঠার বায়না ধরেছে। স্যারও কম কিসে এবার এইচএসসি পরীক্ষার গড়ফবষ ঞবংঃ নিয়ে টাকা কামানোর গড়ফঁষব বের করেছেন। এতে শুধু পরীক্ষা নেওয়া আর নতুন বউয়ের সাথে গল্প করতে করতে খাতা দেখা। নতুন বউ মাঝে মাঝে বেঁকে যায়; তার বাবার গাড়ির মত অত দামি গাড়ি না হোক, ছয় সিটের এক শীতল গাড়ির জন্য। বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিং দিন দিন সামনে এগুচ্ছে আর এদিকে অনির্বাণ নিভতে শুরু করেছে। বিনয় স্যার বিনয় দিয়ে পড়ান, ছাত্ররা তার ব্যাপক ভক্ত। ইংরেজির জাহাজ তিনি প্রমাণ করেছেন, ইতোমধ্যেই ইংরেজির বই বের করেছেন। স্যার নিজের বই ছাড়া অন্য কোন লেখকের বই ধরেনও না, পড়ানও না। আমি অনিল স্যারের কাছে অনির্বাণ-এ পড়ি। অগ্রসর-এর বন্ধুদেরও খবর রাখি। মাঝে মাঝে অগ্রসর-এর উন্নতির কথা শুনলে অনিল স্যার ব্যথায় নীল হয়ে যান। বিনয় স্যার বছর দুই না যেতেই সাভারে বড় দু’টি প¬ট কিনেছেন। অগ্রসর-এর উন্নতির সাথে সাথে স্যারের আর্থিক উন্নতির অগ্রসরতা বেড়েই চলছে।
রহিম সাহেব ছোট বেতনের ছোট চাকরি করেন। একমাত্র ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন এতেই তাঁর কলিজা ঠান্ডা। ছেলেটি বড়ই মেধাবী তাই এত ভয়। কলেজ পার হলেই অনার্স পড়ানোর বড়ই শখ। ছেলেকে অনার্স পড়াবেন, ঠিক এমনি স্বপ্ন দেখেন স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে। কলেজের অত বড় বড় বই মাঝে মাঝে তিনি নেড়ে চেড়ে দেখেন। কলেজের বেতন বেশি না, যতটা বেশী বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিংয়ের কোর্স ফি। ছেলেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে রহিম সাহেব জান বাজি রেখেছেন। কিন্তু অগ্রসর এর অত টাকা কোর্স ফি দিতে রহিম সাহেবের পা অগ্রসর হয় না। ছেলে একা একা অত বড় বই কীভাবে অনিল স্যারের জাদুমন্ত্র ছাড়া পড়ে, তা ভেবে পান না অভাবী বাবা। ছেলেটা তাঁর আশার আলো, সে আশার আলো যে প্রায় নিভু নিভু। ছেলেটা আমার ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে গত পরীক্ষায়। বিনয় বাবুদের কাছে গেলাম উনাদের কাছে বিনয়ের বালাই নেই। আপনাকে অত করে বললাম আপনার ছেলেটার মাথা ভাল। কিন্তু আপনি বুঝলেন না। ছেলেকে কলেজের পাশাপাশি যে কোচিং করানো লাগে সে কথা আপনারা বুঝতে চান না। এখন ডিজিটাল যুগ, সেকেলে বইপত্র নাকি ছাত্ররা একাই পড়ে বুঝবে? অগ্রসর তো আমি সেই জন্যই দিলাম। রহিম সাহেবও বুঝেন ছেলেকে কোচিং এ পড়ানো দরকার, না হয় ছেলের শিক্ষার আলো কালো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। মনকে প্রবোধ দেন, সামনের মাসেই ছেলেকে কোচিং এ ভর্তি করাবেন। অনিল বাবুদের টাকার অভাব হয় না। কিন্তু রহিম সাহেবদের টাকার অভাবে সংসার চলে না। ছেলেকে মানুষ করতে অমানুষিক কষ্ট করে তাঁরা। কাগুজে ঐ পদার্থটি না হলে শিক্ষার স্বাদ পায় না রহিম সাহেবের মেধাবী ছেলে রুমান। অগ্রসর কোচিং এর কোর্স ফি’র সাথে একই গতিতে অগ্রসর হতে পারে না রহিম সাহেব। রুমানেরও সাধ জাগে অগ্রসর-এ গিয়ে ইংরেজি বিষয়ে ফেল এর অনগ্রসরতা কাটানোর। কিন্তু কোর্স ফি’র ভয়ে অগ্রসর হতে পারে না। অনিল স্যারের জাদুর মাধ্যমে ইংরেজির পড়ার কৌশল তারও শিখতে মন চায়। কিন্তু অনির্বাণ-এর মাসিক বেতনটাই মাসে মাসে দিতে পারে না রুমানরা। অনিল স্যাররা শিক্ষার সুশীল সমাজে অতিশয় সুজন। জ্ঞানের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ তাঁদের উর্বর মস্তিষ্ক। তুলার নরম বিছানায় শুয়ে বিনয় বাবুরা শুধু অগ্রসর এর অগ্রগামীতাই চিন্তা করেন।
কোচিং এ ভর্তি হয়ে কিছুটা ইংরেজি ভীতি কমলো আমার। ফেল মারব না আশা করি। তবে স্যাররা যে কেন এমন হয় আমার মাথায় আসে না!
অনিল স্যারের অনির্বাণ বনাম বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিং:
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নগরী আলোকিত না হলেও, শিক্ষার আলোয় আলোকিত আমাদের এই ঢাকা শহর। মানুষ এখন বড় বেশি শিক্ষা সচেতন। আমার মাতাপিতা পিছিয়ে থাকবে কেন? তারা আমাকে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্বাদ নেওয়ার জন্য তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। আমার খুব শখ কলেজের অনিল স্যারের কাছে ইংরেজি পড়ার। এক ব্যাচে ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর অতটুকুু রূমে জায়গা হয় না- হাজেরা, নাবিলা, সাদিয়া, টুম্পা, বিজয়া, রাবিতা, শিলা, মিলি, হাসিনা, মীম, সাম্মী, অভি, সুকান্ত, বাবুল, অবন্তিদের। মৌমাছির মত গিজগিজ করে রূম। ত্রিশ জন ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাচে সবার একটি করে প্রশ্ন থাকলে, আর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে তিন মিনিট সময় লাগলে নব্বই মিনিট পার হয়ে যায়, অথচ স্যার পড়ান কাঁটায় কাঁটায় এক ঘন্টা বা মিনিট পাঁচেক বেশি। ঘাটতি ২৫/৩০মিনিট স্যার কোনদিনও মেলাতে পারেন না, কারণ আরেকটি ব্যাচ তার দরজায় দন্ডায়মান। স্যার অনির্বাণ কোচিং এর জনপ্রিয় অনিল স্যার। কলেজের অভিভাবক তাকে এক নামে চিনে। রাস্তায় কোন অভিভাবক দেখা হলে সালাম দিতেই স্যার বলেন- আপনার ছেলে কোচিং এ বেশ ভাল করছে, ওর ইংরেজিতে মাথা ভাল। আমার কাছে ছয় মাসের কোর্স শেষ না করে কলেজের বিনয় বাবুর কাছে যেন না যায়। ইদানিং শুনছি উনি নিজেকে ইংরেজির জাহাজ বলে দাবি করেন। গত মাসের বকেয়া বেতনের হালকা আভাস দিয়ে উনি অনির্বাণ-এর দিকে বানবেগে ছুটতে থাকেন। বাবাকে বলে-কয়ে অনিল স্যারের অনির্বাণ-এ বহুকষ্টে দুই মাস পরের ব্যাচে ভর্তি হলাম। দুই মাস আগে কোন ব্যাচ খালি নাই। স্যারের অনির্বাণ যেন অনির্বাণ দীপশিখার মত একবার জ্বলতে শুরু করেছে আর কখনো নিভবে না। স্যার নিজেও অনির্বাণের মত। সেই ভোর ছয়টায় ওঠে চার ব্যাচ পড়িয়ে কলেজের ক্লাসে এসে ক্লান্তি দূর করেন। আর ক্লাস শেষে কলেজের সবুজ মাঠ পার হওয়ার আগেই স্যার সতেজ হয়ে যান। বিদ্যুতের আলো আর শিক্ষার আলো কখনোই অনির্বাণ-এ নিভে না। বিদ্যুৎ ঘন ঘন যায়, এই কারনে স্যার গত মাসের এক ব্যাচের অর্ধেক টাকা দিয়ে একখানা আইপিএস কিনেছেন। যাতে শিক্ষার আলো বিদ্যুতের বাড়াবাড়িতে দমে না যায়। স্যার ইংরেজির জাদুকর। ক্লাস শুরু হলে সে জাদুমন্ত্রে সবাই বিভোর হয়ে যায়। তবে সে জাদু স্যার কলেজের ক্লাসে দেখান না। অনির্বাণ নামক মঞ্চ ছাড়া অন্য কোন মঞ্চে তিনি এ জাদু দেখান না। স্যার ইংরেজির জাদু দেখান এমন সময় পকেটে থাকা আজব যন্ত্রটা বেজে ওঠে। হ্যালো, বলার আগেই স্যার বলে ওঠে, এ মাসে সিট খালি নাই সামনের মাসে খবর নিয়েন। ওপাশ থেকে অভাবী এক অভিভাবকের কন্ঠস্বর-স্যার, আমার ছেলেটাকে একটু ব্যাচে নিয়েন।
আমি সামনের মাসের বকেয়া বেতন পেলেই আপনার কোর্স ফি দিয়ে দেব।
স্যার হঠাৎ থেমে যান। অনির্বাণ তো থামবার কথা না। স্যার দ্বিতীয় ব্যাচ পড়ানো শুরু করেন। এ ব্যাচে দুষ্ট দু’জন ছাত্র স্যারকে বড় বেশি জ্বালাতন করে । তারা স্যারকে বলে- স্যার, বিনয় স্যার কোচিং খোলার কথা ভাবছেন। ওখানে নাকি প্রতি ব্যাচে পাঁচ জন আর মাসে পাঁচশত টাকা। স্যার মুচকি হাসে আর ভাবে আমিও পাঁচ জন দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ পঁচিশ জন। আমাকে ধরতে বিনয় বাবুর বিনয় থেকে ‘বি’ বাদ গেলে যা থাকে, মানে নয় বছর লাগবে। বিনয় স্যারের ইংরেজির ম্যাজিক্যাল টিপস্ অনিল স্যার ইনিয়ে বিনিয়ে পড়েন। স্যারের সাদা বোর্ড কালো মার্কার। কলেজের ঠিক বিপরীত, সাদা চক কালো বোর্ড। অনির্বাণ কোচিং তিনি অহেতুক দেননি। এর শিক্ষার উপকরণও তিনি আড়ম্বর করেছেন। তিনি বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য ভাল রকম ব্যবস্থা করেছেন। স্যার সাদা বোর্ডে লিখা সাদা মনের মানুষ। কালো মার্কারের কালো কালি দিয়ে ব্যাচের টাকার হিসাব মেলান। দু’জন বকেয়া মাত্র। স্যার মার্কারের কালি শেষ হলেই বুঝেন আজ তিনি ১,২,৩,৪ নং জঁষবং পড়িয়েছেন। আজ আর নয়। আগামী ক্লাসে বাকি জঁষবং। না হলে কোর্সের সাথে ব্যয়িত ফোর্স সমান হবে না। তিন মাসের কোর্স টানলেও বাড়বে না। স্যার বেশী পড়ান না পাছে বই শেষ হয়ে যায় কোর্সের আগে। স্যার কলেজের একই বইয়ের একই বিষয় পড়ান কিন্তু জাদু দিয়ে পড়ান না, যে কারণে মজা লাগে না ইংরেজি পড়তে। আমি দুই মাস পরে স্যারের ব্যাচে পড়ার বেসিক মজা পেলাম। স্যার পড়াতে পড়াতে পিড়িত হয়ে যান, তবু পড়া বাদ দেন না। স্যারের ঘরে নতুন বউ, নতুন ফ্ল্যাটে উঠার বায়না ধরেছে। স্যারও কম কিসে এবার এইচএসসি পরীক্ষার গড়ফবষ ঞবংঃ নিয়ে টাকা কামানোর গড়ফঁষব বের করেছেন। এতে শুধু পরীক্ষা নেওয়া আর নতুন বউয়ের সাথে গল্প করতে করতে খাতা দেখা। নতুন বউ মাঝে মাঝে বেঁকে যায়; তার বাবার গাড়ির মত অত দামি গাড়ি না হোক, ছয় সিটের এক শীতল গাড়ির জন্য। বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিং দিন দিন সামনে এগুচ্ছে আর এদিকে অনির্বাণ নিভতে শুরু করেছে। বিনয় স্যার বিনয় দিয়ে পড়ান, ছাত্ররা তার ব্যাপক ভক্ত। ইংরেজির জাহাজ তিনি প্রমাণ করেছেন, ইতোমধ্যেই ইংরেজির বই বের করেছেন। স্যার নিজের বই ছাড়া অন্য কোন লেখকের বই ধরেনও না, পড়ানও না। আমি অনিল স্যারের কাছে অনির্বাণ-এ পড়ি। অগ্রসর-এর বন্ধুদেরও খবর রাখি। মাঝে মাঝে অগ্রসর-এর উন্নতির কথা শুনলে অনিল স্যার ব্যথায় নীল হয়ে যান। বিনয় স্যার বছর দুই না যেতেই সাভারে বড় দু’টি প¬ট কিনেছেন। অগ্রসর-এর উন্নতির সাথে সাথে স্যারের আর্থিক উন্নতির অগ্রসরতা বেড়েই চলছে।
রহিম সাহেব ছোট বেতনের ছোট চাকরি করেন। একমাত্র ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন এতেই তাঁর কলিজা ঠান্ডা। ছেলেটি বড়ই মেধাবী তাই এত ভয়। কলেজ পার হলেই অনার্স পড়ানোর বড়ই শখ। ছেলেকে অনার্স পড়াবেন, ঠিক এমনি স্বপ্ন দেখেন স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে। কলেজের অত বড় বড় বই মাঝে মাঝে তিনি নেড়ে চেড়ে দেখেন। কলেজের বেতন বেশি না, যতটা বেশী বিনয় বাবুর অগ্রসর কোচিংয়ের কোর্স ফি। ছেলেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে রহিম সাহেব জান বাজি রেখেছেন। কিন্তু অগ্রসর এর অত টাকা কোর্স ফি দিতে রহিম সাহেবের পা অগ্রসর হয় না। ছেলে একা একা অত বড় বই কীভাবে অনিল স্যারের জাদুমন্ত্র ছাড়া পড়ে, তা ভেবে পান না অভাবী বাবা। ছেলেটা তাঁর আশার আলো, সে আশার আলো যে প্রায় নিভু নিভু। ছেলেটা আমার ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে গত পরীক্ষায়। বিনয় বাবুদের কাছে গেলাম উনাদের কাছে বিনয়ের বালাই নেই। আপনাকে অত করে বললাম আপনার ছেলেটার মাথা ভাল। কিন্তু আপনি বুঝলেন না। ছেলেকে কলেজের পাশাপাশি যে কোচিং করানো লাগে সে কথা আপনারা বুঝতে চান না। এখন ডিজিটাল যুগ, সেকেলে বইপত্র নাকি ছাত্ররা একাই পড়ে বুঝবে? অগ্রসর তো আমি সেই জন্যই দিলাম। রহিম সাহেবও বুঝেন ছেলেকে কোচিং এ পড়ানো দরকার, না হয় ছেলের শিক্ষার আলো কালো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। মনকে প্রবোধ দেন, সামনের মাসেই ছেলেকে কোচিং এ ভর্তি করাবেন। অনিল বাবুদের টাকার অভাব হয় না। কিন্তু রহিম সাহেবদের টাকার অভাবে সংসার চলে না। ছেলেকে মানুষ করতে অমানুষিক কষ্ট করে তাঁরা। কাগুজে ঐ পদার্থটি না হলে শিক্ষার স্বাদ পায় না রহিম সাহেবের মেধাবী ছেলে রুমান। অগ্রসর কোচিং এর কোর্স ফি’র সাথে একই গতিতে অগ্রসর হতে পারে না রহিম সাহেব। রুমানেরও সাধ জাগে অগ্রসর-এ গিয়ে ইংরেজি বিষয়ে ফেল এর অনগ্রসরতা কাটানোর। কিন্তু কোর্স ফি’র ভয়ে অগ্রসর হতে পারে না। অনিল স্যারের জাদুর মাধ্যমে ইংরেজির পড়ার কৌশল তারও শিখতে মন চায়। কিন্তু অনির্বাণ-এর মাসিক বেতনটাই মাসে মাসে দিতে পারে না রুমানরা। অনিল স্যাররা শিক্ষার সুশীল সমাজে অতিশয় সুজন। জ্ঞানের ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ তাঁদের উর্বর মস্তিষ্ক। তুলার নরম বিছানায় শুয়ে বিনয় বাবুরা শুধু অগ্রসর এর অগ্রগামীতাই চিন্তা করেন।
কোচিং এ ভর্তি হয়ে কিছুটা ইংরেজি ভীতি কমলো আমার। ফেল মারব না আশা করি। তবে স্যাররা যে কেন এমন হয় আমার মাথায় আসে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


